

দেশের পুঁজিবাজারে ‘মার্জিন ঋণ’ বা ‘প্রান্তিক ঋণ সুবিধা’ দীর্ঘ দেড় দশক ধরে এক নীরব ঘাতক বা অর্থনৈতিক ক্যান্সার হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৬ এবং ২০১০ সালের ভয়াবহ পুঁজিবাজার ধসের পেছনে সবচেয়ে বড় ও ধ্বংসাত্মক অনুঘটক ছিল এই অনিয়ন্ত্রিত মার্জিন ঋণ। লাভের আশায় আসা লাখ লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারী এই ঋণের ফাঁদে পড়ে শুধু সর্বস্বান্তই হননি, বরং ঋণের বোঝা সইতে না পেরে অনেকে আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছেন। দেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের সংকট, নীতিগত দুর্বলতা, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এবং উত্তরণের সম্ভাব্য পথ নিয়ে দৈনিক বাণিজ্য প্রতিদিন শুরু করেছে বিশেষ ধারাবাহিক “পুঁজিবাজার: সংকটের শেকড়, উত্তরণের পথ”। আজ প্রকাশিত হলো প্রথম পর্ব। প্রথম পর্বে উঠে এসেছে— ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ক্যান্সার মার্জিন ঋণ: ধ্বংসের মুখে প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী’।
মার্জিন ঋণ কী এবং কেন এটি ‘ক্যান্সার’?
সহজ কথায়, মার্জিন ঋণ হলো শেয়ার কেনার জন্য ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে নেওয়া এক ধরনের সাময়িক ঋণ। ধরা যাক, একজন বিনিয়োগকারীর নিজস্ব ১ লাখ টাকা আছে। ১:১ বা তার বেশি অনুপাতে ঋণ নিয়ে তিনি ২ লাখ বা তার বেশি টাকার শেয়ার কিনতে পারেন।
সমস্যা হলো, বাজার যখন পড়ে যায়, তখন বিনিয়োগকারীর নিজস্ব পুঁজি সবার আগে শূন্য হয়। ২০১০ সালের ধসের সময় নিয়ম ভেঙে বিনিয়োগকারীদের ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি মার্জিন ঋণ দেওয়া হয়েছিল। এরপর বাজার ধসে পড়লে তৈরি হয় ‘নেগেটিভ ইকুইটি’ (ঋণাত্মক ঋণ হিসাব), যা বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি। দেড় দশক ধরে এই অনাদায়ী ঋণ বাজারকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে বলেই অর্থনীতিবিদ ও বাজার সংশ্লিষ্টরা একে ‘ক্যান্সার’ বলে অভিহিত করেন।
পুঁজিবাজারে বর্তমানে মার্জিন ও নেগেটিভ ইক্যুইটির পরিমাণ
বিএসইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ মে পর্যন্ত দেশের পুঁজিবাজারে ডিএসই ও সিএসইর ট্রেকধারী ব্রোকারেজ হাউস এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা মোট মার্জিন ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৪০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৪৬টি প্রতিষ্ঠানের ৩৬ হাজার ৬১০টি বিও হিসাবে ১০ হাজার ৯৭৮ কোটি ৭ লাখ টাকার নেতিবাচক ইক্যুইটি (নেগেটিভ ইক্যুইটি) রয়েছে। এর মধ্যে মূলধনের পরিমাণ ৭ হাজার ৮২০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং সুদ ২ হাজার ৭২৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। বিপরীতে এ খাতে ৩ হাজার ৬৬৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা প্রভিশন রাখা হয়েছে। ফলে প্রভিশন সমন্বয়ের পরও নেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩০৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, ৩০৪টি প্রতিষ্ঠানের অবাস্তবায়িত (Unrealized) লোকসানের পরিমাণ ৪ হাজার ৪২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এর বিপরীতে প্রভিশন রয়েছে ১ হাজার ৯৮৪ কোটি ৯ লাখ টাকা। ফলে এ খাতে এখনও ২ হাজার ৫৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকার প্রভিশন ঘাটতি রয়ে গেছে।
মার্জিন ঋণের প্রধান কুফলসমূহ
ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের নিঃস্বকরণ: মার্জিন ঋণের সবচেয়ে বড় শিকার সাধারণ ও অনভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা। শেয়ারের দাম বাড়লে লাভের অংক যেমন দ্বিগুণ হয়, দাম কমলে লোকসানের গতিও হয় বহুগুণ। বাজারে সামান্য দরপতন হলেই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পুঁজি নিমেষেই উধাও হয়ে যায়।
ফোর্সড সেল (বাধ্যতামূলক শেয়ার বিক্রি) ও কৃত্রিম ধস: যখন কোনো শেয়ারের দাম কমতে কমতে মার্জিন সীমার নিচে নেমে যায়, তখন ব্রোকারেজ হাউসগুলো তাদের ঋণের টাকা তুলতে বিনিয়োগকারীর অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক শেয়ার বিক্রি করে দেয় (Forced Sale)। একসঙ্গে হাজার হাজার অ্যাকাউন্টে ফোর্সড সেল শুরু হলে বাজারে কৃত্রিম প্যানিক তৈরি হয় এবং ভালো শেয়ারের দামও হু হু করে কমতে থাকে।
চক্রবৃদ্ধি সুদের ফাঁদ: মার্জিন ঋণের সুদের হার সাধারণত অনেক বেশি (১২% থেকে ১৮% বা তারও বেশি)। বাজার যখন বছরের পর বছর মন্দা থাকে, তখন শেয়ারের দাম না বাড়লেও এই সুদের হার চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে। ফলে ১ লাখ টাকার ঋণ কয়েক বছরে ২-৩ লাখ টাকায় রূপ নেয়, যা পরিশোধ করা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।
কারসাজিকারীদের হাতিয়ার: বড় কারসাজিকারীরা মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আঁতাত করে কোটি কোটি টাকা মার্জিন ঋণ সুবিধা নেয়। এই টাকা দিয়ে তারা দুর্বল ও জাঙ্ক (জ্বালানিহীন) শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে আকাশচুম্বী করে এবং সর্বোচ্চ দামে তা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে দিয়ে নিজেরা সটকে পড়ে।
কতটি প্রতিষ্ঠান এর জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?
মার্জিন ঋণের এই মরণফাঁদের কারণে পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তথ্যমতে, পুঁজিবাজারে মোট ১১৬টি প্রতিষ্ঠান সরাসরি এই ঋণাত্মক ইক্যুইটির কারণে আর্থিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ৭৫টি ব্রোকারেজ হাউজ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ১২টি ব্রোকারেজ হাউজ এবং ২৯টি মার্চেন্ট ব্যাংক।
মানবিক বিপর্যয়: ঋণের বোঝা ও আত্মহনন
মার্জিন ঋণের সবচেয়ে কালো অধ্যায়টি আর্থিক লোকসানের চেয়েও অনেক বেশি মানবিক। ২০১০ সালের ধসের পর দেশের প্রায় সাড়ে ৬ লাখেরও বেশি বিনিয়োগকারী সরাসরি মার্জিন ঋণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
পারিবারিক ও সামাজিক ধ্বংসযজ্ঞ: পেনশনের টাকা, জমি বিক্রির অর্থ বা স্ত্রীর গহনা বন্ধক রেখে পুঁজিবাজারে আসা মানুষগুলো মার্জিন ঋণের কারণে রাতারাতি দেনাদার হয়ে পড়েন। ব্রোকারেজ হাউস থেকে যখন ঋণের তাগাদা এবং মামলার ভয় দেখানো হয়, তখন সামাজিক মর্যাদাহানি ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে বহু মানুষ হার্ট অ্যাটাক করেছেন।
আত্মহত্যা: ২০১০-১১ সালের পুঁজিবাজার ধসের পর লোকসান, ঋণের চাপ ও মানসিক বিপর্যয়ে একাধিক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর আত্মহত্যা ও মৃত্যুর ঘটনা আলোচনায় আসে। তবে এসব ঘটনার কোনো সরকারি পরিসংখ্যান বা পূর্ণাঙ্গ তালিকা আজও নেই। বিনিয়োগকারী সংগঠনগুলোর দাবি, বাজারে সর্বস্ব হারিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী বিষপান, বিষাক্ত ওষুধ সেবন বা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। ২০১১ সালের ২৪ জানুয়ারি ডিএসই ভবনের সামনে আন্দোলনরত অবস্থায় মোস্তাক আহমেদ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বিনিয়োগকারী সংগঠনগুলো তাঁকে ‘পুঁজিবাজারের প্রথম শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করে। একই বছর চট্টগ্রামের সৈয়দ মহিউদ্দিন আহমেদ (মহসিন) লোকসান ও মার্জিন ঋণের চাপে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন বলে দাবি করা হয়।
এরপর ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি ঢাকার গোপীবাগের কাজী লিয়াকত আলী (জুবরাজ) প্রায় ৭০ লাখ টাকা লোকসান ও ঋণের চাপে আত্মহত্যা করেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি। একই বছরের ১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের দিলদার আহমেদও প্রায় ২৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ ও ১২ লাখ টাকা মার্জিন ঋণের বোঝা নিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে পরিবারের ভাষ্য। এছাড়া একই বছরে ঢাকার সাইফুল ইসলাম (সুমন) ঋণ করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে সর্বস্ব হারানোর পর আত্মহত্যা করেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। এসব ঘটনার পরও ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের আত্মহত্যা বা মানসিক বিপর্যয়ের কোনো জাতীয় তথ্যভান্ডার বা সরকারি হিসাব আজও তৈরি হয়নি।
সমাধানের পথ কোথায়?
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্জিন ঋণজনিত নেগেটিভ ইক্যুইটি দেশের পুঁজিবাজারের অন্যতম বড় কাঠামোগত সংকটে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিএসইসি প্রভিশন সংরক্ষণের সময়সীমা বাড়িয়ে এবং ধাপে ধাপে সংরক্ষণের সুযোগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে এখনও অনেক ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক হাজার হাজার কোটি টাকার নেগেটিভ ইক্যুইটি ও অবাস্তবায়িত লোকসানের বোঝা বহন করছে।
ইতোমধ্যে সরকার মার্জিন ঋণ বিতরণে কঠোর বিধিমালা কার্যকর করেছে। নতুন নিয়মে ন্যূনতম নিজস্ব বিনিয়োগ, বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা ও আয়ের সক্ষমতা ছাড়া মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের নিজস্ব শেয়ারের বিপরীতে মার্জিন ঋণ গ্রহণেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এসব পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বিতরণ কমাতে সহায়ক হবে। তবে অতীতের সৃষ্ট প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার নেগেটিভ ইক্যুইটির বোঝা দূর করতে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এর জন্য সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগ ছাড়া এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা যেতে পারে। এতে উচ্চ সুদের ঋণের চাপ কমবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিন ধরে চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে যাওয়া সুদের একটি অংশ পুনর্গঠন বা মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে মূল ঋণ দীর্ঘমেয়াদে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দিলে নেগেটিভ ইক্যুইটির চাপ অনেকটাই কমবে।
এ ছাড়া ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব মুনাফা, স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের মূলধন কিংবা নতুন ইক্যুইটি সংযোজনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ঘাটতি সমন্বয়ের সুযোগ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কর রেয়াত বা বিশেষ হিসাববিষয়ক সুবিধা বিবেচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অতীতে নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ বিতরণ ও বাজারকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:
বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর ফোরামের সভাপতি এস এম ইকবাল বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও গভীর, স্থিতিশীল, তারল্যপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগবান্ধব করতে প্রস্তাবিত মার্জিন ঋণ নীতিমালায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। একটি বাস্তবভিত্তিক, স্বচ্ছ ও সহজে বাস্তবায়নযোগ্য মার্জিন নীতিমালা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং বাজারের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি গ্রহণের সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটির ঝুঁকি বিবেচনায় সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীর জন্য ঝুঁকিভিত্তিক (রিস্ক-বেইজড) মার্জিন ঋণ সুবিধা চালুরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্সের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ মুসা বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, ‘মার্জিন ঋণ নিজে কোনো সমস্যা নয়, বরং এর অনিয়ন্ত্রিত ও অযৌক্তিক ব্যবহারই বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বড় সংকট তৈরি করেছে। অতীতে পর্যাপ্ত ঝুঁকি মূল্যায়ন ছাড়াই অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বাজারে দরপতনের সময় জোরপূর্বক শেয়ার বিক্রি (ফোর্সড সেল) পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। এতে শুধু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হননি, অনেক ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকও নেগেটিভ ইক্যুইটির ফাঁদে পড়েছে। এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হলে নতুন মার্জিন ঋণ বিধিমালার কঠোর বাস্তবায়নের পাশাপাশি পুরোনো নেগেটিভ ইক্যুইটি পুনর্গঠনের জন্য একটি সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং বিনিয়োগকারীদের আর্থিক শিক্ষার ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে।’
বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ও লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইফতেখার আলম বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা নেগেটিভ ইক্যুইটি শুধু প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতাকেই দুর্বল করেনি, বরং পুরো বাজারের তারল্য ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অতীতে অনিয়ন্ত্রিত মার্জিন ঋণ বিতরণ এবং বাজারের অস্বাভাবিক দরপতনের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও সেই বোঝা বহন করছে।
তিনি বলেন, নতুন কমিশন দায়িয়ত্ব নেওয়ার পরে সম্প্রতি বাজার স্টেকহোল্ডারদের সাথে বসেছে। তারা দীর্ঘ মেয়াদে এর সমাধান করতে চায়। আশা করি পূর্বের মতো অনিয়ন্ত্রিত মার্জিন ঋণ থাকবে না। এর মাধ্যমে সব পক্ষ উপকৃত হবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, “মার্জিন ঋণ একসময় পুঁজিবাজারে লেনদেন ও তারল্য বাড়ানোর একটি কার্যকর উপকরণ ছিল। কিন্তু যথাযথ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে এটি ধীরে ধীরে বাজারের বড় দুর্বলতায় পরিণত হয়েছে। বাজারে অস্বাভাবিক দরপতনের সময় অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ হাজারো বিনিয়োগকারীকে বাধ্যতামূলক শেয়ার বিক্রির মুখে ঠেলে দেয়, যার প্রভাব আজও অনেক ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক এবং বিনিয়োগকারী বহন করছেন।”
তিনি বলেন, “অতীতের নেগেটিভ ইক্যুইটির বোঝা নিয়ে বাজার কখনো স্বাভাবিক গতিতে এগোতে পারবে না। গত মঙ্গলবার সার্বিক বিষয় নিয়ে বিএসইসি, ডিবিএ এবং বিএমবিএ একটি সমাধানের পথে এসেছেন। আশা করি মার্জিন ঋণ বিতরণে ঝুঁকিভিত্তিক নীতি, প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হবে।”
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)-এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন বলেন, মার্জিন ঋণ নিয়ে সবচেয়ে বড় সংকট এখন নতুন ঋণ বিতরণ নয়, বরং ২০১০-১১ সালের ধসের পর থেকে জমে থাকা নেগেটিভ ইক্যুইটি। দীর্ঘদিন ধরে এই বোঝা বহন করতে গিয়ে অনেক ব্রোকারেজ হাউসের মূলধন আটকে গেছে, আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে এবং নতুন বিনিয়োগকারীদের সেবা দেওয়ার সক্ষমতাও কমে এসেছে। এর প্রভাব পড়ছে পুরো পুঁজিবাজারের তারল্য, লেনদেন ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর।
তিনি বলেন, নেগেটিভ ইক্যুইটি কেবল ব্রোকারেজ হাউসগুলোর হিসাবগত সমস্যা নয়; এটি এখন পুরো পুঁজিবাজারের জন্য একটি কাঠামোগত সংকটে পরিণত হয়েছে। নতুন মার্জিন ঋণ বিধিমালা ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হলেও অতীতের দায় নিরসনে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির সমন্বয়ে একটি বাস্তবসম্মত পুনর্গঠন কর্মসূচি প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঋণ পুনর্গঠন, সুদের চাপ কমানো, ব্রোকারেজ হাউসগুলোর আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার, ভালো মৌলভিত্তিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া গেলে বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসবে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, মার্জিন ঋণ নীতিমালার সংশোধিত প্রস্তাবে বিদ্যমান প্রায়োগিক জটিলতা দূর করে বিধানগুলো আরও সহজ ও বাস্তবসম্মত করা হয়েছে। এর ফলে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাপনা বিনিয়োগকারীবান্ধব হবে এবং বাজারে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়বে।
এএ
- ১চা শিল্পে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি
- ২রায়পুরে বিয়েবাড়িতে মাংস ঝাল হওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৩
- ৩মার্কিন সিনেটে ভারত-চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিল পাস
- ৪অসময়ে তরমুজ চাষে কৃষকের দৃষ্টান্ত স্থাপন
- ৫ড্যাবের চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- ৬দেশে চিংড়ি রপ্তানি কমেছে ৬২ শতাংশ
- ৭বাজার মূলধন বেড়েছে ২ হাজার কোটি টাকা
- ৮সাপ্তাহিক দর পতনের শীর্ষে এস আলম কোল্ড রোল্ড
- ৯ভরিতে ফের ৪৩৭৪ টাকা বাড়লো সোনার দাম
- ১০সাপ্তাহিক গেইনারের শীর্ষে ফারইস্ট ফাইন্যান্স
- ১চাঁদপুরে ফুটবল মাঠ উদ্বোধন করলেন শেখ ফরিদ আহম্মেদ
- ২চাঁদপুরে একযোগে বদলি ৩১ ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা
- ৩মানুষ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারবে এমন বিচার বিভাগ চাই: আইনমন্ত্রী
- ৪আগামী রবিবার মহেশখালী আসছেন প্রধানমন্ত্রী
- ৫সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ, অপ-সাংবাদিকতা পরিহার করতে হবে
- ৬গাজীপুরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল সমাবেশ
- ৭জবির লোক প্রশাসন বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন
- ৮১৫ আগস্ট ৭৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর হাতে অবসর সুবিধার টাকা
- ৯ব্লু ইকোনমি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে
- ১০বাকৃবিতে শুরু হচ্ছে বিএসভিইআরের আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন





পাঠকের মতামত