বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১:৪১ পিএম , আপডেট: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১:৪৬ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সংঘর্ষের ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের (২০২৬–২৭) নির্বাচিত অর্থ সম্পাদক ও দৈনিক আজকালের খবরের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি কামরুজ্জামান কায়েস। জবি শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হামলা, হুমকি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ এনে তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।

কায়েস বলেন, “আমার দোষ ছিল সংবাদ সংগ্রহ করা। কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে নয়, একজন সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই হামলার শিকার হয়েছি।” তিনি জানান, গলায় প্রেসকার্ড থাকা সত্ত্বেও তাকে মারধর করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ছাত্রলীগের হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন এবং সেই আঘাতের চিকিৎসা এখনও চলমান বলে উল্লেখ করেন।

পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার সংবাদ সংগ্রহের সময় তাকে ডেকে নিয়ে যান। পরে মাহমুদ, রবিন মিয়া শাওন, শিহাব, মুশফিকুর রাইনসহ আরও ২০–২৫ জন তাকে মারধর করেন। এতে তার মাথা, চোখ ও নাকে গুরুতর আঘাত লাগে, চশমা ভেঙে যায় এবং তার মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তাকে সংবাদ প্রকাশ না করার হুমকি দেন।

তার ভাষ্য, ওই সময় মোবাইলের ক্যামেরা চালু থাকায় পুরো ঘটনাটি ভিডিওতে ধারণ হয়েছে।

কায়েস আরও দাবি করেন, হামলার স্থান রফিক ভবন ও উপাচার্য ভবনের মধ্যবর্তী এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। পাশাপাশি তার নিজের মোবাইলে ধারণ করা প্রায় ৪০ মিনিটের ভিডিও ফুটেজেও ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংরক্ষিত আছে।

হামলার পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহায়তায় তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার এবং পরে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবারও হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসকরা মাথায় আঘাতের কারণে সিটি স্ক্যান করিয়ে দ্রুত নিউরোসার্জনের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

পোস্টে কায়েস বলেন, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ট্রেজারার, প্রক্টর, পরিবহন প্রশাসক ও শিক্ষক সমিতির নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তার খোঁজ নেন। প্রশাসনের সহায়তায় তার মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হলেও পাওয়ার ব্যাংকটি এখনও উদ্ধার হয়নি।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক কামরুজ্জামান কায়েস বলেন, তিনি শুধু নিজের ওপর নয়, ওই দিনের ঘটনায় আহত সব শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকের ওপর হামলারও সুষ্ঠু বিচার চান। তিনি বলেন, “আমি সব ঘটনার বিচার চাই। সাংবাদিকদের ওপর হওয়া প্রতিটি হামলার বিচার চাই। প্রয়োজন হলে বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি দেখে আমার কাছে থাকা সব ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করব।”

টিআর

শেয়ার

পাঠকের মতামত

ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে ছাত্রদলের পিঠের চামড়া তুলে ফেলবো: শিবির সভাপতি ইবি শাখা

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইউসুব আলী বলেছেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ...

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে। বুধবার (৫ ...

কুবিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে ‘দায়সারা’ আয়োজনের অভিযোগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আয়োজিত কর্মসূচি নিয়ে দায়সারাভাবের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। ...

ইউজিসি চেয়ারম্যান ৩য় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে চীনা ভাষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ...

জবিতে ছাত্রদল শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আয়োজিত আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও পুরস্কার ...

জবিতে ছাত্রদলের হামলায় শিবির, ছাত্রশক্তিসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী আহত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় ইসলামী ছাত্রশিবির, ...