জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬ ১০:৪৯ এএম , আপডেট: জুন ১৬, ২০২৬ ১০:৫০ এএম

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম হাফেজ আব্বাসকে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী। তবে মামলার বাদীপক্ষ অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, জিন্নাগড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খোরশেদ মাঝির সঙ্গে তার দূর সম্পর্কীয় আত্মীয় ও প্রতিবেশী আবুল কালামের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি খোরশেদ মাঝির ছেলে ও স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম হাফেজ আব্বাসের বিরুদ্ধে আবুল কালামের মেয়ের করা নারী নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়।

এ মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে সোমবার সকাল ১১টার দিকে জিন্নাগড় ইউনিয়নের দারোগার ট্যাক এলাকায় স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও হয়রানির উদ্দেশ্যে ১৯ বছর বয়সী হাফেজ আব্বাসকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনার সময় হাফেজ আব্বাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

হাফেজ আব্বাসের পিতা খোরশেদ মাঝি বলেন, “আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই মাদ্রাসায় থেকে হিফজ সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে পাশের উপজেলায় একটি মসজিদে ইমামতি করে। তার বয়স মাত্র ১৯ বছর। জমি বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ আমার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমার মালিকানাধীন ও রেকর্ডভুক্ত ২৬ শতাংশ জমি তারা জোরপূর্বক দখলে রেখেছে। সেই বিরোধের কারণেই আমার ছেলেকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।”

অন্যদিকে মামলার বাদীপক্ষ আবুল কালামের স্ত্রী ও তার কন্যা অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছেন। তাদের ভাষ্য, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও ঘটনার সঙ্গে হাফেজ আব্বাসের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থেই তারা মামলা করেছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, জমি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ বিদ্যমান। বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চরফ্যাশন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল কামাল বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ভিকটিমের মেডিকেল সার্টিফিকেট চাওয়া হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এনজে

শেয়ার

পাঠকের মতামত

রাজনগরে যাবজ্জীবন সাজা ও একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারের রাজনগর থানা পুলিশের অভিযানে ডাকাতি মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তসহ একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি টোকন ওরফে ...

দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, ফেরত পাঠালো বিজিবি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আটজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে। তবে বর্ডার ...

লক্ষ্মীপুরে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব আলাদাদপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, ...

চট্টগ্রামে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তারের পর এনসিপি নেতাকে স্থায়ী বহিষ্কার

ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তারের একদিনের মাথায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সদস্য মো. আফতাব ...

সাতক্ষীরায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তররে বাজার তদারকি অভিযান

সাতক্ষীরায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তররে বাজার তদারকি অভিযানে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ...