নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬ ৪:৫৬ পিএম

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার তরমুজ চাষীরা ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। মৌসুম শেষে লাভবান হওয়ার আশায় তারা পুরোদমে কাজ করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, জমিতে তরমুজের চারা মাটি ফুড়ে বের হচ্ছে, আবার কোনো জমিতে চারা বাড়তে শুরু করেছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধান চাষের তুলনায় তরমুজ চাষে লাভের সম্ভাবনা বেশি। ধান ঘরে তুলতে প্রায় পাঁচ মাস সময় লাগে এবং বিঘা প্রতি সর্বোচ্চ ৯ হাজার টাকার লাভ হয়। বিপরীতে তরমুজের বীজ রোপণ থেকে তরমুজ সংগ্রহ পর্যন্ত সময় লাগে সর্বোচ্চ আড়াই মাস এবং বিঘা প্রতি খরচ ২০–২৫ হাজার টাকা হলেও বিক্রি থেকে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার পর্যন্ত আয় সম্ভব বলেও তারা জানান।

কয়রা উপজেলা কৃষি দপ্তরের দেয়া তথ্যানুযায়ী “কয়রা উপজেলায় এবছর মোট ৫ টি ইউনিয়নে ২৬০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হচ্ছে। যথা-আমাদী ইউনিয়নে ১২২২ হেক্টর, বাগালী ইউনিয়নে ৫৭১ ও মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে ৮০০ হেক্টর, কয়র ইউনিয়নে ৭ হেক্টর ও উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নে ০.৩ হেক্টর। ২০২৫ সালে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নে তরমুজ চাষ শুরু হলেও ফলন ভাল না হওয়ায় এবার কেউ তরমুজের চাষ করেনি।

কৃষি অফিসের দেয়া তথ্যমতে, “২০১৭-১৮ অর্তবছরে তরমুজের চাষ শুরু হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে তূলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে এবছর সেই রেকর্ড হ্রাস পেয়ে চলতি বছরে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা দাড়িয়েছে ২৬০০ হেক্টর যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে সর্বনিম্ন হয়েছে যেখানে ২০২৫ সালে তরমুজ চাষ হয়েছিল ৪০৫০ হেক্টর জমিতে”। তরমুজ চাষের জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে বলেন, গতবছর কৃষকরা তরমুজ চাষ করে পর্যাপ্ত দাম না পাওয়ায় লোকসানের সম্মুখিন হয়। যার ফলে এবছর অনেকেই তরমুজ চাষ করেননি বা করলেও অল্প জমিতে করেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিলক কুমার ঘোষ বলেন, “পর্যাপ্ত সেচ ব্যবস্থা ও পানি সংকটের কারণে আমন মৌসূমের পরে উপজেলার অধিকাংশ কৃষি জমি পতিত থাকে পরবর্তী বর্ষাকাল না আসা পর্যন্ত। ফলে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হয়ে থাকেন। তাই বিগত কয়েক বছর যাবৎ এলাকার কৃষকরা পতিত কৃষি জমিতে তরমুজ চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়ে অধিক লাভবান হওয়ার আশায় এবং সেটাতে সম্ভবও হয়েছে এবং আমরা কৃষি প্রণোদনা ছাড়া কৃষি উপকরণ, সার ও কীটনাশক বিতরণ এবং কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শমূলক সহযোগিতা অব্যহত রেখেছি কৃষকদের জন্য যাতে করে তারা ক্ষতির সম্মুখিন না হন”।

কৃষকরা কোন ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, “মোটাদাগে কোন সমস্যা কৃষকরা মোকাবিলা করছে না তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে ডিজেল সংকটের প্রাপ্যতা ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে ভারি বৃষ্টি হলে ফসলী জমির ক্ষতি সাধণের আশংকা রয়েছে কৃষকদের মধ্যে”।

ভোক্তাদের চাহিদার যোগান দেওয়ার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল/মোকাম থেকে প্রতিবছর কয়রার তরমুজ নিতে আসেন ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কয়রার তরমুজ চাষ ব্যাপক ভূমিকা রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা সমাজের সচেতন নাগরীকদের।

তাছাড়া আবহাওয়া ও সেচের সুবিধার কারণে বিগত বছরের তূলনায় এবার ফলন বেশি হবে আশা করা যায়। উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকরা এখন সবুজ চারা দেখতে ও পরিচর্যায় ব্যস্ত, তবে আশাবাদী যে দ্রুত ফসল ঘরে তুলে লাভবান হবেন।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

নবীনগরে সরকারি পুকুরপাড়ের লিজ নিয়ে বিতর্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আদালত পুকুরপাড়ের সরকারি জায়গা লিজ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ...

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিসিএসের স্বপ্নে প্রিয়ন্তী

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও আর্থিক সংকটকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলেছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভার উত্তর মাগুরা এলাকার ...