রায়হানুল ইসলাম আকন্দ
প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬ ৩:২০ পিএম

ঈদের বাকি আছে আরও কিছুদিন। এরই মধ্যে ভিড় বেড়ে গেছে বিপণিবিতানগুলোতে। পোশাকের পাশাপাশি নানান কিছুর কেনাকাটা চলছে। গাজীপুরের ফুটপাতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ঈদের নতুন পোশাকসহ প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। ঈদকে ঘিরে সকাল থেকে রাত অবধি ফুটপাতে বেচাকেনা হচ্ছে। দামে সাশ্রয়ী এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে থাকায় অনেকেই ফুটপাতে কেনাকাটায় আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ফুটপাতের পাশাপাশি বিপণিবিতান ও শপিং মলগুলোতে উপচে ভিড় ছিল।

গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিকেল ১০টা পর্যন্ত এ চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গাজীপুর মহানগীর ছাঈদ ভবন, বিউটি প্লাজা, তানভীর প্লাজা, আহমদ আলী টাওয়ার, সিয়াম টাওয়ার, আমীর কমপ্লেক্স, শহীদ স্মৃতি স্কুল মার্কেট, চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার রহমান শপিং মল, শাপলা ম্যানশন, বাগদাদ তানজিয়া টাওয়ার, শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা ইয়াকুব আলী মাস্টার টাওয়ার, কিতাব আলী প্লাজা, মালেক মাস্টার টাওয়ার, ভাই ভাই সুপার মার্কেট, আব্দুল বাতেন হকার্স মার্কেট, শহীদুল্লাহ শহীদ হকার্স মার্কেট, কেন্দ্রীয় মসজিদ মার্কেট, শ্রীপুর পৌরসভার বনলতা সুপার মার্কেট, খান সুপার মার্কেট, কলেজ রোড এলাকার রনি ফ্যাশন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘের বাজার, গড়গড়িয়া মাষ্টারবাড়ী, মাওনা চৌরাস্তা, এমসি বাজার, নয়নপুর, জৈনা বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতগুলোতে ঈদের পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন হকাররা। ফুটপাতের দোকানগুলোতে ছেলে-মেয়েদের রেডিমেড থ্রি-পিছ, টু-পিছ, ফ্রগ, জুতা, হাতব্যাগ, ওড়না, কসমেটিকস, চুড়িসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি ফুটপাতগুলোতে কেনাকাটা হচ্ছে। শিশু, নারী-পুরুষসহ সব শ্রেণির মানুষ কেনাকাটা করতে ফুটপাতে ভিড় করছেন।

ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তায় ফুটপাতে কেনাকাটা করতে এসেছেন গৃহিণী ফারজানা আক্তার। পোশাককর্মী স্বামীর সাথে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন নাওজাড় এলাকায়। ফুটপাতের দোকান থেকে ছেলে ও মেয়ের জন্য রেডিমেড প্যান্ট-শার্ট এবং থ্রি-পিছ কিনেছেন। ফারজানা আক্তার বলেন, সংসার খরচ সামলিয়ে ঈদের কেনাকাটা করা আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তবুও কম বাজেটের মধ্যে কেনাকাটায় আমাদের ফুটপাতই ভরসা। প্রতি বছর ফুটপাত থেকে ঈদের কেনাকাটা করি। ঈদে নতুন পোশাক কিনে দেওয়ায় ছেলে ও মেয়েরাও অনেক খুশি।

অপর ক্রেতা সুইটি আক্তার তাঁর মেয়ের জন্য জামা কিনতে এসেছেন। দামাদামি করে ফুটপাত থেকে ১২’শ টাকা দিয়ে জামা কিনেছেন তিনি। তিনি বলেন, বিপণিবিতানগুলোতে বাড়তি দামের কারণে অনেকের পক্ষে সেখান থেকে কেনাকাটা করা সম্ভব হয় না। রোজায় এমনিতেই সংসার খরচ বেড়েছে। কোনোমতে ঈদটাকে পার করা। আর ফুটপাতে পোশাকের দামও কম।

শহরের জয়দেবপুর বাজারের ছাঈদ মার্কেটের সামনে ফুটপাতে জুতা বিক্রি করছেন জসিম উদ্দিন। শিশু ও বড়দের সব ধরনের জুতা বিক্রি করেন তিনি। লেডিস স্লিপার, শর্ট হিল, মিডিয়াম হিল, বুস্টনসহ বিভিন্ন ধরনের জুতা বিক্রি করেন তিনি। প্রতি জোড়া জুতা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, ঈদের বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। প্রচুর ক্রেতার ভিড় আছে। তবে দামাদামি করছেন ক্রেতারা।

শ্রীপুরের শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচতি মাওনা চৌরাস্তা আব্দুল বাতেন হকার্স মার্কেটে দোকান রয়েছে প্রায় চার’শ। সেখানে ছেলেদের টি-শার্ট, বিভিন্ন ব্যান্ডের প্যান্ট, পায়জামা-পাঞ্জাবি, ফতুয়া, পলো শার্ট, মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের জামা, শিশুদের শার্ট, প্যান্ট, জুতাসহ বিভিন্ন ধরনের আইটেম বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, শুক্র ও শনিবার দুইদিন বন্ধের দিন থাকায় ঈদে বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। দামে সস্তা থাকায় অনেকেই পোশাক কিনতে হকার্স মার্কেটে ভিড় করেন। সকাল থেকে মধ্য রাত ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত তাদের এরকম বেচাকেনা থাকবে বলে আশা করছেন।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা এলাকার বাসিন্দা হকার দেলোয়ার হোসেন শিশুদের হাতব্যাগ ও পার্স ব্যাগ বিক্রি করেন। প্রতিটি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেন। ঢাকার চকবাজার থেকে এসব পণ্য কিনে এনেছেন। তিনি বলেন, এবারের ঈদে ব্যবসার জন্য সুদে ৫০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়েছেন। আরো পাঁচদিন আগে থেকেই বিক্রি ভালো হচ্ছে।

পেশায় পোশাক শ্রমিক ক্রেতা মেহেদী হাসান বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার সব ধরনের পোশাকের দাম বেশি। এ জন্য তাঁদের ঈদ বাজেটে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তবে দাম বেশি প্রসঙ্গে দোকানি আজহার হোসেন বলেন, পোশাকসহ সব ধরনের পণ্যের উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় পাইকারিভাবে তাঁদেরকে বেশি দামে কিনতে হয়েছে। তাই পোশাকপ্রতি গত বছরের তুলনায় ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা বেড়েছে। তবুও মানুষ ফুটপাত থেকে সাশ্রয়ী দামে পোশাক কিনতে পারছেনএ

শ্রীপুরের বরমীর কায়েতপাড়া গ্রামের মাটিকাটা শ্রমিক ইব্রাহিম মিয়া মেয়ের জন্য ঈদের পোশাক কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসা এই ফুটপাতই। মার্কেটে ঢুকতে সাহস পাই না। ফুটপাত থেকে ভালো দেখে কেনার চেষ্টা করছি। মার্কেট থেকে কিছুটা কম দামে পাওয়া যায় এখানে।

মা মারিয়া আক্তারের সাথে নতুন জামা কিনতে এসেসে দুই বোন ইরিন এবং ঈলমা। তারা বলেন, ঈদ সবার জন্যই আনন্দের। প্রতি বছর ঈদে নতুন কাপড় কিনতে আসা এক ভিন্ন অনুভূতি দেয়। বাজারে অনেক সুন্দর সুন্দর পোশাক এসেছে। তাই নিজেদের পছন্দমতো কাপড় কিনতে এসছি। আশা করছি বাজেটের মধ্যেই কাপড় কিনতে পারব। নতুন জামা পড়ে আনন্দ ও উৎসবের মাধ্যমে ঈদের দিনটি উদযাপন করবো।

আরেক ক্রেতা মাহবুবা আক্তার স্বপ্না বলেন, সাদ এবং সারা দুই বাচ্চার জন্য কেনাকাটা করেছি। আমিও একটি শাড়ী কিনেছি, বাচ্চাদের জন্য প্যান্ট-শার্ট ও থ্রি-পিস নিয়েছি। গত বছরের তুলনায় এবার দাম মোটামুটি ভালোই পেয়েছি। তবে, কিছুটা দরদাম করেই কিনতে হয়েছে। নতুন পোশাক পরে পরিবারের সবাই মিলে আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারবো।

বাবার সাথে ঈদের কেনাকাটা করতে মার্কেটে এসেছে রিফান। সে জানায়, আজ আমি আমার বাবার সঙ্গে মার্কেটে এসেছি ঈদের কেনাকাটা করতে। প্রথমেই আমার জন্য একটি প্যান্ট-শার্ট কিনেছি। এখন আমরা বাবার জন্যও কিছু কেনাকাটা করছি। পরিবার নিয়ে একসঙ্গে মার্কেটে এসে খুবই ভালো লাগছে। সবাই মিলে কেনাকাটা করার আনন্দটাই আলাদা। আশা করছি, এবার ঈদটা আমরা পরিবারের সবাই মিলে অনেক আনন্দে উদযাপন করতে পারব।

মাওনা চৌরাস্তা ইয়াকুব আলী মাস্টার টাওয়ারের গাউছিয়া ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী সেলিম শেখ বলেন, এবার আমার দোকানে লেডিস আইটেমই বেশি বিক্রি হচ্ছে। আমি সবসময় নতুন নতুন লেডিস কালেকশন আনার চেষ্টা করি, যাতে ক্রেতারা পছন্দমতো পণ্য বেছে নিতে পারেন। নিম্ন আয়ের ক্রেতা থেকে শুরু করে উচ্চ আয়ের ক্রেতাও দোকানে কেনাকাটা করেন। আমরা সীমিত লাভ রেখে পণ্য বিক্রি করার চেষ্টা করি। আলহামদুলিল্লাহ, গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রিও ভালো হচ্ছে। আশা করছি ঈদের আগেরদিন চাঁদরাত পর্যন্ত এমন ভিড় থাকবে।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

পাথরঘাটায় খালের পাড়ে জলবায়ু-সহনশীল ৭৫০০ বৃক্ষরোপণ

বরগুনার পাথরঘাটায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ...