জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬ ৪:৫১ পিএম

শরীয়তপুরের জাজিরায় চাঁদাবাজি, লুটপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সুরুজ মাদবর এবং তাঁর ছেলে স্বাধীন মাদবরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট দিপু মিয়া।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তারের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন সুরুজ মাদবর ও স্বাধীন মাদবর। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা ছোবহান মাদবরের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন সুরুজ মাদবর ও তাঁর ছেলে স্বাধীন মাদবর।

অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের ২ ডিসেম্বর রাতে কাজীরহাট এলাকায় অবস্থিত ছোবহান মাদবরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। এ সময় দোকানের মালামাল লুট, নগদ অর্থ আত্মসাৎ এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়। পরবর্তীতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় গত বছরের ১২ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ছোবহান মাদবর। মামলার তদন্ত ও শুনানি শেষে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত সুরুজ মাদবর ও স্বাধীন মাদবরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার বাদী ছোবহান মাদবর বলেন, “আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রতিষ্ঠানটি দখল করে নেওয়া হয়। ন্যায়বিচারের আশায় আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।”

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট দিপু মিয়া বলেন, “মামলার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আদালত সবকিছু বিবেচনা করে বিবাদীদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আশা করি, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাদী ন্যায়বিচার পাবেন।”

এদিকে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও দীর্ঘদিন সুরুজ মাদবর ও স্বাধীন মাদবর প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। পরে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তাঁরা হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হলে মঙ্গলবার জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিন আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত তাঁদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চলমান থাকবে।

টিআর

শেয়ার

পাঠকের মতামত

পারিবারিক বিরোধের জেরে তায়েবাকে হত্যার অভিযোগ, ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে আলোচিত শিশু তায়েবা হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পর মামলার তদন্তে চাঞ্চল্যকর ...

সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা

দুর্নীতি বিরোধী শপথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে নতুন সূর্য শিখা জ্বলবেই এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণসচেতনতা সৃষ্টি ...