
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা বাঁধের কাঁচকোল এলাকায় আবারও ধস দেখা দিয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এ নিয়ে বাঁধটির প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০ মিটার এলাকায় ধসের ঘটনায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের সরকটারী এলাকায় প্রায় ৬০ মিটার সিসি ব্লক ধসে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্রের তীব্র স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, হঠাৎ করেই বাঁধের ব্লক ধসে পড়ে। বিষয়টি জানানো হলে রাতেই পাউবোর কর্মীরা এসে জিও ব্যাগ ফেলতে শুরু করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, উত্তর ওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কাঁচকোল বড়ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বসতভিটা, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো হুমকির মুখে পড়বে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন, বাঁধের ওপর দিয়ে বালুভর্তি ভারী ডাম্পার চলাচল এবং বিভিন্ন স্থানে বাঁধ কেটে সংযোগ সড়ক নির্মাণের ফলে তীররক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্ষায় নদীর স্রোত বাড়লেই একই স্থানে বারবার ধস দেখা দিচ্ছে।
কাঁচকোল এলাকার বাসিন্দা খতিব উদ্দিন বলেন, তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু অবৈধ বালু উত্তোলন ও ভারী যান চলাচলের কারণে এখন আবার ভাঙনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে তারা নিঃস্ব হয়ে যাবেন।
রিভারাইন পিপলের পরিচালক অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ভারী যান চলাচল ধসের অন্যতম কারণ হতে পারে। জিও ব্যাগ ফেলার পাশাপাশি বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ২০১৬ সালে চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষায় প্রায় চার কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে তিনটি স্থানে প্রায় ১০০ মিটার এবং বৃহস্পতিবার আরও ৬০ মিটার এলাকায় ধস দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ৪০০টি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি আরও ১২ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। দ্রুত সেগুলো ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধু জরুরি মেরামতেই সীমাবদ্ধ নেই। স্থায়ীভাবে তীররক্ষা বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রকৌশলগতভাবে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বাঁধের ওপর ভারী যান চলাচল, অবৈধ বালু উত্তোলন ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত করে—এমন কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করা হবে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া নদীভাঙন প্রতিরোধের এই কাজ সফল করা সম্ভব নয়।
বিএইচ
- ১চলতি অর্থবছরে ৫০ আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ
- ২সব পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর
- ৩সরকারের প্রতিজ্ঞা ভাঙ্গার কারণে সবকিছু হতাশায় পরিণত হয়েছে
- ৪নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টি ও ব্যবসার সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার
- ৫নামজারিতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি: আব্দুল মান্নান
- ৬জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রধান কারিগর যাদু মিয়া : তথ্যমন্ত্রী
- ৭মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক
- ৮কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
- ৯বিনা চিকিৎসায় কেউ মারা যাবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- ১০যানজট নিরসনে নবীনগর বাজারে উচ্ছেদ অভিযান, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
- ১‘লুটপাটে সহায়তাকারী’ আইএফআইসির এমডি মনসুর মোস্তফা বহাল তবিয়তে
- ২ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে যা বললেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম
- ৩চাঁদপুরে নিজ বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে বাড়ির মালিকের মৃত্যু
- ৪শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরল কমিটির হাতে
- ৫নবীনগরে সরকারি পুকুরপাড়ের লিজ নিয়ে বিতর্ক
- ৬পাথরঘাটায় তরুণী নিখোঁজ
- ৭ময়মনসিংহে ট্রাক চাপায় নারীসহ অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত
- ৮শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিসিএসের স্বপ্নে প্রিয়ন্তী
- ৯সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত মুজিবুরের পরিবারকে সরকারি সহায়তা
- ১০কয়রায় চরম ঝুঁকি নিয়ে চলছে ৪ হাজার মানুষের চলাচল





পাঠকের মতামত