
জনগণের অধিকার আদায়ে একচুলও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনি সহিংসতায় আহতদের দেখতে এসে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার লঙ্ঘন করেছে সরকার। ফলে জনগণের অধিকার আদায়ে একচুলও ছাড় নয়। সংসদের ভিতরে ও বাইরে প্রতিবাদ জারি রাখা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৬ ফুলবাড়িয়া জামায়াত থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মু. কামরুল হাসান মিলন, জেলা জামায়াতে আমির আবদুল করিম, মহানগর জামায়াতে আমির কামরুল এহসান এমরুলসহ জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
জামায়াতের আমিরর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদের শেরপুর এবং বগুড়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই দুই জায়গায় আমরা আশা করেছিলাম বিগত নির্বাচন যেভাবেই হোক, এখন একটা সরকার হয়েছে। আমরা কেউ বসেছি সরকারি দলে, কেউ বসেছি বিরোধী দলে।
এখন দেশটা সুন্দরভাবে এগিয়ে যাক, কিন্তু এ দুটি নির্বাচনেও ব্যাপক অনিয়ম, বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি, সহিংসতা এবং ক্ষেত্র বিশেষে শুধু সহিংসতা না, ভয়াবহ সন্ত্রাসে রূপ নিয়েছে।
এরকমই একটা বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে শেরপুর-৩ আসনে।
এর আগেও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, তার আগেও সহিংসতায় জামায়াতের ইসলামীর সেক্রেটারি মৌলানা রেজাউল করিমকে খুন করা হয়। তার সাথে আরো তিনজনকে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়।
আমির বলেন, শেরপুর-৩ আসনে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী এবং অব্যবস্থাপনার চিত্রই বলে দেয় জনগণের স্বাস্থ্য সেবার প্রতি অবিচার করছে সরকার।
তিনি বলেন, জুলাইয়ে এতো রক্ত দেওয়ার পরও রাজনীতিতে কেন এতো সহিংসতা? সংসদে টাকা খরচ করে অশ্লীল বাক্যালাপ প্রত্যাশিত না।
মানুষ খুন করে যদি পার্লামেন্টে যাওয়া হয়, তবে তাদের কাছ থেকে কি আশা করা যায়।
তারা এখনো চিকিৎসাধীন, এখনো আশঙ্কামুক্ত হননি। যিনি ঐ এলাকায় জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন, তিনি ভোটের আগেই ইন্তেকাল করেছেন। যার কারনে ভোট স্থগিত হয়। এই স্থগিত নির্বাচনেও একজন মানুষ আগে মারা গেছে এবং একজন বয়স্ক মানুষকে মাথায় কোপ দেওয়া হয়েছে।
তিনি সংঙ্কাহীন ছিলেন, আজকে দেখলাম তার জ্ঞান ফিরেছে। আমরা দোয়া করি আল্লাহতায়ালা তাকে সুস্থতা ও নিয়ামত দান করুন।
জামায়াতের আমির বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতীতেও সন্ত্রাস-হানাহানি, বিশৃঙ্খলা ছিল। কিন্তু জুলাইয়ে এতো লোক প্রাণ দিলাম, আর কেন রক্ত দিতে হবে? আমরাতো আশা করেছিলাম যে, রক্ত দেওয়াটা ওখানেই শেষ হবে।
রাজনীতির ময়দানে সুস্থতা ফিরে আসবে। রাজনীতি হবে ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতীক। আমার আদর্শ আমার কাছে। আমি যেমন আমার আদর্শকে ভালোবাসি, আরেকটা লোক তার অধিকারকে ভালোবাসবে।
এটা তার নাগরিক অধিকার। এখানে মুখ চলবে হাত চলবে কেন? মুখ চলবে ভদ্রভাবে, সংসদে প্রথম অধিবেশনেই আমরা বলেছিলাম, এই সংসদ একটা উদাহরণ হবে। অতীতে এই সংসদে জনগণের কল্যাণের চেয়ে চরিত্র হননের সময় ব্যয় হয়েছে বেশী।
কাদের টাকায় ক্ষমতায় বসে? জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে। প্রতি মুহূর্তে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা খরচ হয়। এটা কোন মামুলি কথা নয়। এই টাকা খরচ করতে আমাদের কলিজা কাঁপবে না? জনগণের টাকা সদ্ব্যবহার করার জন্য জনগণ ৩০০ আসনে আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে।
সেখানে বসে অশ্লীল বাক্য বিনিময় করবো, অযথা সময় কাটাবো এবং জনকল্যাণ কোন আইন পাশ করতে গেলে বাঁধা পাবো, এটা আমাদের কাম্য না। জনকল্যাণে যে আইনই হবে, সে আইনের প্রতি উভয় পক্ষের শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, যারা সংসদে যাবেন তারা যদি মানুষ খুন করে সংসদে যান, তারা দেশবাসীর জন্য কি করবেন? মানুষের জীবন নিয়ে আমাকে সংসদে যেতে হবে কেনো? আমি যাবো মানুষের জীবন-সম্পদ এবং ইজ্জতের পাহারাদার হতে।
সেই আমার কাছেই যদি জীবন চলে যায়, ইজ্জতও চলে যায়, আমার সম্পদও ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলেতো আমি এই সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা রাখি না। আমি অযোগ্য। আমরা আশা করবো, আহ্বান জানাবো, ভবিষ্যতে আরো বহু নির্বাচন হবে।
গণতান্ত্রিক একটা দেশে তার কাঠামো নির্বাচনের উপর নির্ভরশীল। নির্বাচনে আর যেন কোনো সহিংসতা না হয়, আর কারো মায়ের বুক খালি না হয়, আর কোনো বোন যেন বিধবা না হয়, আর কোনো সন্তান যেন এতিম না হয়। আমরা চাইবো আদর্শের লড়াই হোক। হাতের লড়াই নয়, অস্ত্রের লড়াই নয়।
ইএটি
- ১মে মাসে ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় ধাক্কা
- ২চাঁদপুরে এক কালভার্ট বদলে দেবে ৮ গ্রামের মানুষের জীবন
- ৩আসছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, ৮২ লাখ মাদকাসক্তকে রক্ষায় আইনি সংস্কার
- ৪ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্যে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে
- ৫হুমকির মুখে ১২০০ বিঘা আমন আবাদ, ঝুঁকিতে মাছ চাষ
- ৬পায়ে শিকল বাঁধা সেই নারী ফিরলেন স্বজনদের কাছে
- ৭কুড়িগ্রামের কাঁচকোলে ভাঙন মোকাবিলায় দিনরাত পাউবোর কাজ
- ৮জুলাইয়ের ১৮ দিনে এলো ১৮০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স
- ৯রেমিট্যান্স আহরণে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাইলফলক অর্জন
- ১০মোস্ট সাসটেইনেবল কোম্পানি অব দ্য ইয়ার পুরস্কার জিতেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ
- ১সিরাজগঞ্জে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
- ২কক্সবাজারে পরিবার পরিকল্পনা কমিটির মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
- ৩নির্মাণাধীন চাঁদপুর শহর সংরক্ষণ বাঁধের কাজ দৃশ্যমান
- ৪রবি আজিয়াটার বোর্ড সভা ২৮ জুলাই
- ৫প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র-সমাজের যৌথ দায়িত্ব: ডিএসসিসি প্রশাসক
- ৬ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণ মামলায় তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন
- ৭ইরানের হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত, জবাবে ভয়াবহ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
- ৮যমুনা ব্যাংকের বোর্ড সভা ২২ জুলাই
- ৯১৫ বছরের ধ্বংসযজ্ঞ অল্প সময়ে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়, তবে কাজ শুরু হয়েছে
- ১০চিলমারীতে ফের তীররক্ষা বাঁধে ধস, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ





পাঠকের মতামত