প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২২ ৯:০৭ পিএম

‘হিজাব বিতর্ক’ নিয়ে আলোচিত নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দাউল বারবাকপুর স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা আমোদিনী পালের করা মামলায় আদালতে জামিন নিতে এসে আটক হয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধরনী কান্ত বর্মন।

 

আজ রোববার দুপুরে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দাউল বারবাকপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধরনী কান্ত বর্মন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন। মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মানহানির অভিযোগে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমোদিনী পাল গত শুক্রবার মহাদেপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলার এজহারভুক্ত আসামি কিউএম সাঈদ ও কাজী সামসুজ্জামান মিলন নামের স্থানীয় জনকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করে মহাদেবপুর থানা পুলিশ। ওই মামলার এজহারভুক্ত এক সনম্বর আসামি ধরনী কান্ত বর্মন আজ রোববার দুপুরে নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল আমলী আদালত-৩- এ হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। ওই আদালতের বিচারক তাজুল ইসলাম তাঁর জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দাউল বারবাকপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমোদিনী পাল তাঁর বিরুদ্ধে হিজাব নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা ও বেআইনীভাবে দলবদ্ধ হয়ে হামলার অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এর আগে দাউল বারবাকপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পেটানোর অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনার তিন দিন পর গত ১০ এপ্রিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধরনী কান্ত বর্মন। জিডিতে ওই হামলার
সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ১৪০-১৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।

উল্লেখ্য, উপজেলার দাউল বারবাকপুর উচ্চবিদ্যালয়ের কয়েকজন মেয়ে শিক্ষার্থী ফেসবুকে ‘হিজাব পরায়’ পিটুনির অভিযোগ এনে ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করে। এরপর আরও কিছু ভিডিও আসে। পাশাপাশি বেশ কিছু অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। মেয়েদের অভিযোগের পর তোলপাড়ের মধ্যেই ৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার স্কুলটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর আসলে কী ঘটেছিল, তা বের করতে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। দায়িত্ব দেয়া হয়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল মালেককে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে তদন্ত কমিটি মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমানের কাছে সেই কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘স্কুল ড্রেস না পড়ার কারণে স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দুই শিক্ষক বেত্রাঘাত করেন। তাদের মধ্যে হিন্দু ছাত্রী ও ছেলে শিক্ষার্থীও ছিল। হিজাব পরার কারণে শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়েছে, এমন তথ্য তদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

স্বাস্থ্যখাতে গবেষণায় খুবই কম ব্যয় করা হচ্ছে: জিয়াউদ্দিন হায়দার

স্বাস্থ্যখাতে গবেষণায় খুবই কম ব্যয় করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ...

২০২৬ সালের মধ্যে বন্ধ কারখানা চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু, বেসরকারিকরণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ...

খুলনাঞ্চলের ১৬ সড়ক উন্নয়নে আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক মহাসড়ক খুলনা অঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ ...