প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৩ ১১:১২ এএম

সারা বিশ্বের আনাচে-কানাচে রয়েছে বহু আশ্চর্য জায়গা এবং অদ্ভুত সব নিয়ম-কানুন। এমনকী বহু শতক আগে থেকেই এই সব স্থানে নানা বিধি-বিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল। আর শতাব্দী-প্রাচীন সেই বিধি-বিধান কিন্তু এখনো বজায় রয়েছে। আজ এমনই এক জায়গার গল্পই বলব আমরা। যেখানে কেবলমাত্র পুরুষরাই যেতে পারেন। তবে সেখানে নারীদের যাওয়া নিষেধ। এটা কিন্তু কোনো মন্দির-মসজিদ কিংবা কোনো ধর্মীয় স্থান নয়। এই নিয়ম আসলে প্রণয়ন করা রয়েছে একটি দ্বীপে।

কিন্তু কেন এমন অদ্ভুত নিয়ম এই দ্বীপে? জাপানে অবস্থিত সেই দ্বীপটির নাম ওকিনোশিমা। প্রায় ৭০০ বর্গমিটার জায়গা জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে সেটি। এমনকী, ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট-এর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ওকিনোশিমা দ্বীপ। এখানকার একটি মন্দিরে সমুদ্রের দেবীর আরাধনা করা হলেও কিন্তু সেখানে নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।

যুগ যুগ ধরে প্রচলিত রয়েছে যে, চতুর্থ থেকে নবম শতাব্দী পর্যন্ত এই দ্বীপটি কোরিয়ান দ্বীপপুঞ্জ এবং চীনের মধ্যে বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল। এই স্থানকে ধর্মীয় ভাবে অত্যন্ত পবিত্র বলে গণ্য করা হয়। যদিও প্রাচীন কাল থেকেই এই দ্বীপে যে ধর্মীয় বিধিনিষেধ চলে আসছে, তা আজও বজায় রাখা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো এখানে নারীদের আসা-যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা। তবে পুরুষদের প্রবেশ এখানে বৈধ হলেও তাদের জন্যও কিছু কঠোর কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। অর্থাৎ পুরুষরা এখানে এলেও তাদের কিছু কঠোর নিয়ম মানতে হবে।

আসলে এখানে এলে জামাকাপড় না-পরে স্নান করতে পারবেন না পুরুষরা। শুধু তাই নয়, এখানকার নিয়মকানুন এতোটাই কড়া যে, এখানে সারা বছরে মাত্র ২০০ জন পুরুষ আসতে পারেন। এমনকী ওকিনোশিমা দ্বীপে গেলেও পুরুষরা নিজেদের সঙ্গে কিছু নিয়ে সেখানে যেতে পারবেন না। আর এই দ্বীপে যাওয়ার কথাও তাদের সকলের থেকে গোপন রাখতে হবে।

অসাহী শিম্বুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখানে রয়েছে মুনাকাতা তাইশা ওকিৎসু নামে একটি মন্দির। যেখানে সমুদ্রের দেবীর আরাধনা করা হয়। কথিত রয়েছে যে, ১৭ শতকের দিকে সমুদ্রযাত্রার সময় জাহাজের নিরাপত্তার জন্যই মূলত এই মন্দিরে পুজো করা হত।

 

শেয়ার

পাঠকের মতামত

নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি: সমর্থন-বিরোধিতায় বিভক্ত রাজনৈতিক অঙ্গন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন পদ্ধতি (পিআর) চালুর প্রস্তাব রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বর্তমানে প্রচলিত ...

জুলাই বিপ্লবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্তাক্ত দিনগুলো

২০২৪ সালের জুলাই মাস, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যেও ছিল প্রতিবাদ আর আন্দোলনের ...