সাইদুর রহমান নোমান, নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৫ ৪:৪৪ পিএম , আপডেট: আগস্ট ১১, ২০২৫ ৬:৫৬ এএম

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৬১ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ৬ হাজার ৫১৪ কোটি ডলারের পণ্য। তবে পরিমাণের দিক থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি বেড়েছে। সব মিলিয়ে সোয়া ১৪ কোটি টন পণ্য আমদানি হয়েছে, যা এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১৩ কোটি ৭৬ লাখ টনের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন ৫০টি শুল্ক স্টেশনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খালাস হওয়া পণ্যের তথ্য পর্যালোচনা করে আমদানির এই চিত্র পাওয়া গেছে।

ডলার সংকট নিয়ে গত ২০২৪–২৫ অর্থবছর শুরু হয়েছিল। অর্থবছরের ৩৬ দিনের মাথায় গত বছরের ৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তন হয়। দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। দেশে ডলার নিয়ে আগে থেকে যে কড়াকড়ি ছিল, তা তখনো আমদানির ক্ষেত্রে বহাল ছিল। সে জন্য নতুন সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়।

ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলেন, আমদানি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এখনো অনেক পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে মার্জিন দিতে হয় বেশি। যেমন পুরোনো জাহাজ আমদানিতে গ্রাহকভেদে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মার্জিন দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ ১০০ কোটি টাকা দামের একটি পুরোনো জাহাজ আমদানি করতে হলে ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করে ঋণপত্র খুলতে হচ্ছে। কিন্তু এ রকম সক্ষমতা অনেক উদ্যোক্তার নেই। কয়েক বছর আগেও ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মার্জিন দিয়ে ঋণপত্র খোলা যেত।

সাধারণত দেশে পণ্য আমদানি বাড়লে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ে। বিশেষ করে কাঁচামাল আমদানি বেড়ে যাওয়ার অর্থ হলো, দেশে শিল্প খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়া। যন্ত্রপাতি আমদানি বাড়লে বিনিয়োগ বাড়ে। এমনকি বাণিজ্যিক পণ্যের আমদানি বাড়লেও দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ছে বলে ধরে নেওয়া হয়। আর আমদানি কমলে উৎপাদনসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। গত অর্থবছরে শিল্পের অনেক খাতে কাঁচামাল আমদানি কমেছে। কমেছে মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানিও।

আমদানি প্রবৃদ্ধিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত

২০২৩-২৪ অর্থবছরে জুলাই থেকে জুন মাস পর্যন্ত প্রত্যেক মাসেই আমদানি প্রবৃদ্ধি ছিল নেতিবাচক। জুলাই ২০২৩-এ তের দশমিক পাঁচ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি বাইশ দশমিক দুই শতাংশ যা এই অর্থবছরের সর্বনিম্ন ছিল।পুরো অর্থবছরজুড়েই প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক থেকেছে। জুন ২০২৪ পর্যন্তও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দশ দশমিক ছয় শতাংশ মধ্যে ছিল।

অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি ইতিবাচক হারে প্রবৃদ্ধি হতে দেখা যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল দুই দশমিক ছয় শতাংশ। সেপ্টেম্বরে আমদানি জুলাই থেকে কমে গিয়ে শূন্য দশমিক নয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে তা বেড়ে হয় দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। মার্চ থেকে মে পর্যন্ত আমদানি প্রবৃদ্ধি গতবছরের তুলনায় চার দশমিক চার শতাংশ থেকে পাঁচ দশমিক ছয় এ উঠে আসে। জুনে সামান্য কমে চার দশমিক সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়।

এক বছরে রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধিতে নাটকীয় পরিবর্তন

২০২৩-২৪ অর্থবছর রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল নেতিবাচক ছিল পুরো বছরজুড়ে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল এক দশমিক শতাংশ নেতিবাচক ছিল। জুলাইয়ের পরের মাসগুলোতে নেতিবাচক হারে দ্রুত কমে দশ দশমিক এক শতাংশ থেকে দশ দশমিক নয় শতাংশে আশেপাশে ছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারির পর থেকে কিছুটা উন্নতি হলেও সব মাসেই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি রয়ে গেছে। শেষ তিন মাস এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত রপ্তানি হ্রাস অব্যাহত থেকেছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছর পুরো বছরজুড়ে ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হতে দেখা গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাসে শূন্য দশমিক তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও শুরু হলেও পরবর্তী মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধি দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ছয় দশমিক শূন্য শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারিতে নয় শতাংশ এর কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে জুনে আট দশমিক ছয় থেকে নয় দশমিক চার পর্যন্ত ছিল। সব মিলে বলা যায়, ২০২৩-২৪ সালে রপ্তানি খাতে বড় ধস দেখা গিয়েছিল। ২০২৪-২৫ সালে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং স্থিতিশীল ইতিবাচক গতি ধরে রেখেছে।

অর্থনীতিবিদ মো. মাজেদুল হক বলেন, আমদানি পরিমাণ গত বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করে। দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাড়াঁয়। কারণ কাঁচামাল আমদানি হলে উৎপাদন বাড়বে। আমদানি টাকার মূলে বাড়লে বৈশ্বিক মন্দার কারণে হয়ে থাকে। টাকার মূল্যে আমদনি বাড়লে আশাবাদী না। রপ্তানি বাড়লে দেশের অর্থ প্রবাহ বাড়বে। অর্থনীতির চাকা গতিশীল হবে। অর্থনীতি স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করবে। বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ঘোষণায় সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক পাচ্ছে বাংলাদেশ

নতুন শুল্কনীতিতে বাংলাদেশের জন্য সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে ...

বাজেটের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবানের ওপর: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গত দেড়-দুই মাসের পরিশ্রমে প্রণীত সাম্প্রতিক বাজেটটি দেশের সর্বস্তরের ...

অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ

২০২৫-২০২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। ...