নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬ ৯:২২ পিএম

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পকারখানার ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি পরিশোধ স্থগিতের দাবি জানিয়েছে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

একই সঙ্গে শিল্পকারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিনের সুযোগ এবং এ সময়ে কোনো ধরনের জরিমানা না করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (৮ আগস্ট) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে পৃথক চিঠিতে এসব দাবি জানানো হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে চট্টগ্রাম চেম্বার জানায়, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের কারণে রপ্তানিমুখী পোশাক, বস্ত্র, প্লাস্টিকসহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও অলিখিত ছাঁটাই পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে।

সংকটের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় রপ্তানি ও বিক্রয় আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও অনেক ক্ষেত্রে উঠে আসছে না।

চিঠিতে বলা হয়, শিল্পোদ্যোক্তাদের একদিকে কর্মীদের বেতন-ভাতা, ইউটিলিটি বিল ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের বোঝাও সামলাতে হচ্ছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় আগামী কয়েক মাসও এ ক্ষতির প্রভাব শিল্প খাতকে বহন করতে হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের মতে, শিল্পোদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে উৎপাদন ও বিক্রয় কমে যাওয়ার পরও ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ পরিশোধের চাপ অব্যাহত থাকলে তা শিল্প খাতের ওপর বড় ধরনের আর্থিক বোঝা তৈরি করবে। এতে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস ও সব রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পকারখানার জন্য ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি পরিশোধ স্থগিতের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে শিল্পকারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিনের বিলম্ব মার্জনা বা মোরাটোরিয়াম দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

চেম্বার বলেছে, সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে অন্তত আগামী ছয় মাস কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই বিল পরিশোধের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি এ সময়ে কোনো কারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করারও দাবি জানানো হয়েছে।

চিঠিতে প্রস্তাব করা হয়, প্রচলিত মাসিক বিল পরিশোধের নিয়ম সাময়িকভাবে শিথিল করে জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধে ৯০ দিনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সাম্প্রতিক সংকটজনিত আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সময় পাবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও সচল রাখা সম্ভব হবে।

এ জন্য গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা, জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধে ৯০ দিনের সুযোগ দেওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের বই ছাপাতে ৯৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও ...

বিশ্বব্যাংক এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তিন গুণ বেশি

জেনারেটিভ এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ...