মোঃ জাফর আহমেদ
প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬ ৯:৩১ পিএম

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সড়ক ও বসতবাড়িতে জমে আছে দূষিত পানি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানির কারণে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে অনেকে চুলকানি, ঘা ও পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দি তিতাস মোড় এলাকায় সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি-ভূঞাপুর প্রধান সড়কের দুই পাশে এবং আশপাশের বসতবাড়িতে পানি জমে আছে। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি পর্যন্ত জমে থাকায় পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে জমে থাকা পানি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যমুনা সার কারখানা সংলগ্ন তিতাস মোড় এলাকায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণের পর থেকেই এ সমস্যা প্রকট হয়েছে। কারখানার কমান্ডিং এরিয়া, বাইরের ড্রেন ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় দুই সড়কের মাঝের নিচু এলাকায় পানি জমে থাকে। পানি বের হওয়ার পথ না থাকায় তা আশপাশের বাড়িঘরেও ঢুকে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, আগে ওই এলাকায় বিলের মতো নিচু জায়গা থাকায় পানি সহজেই নিষ্কাশন হয়ে যেত। নতুন সড়ক নির্মাণের পর পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতি থেকে নিজেদের বাড়িঘর রক্ষায় কেউ কেউ নতুন সড়কের ওপর বাঁধ দিয়েছেন। এতে পানি আরও আটকে গিয়ে আশপাশের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন, জলিল মিয়া ও সানোয়ারা বেগম বলেন, ‘নতুন সড়ক নির্মাণের পর থেকেই সামান্য বৃষ্টিতে এখানে পানি জমে থাকে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যাটি দিন দিন বাড়ছে। দোকান ও বাড়িতে পানি ঢুকে পড়লে বাধ্য হয়ে ওই পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হয়। এতে শরীরে চুলকানি ও ঘা হচ্ছে।’

তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে যমুনা সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আফাজ উদ্দিন বলেন, ‘জমে থাকা পানিগুলো যমুনা সার কারখানার নয়। এগুলো বৃষ্টির পানি। কারখানার পানি ওই দিকে যায় না। শুনেছি, স্থানীয় লোকজন জমে থাকা পানি বিল বা আশপাশের খোলা জায়গায় নামতে দিচ্ছেন না। রাস্তার ওপর বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখায় তা কোথাও নামতে পারছে না।’

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করা না হলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে দূষিত পানির কারণে জনস্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

পর্যটনমন্ত্রী চলনবিলের নৈসর্গিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করে

বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল চলনবিলের নৈসর্গিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করে বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ...

চাহিদা অনুযায়ী বগুড়ার তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি: বাণিজ্যমন্ত্রী

উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বগুড়ায় শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও বিগত দিনে চাহিদা অনুযায়ী জেলাটির কোনো উন্নয়ন হয়নি ...