দিদারুল আলম
প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬ ৪:৩৭ পিএম

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ফেনী নদীর ওপর নির্মিতব্য ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের সেতুর নির্মাণকাজ ছয় বছরেও শেষ হয়নি। নদীর দুপাড়ের মানুষের অনেক স্বপ্ন থাকলেও কবে এই কাজ শেষ হবে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। নির্মাণকাজ শুরুর দীর্ঘ সময় পার হলেও তা সম্পন্ন না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ আর হতাশায় ভুগছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ফেনী নদীর ওপর ২৫২ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মিত হচ্ছে। এটি ছাগলনাইয়া উপজেলার আলোকদিয়া এবং মিরসরাইয়ের ধুম ইউনিয়নের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে। ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হক ট্রেডার্স।

২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর এই সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। প্রকল্প অনুযায়ী, ২০২২ সালের অক্টোবরে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সালেও এর কাজ শেষ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর মূল অবকাঠামোর প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে দুপাশের সংযোগ সড়কের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সংযোগ সড়কের কাজ ঝুলে থাকায় সেতুটি চালু হতে আরও সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি ছোট ডিঙি নৌকায় নদী পার হচ্ছেন। জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে নদী পারাপার কিছুটা সহজ হলেও বর্ষাকালে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নদীর পানি বাড়লে অনেকটা পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়, যাতে সময় ও অর্থ দুটিরই অপচয় হচ্ছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী নুর উল্লাহ জানান, শুরুতে মাত্র ২ টাকা দিয়ে নৌকায় পারাপার হতেন, এখন লাগে ১০ টাকা। এত বছর ধরে সেতুর কাজ চললেও তা শেষ না হওয়ায় যাতায়াত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সেতুটি দ্রুত শেষ হলে তাদের জন্য যাতায়াত অনেক নিরাপদ হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আরেক ভুক্তভোগী ইব্রাহিম জানান, তাঁর বাড়ি বড়দারোগা হাটে হলেও মেয়ে থাকেন ছাগলনাইয়ার আলোকদিয়ায়। বৃষ্টির দিনে এবং সন্ধ্যার পর নৌকা পাওয়া যায় না বলে তাঁকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। সেতুটি চালু হলে শান্তিরহাট বাজারের ব্যবসাবাণিজ্য আরও উন্নত হবে বলে তিনি মনে করেন।

কাজ বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. দিদারুল আলম জানান, মূলত দুপাশের জমি অধিগ্রহণ শেষ না হওয়ায় কাজ আটকে আছে। মিরসরাই অংশে অধিগ্রহণ শেষ করে জমির মালিককে টাকাও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ছাগলনাইয়া অংশে এখনো জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়নি, যা শিগগিরই শুরু হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হক ট্রেডার্সের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফরহাদ জানান, নদীতে সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। এখন দুপাশে জায়গা ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলে সেতুটি চলাচলের উপযোগী হবে। নদীতে পাইলিংয়ের সময় নিচে কিছু অবাঞ্ছিত পদার্থ পড়ায় বোরিং করতে কিছুটা সময়ক্ষেপণ হয়েছিল। তবে সংযোগ সড়কের কাজ পুরোপুরি জমি অধিগ্রহণের ওপরই নির্ভর করছে।

এনজে

শেয়ার

পাঠকের মতামত

হাসনাত আব্দুল্লাহ সরকারের প্রতিজ্ঞা ভাঙ্গার কারণে সবকিছু হতাশায় পরিণত হয়েছে

বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ...

নামজারিতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি: আব্দুল মান্নান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নামজারি ও ভূমিসংক্রান্ত সেবায় সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত ...

কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং আধুনিক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের ...

যানজট নিরসনে নবীনগর বাজারে উচ্ছেদ অভিযান, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর সদর বাজারে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে সড়ক ...

মাদকবিরোধী সভাকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ

‎মাদকবিরোধী সচেতনতামুলক সভাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ ...