
- সরকারি বিনিয়োগ ৬.৫১% থেকে বাড়িয়ে ১৩.১০% করার পরিকল্পনা
- বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ২২.০৩% থেকে কমিয়ে ২১.৪০%
- মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৩৪.৫% করার লক্ষ্য সরকারের
- জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৬.৫%
- মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে। অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে সরকার কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত রাখা ও বিনিয়োগ পরিবেশ আরও ব্যবসাবান্ধব করার উপর জোর দিচ্ছে, তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের উচ্চ সুদহার এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ প্রত্যাশা শিথিল করা হয়েছে। ফলে অর্থনীতিতে সরকারি ব্যয়ের ভূমিকা আরও বাড়লেও বেসরকারি বিনিয়োগের গতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ১০ শতাংশে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এক লাফে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে। তবে একই সময়ে দেশের কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের হার জিডিপির ২১ দশমিক ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রক্ষেপণ দেওয়া হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জন্য যা ছিল ২২ দশমিক শন্য ৩ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদ মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের বিনিয়োগের হার এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ের নিচে রয়েছে। একটি অর্থনীতিকে টেকসই ও গতিশীল রাখতে মোট বিনিয়োগ জিডিপির অন্তত ৩৫ থেকে ৩৬ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন।
দেশের বর্তমান বাস্তবতায় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনার জন্য বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো অত্যন্ত প্রয়োজন। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ না বাড়লে অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা আসে না বলে জানান তিনি।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ধরা করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এতে মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে চলতি অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হয়েছিল। ২০২৬-২৭ বাজেটে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ধরা হয়েছে জিডিপির ২১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং সরকারি খাতে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্য ২২ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরের পর অর্থাৎ এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে আগামী অর্থবছরের ২০২৬-২৭ বাজেট পরিকল্পনায় তা কমে দাড়িয়েছে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে। চলতি অর্থবছরে সরকারি খাতে বিনিয়োগের আকার ধরা হয়েছিল ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনায় এই খাতে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থাৎ ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে সীমিত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিবিএসের সর্বশেষ তথ্য বলছে , বর্তমানে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিমাণ কমে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ জিডিপির পরিমাণ ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদ মাজেদুল ইসলাম বলেন, সরকারের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ভোক্তা ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি, সরকারি ব্যয় সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি খাতে গতি ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই।
আগামী অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মাজেদুল ইসলাম বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতি বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে বিনিয়োগ স্থবির এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি খুবই দুর্বল। ফলে বর্তমান বাস্তবতায় জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন করা কঠিন হবে।
তিনি আরও বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি মূলত ভোক্তা ব্যয়, বেসরকারি বিনিয়োগ, সরকারি ব্যয় এবং নিট রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। এসব সূচকের কোনোটিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে মোট রাজস্ব আয় জিডিপির ১০ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং মোট কর রাজস্ব ৯ দশমিক ২১ শতাংশ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মোট সরকারি ব্যয় জিডিপির ১৩ দশমিক ৬১ শতাংশ ধরা হয়েছে। ফলে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক ঘাটতি ধরা হয়েছে জিডিপির ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার দাঁড়াবে ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা।
গত বছরের জুনে যখন বাজেট দেয়া হয় তখন চলতি বছরের জিডিপির আকার ধরা করা হয়েছিল ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। পরে জিডিপির আকার সংশোধন করে অর্থবিভাগ, তা সংশোধন করে ৬০ লাখ ৮০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ ও উদ্যোক্তা তৈরি করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য যথাযথ প্রকল্প নির্বাচন, গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় আরও রয়েছে আর্থিক খাত পুনর্গঠনের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে ডিরেগুলেশন কার্যক্রম ও প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং চলচ্চিত্র, সংগীত, ক্রীড়া ও গ্রামীণ সংস্কৃতিনির্ভর সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সহায়তা প্রদান। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও জনকল্যাণকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
অর্থনীতিবিদ মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে সরকারি ও বেসরকারি—দুই ধরনের বিনিয়োগই সমন্বিতভাবে বাড়াতে হবে। বিনিয়োগ বাড়লে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এএ
- ১‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডব্লিউএফপির সহযোগিতা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- ২রপ্তানি খাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অপরিসীম: বাণিজ্যমন্ত্রী
- ৩পলিথিন ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি
- ৪এনআরবিসি ব্যাংকে নবনিযুক্ত ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসারদের ওরিয়েন্টেশন
- ৫বাংলা কিউআরের প্রচারে সোনালী ব্যাংক
- ৬যমুনা ব্যাংকের এজিএম অনুষ্ঠিত
- ৭শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী
- ৮জাতীয় অধ্যাপক হলেন অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ
- ৯খাল খননের পাশাপাশি দখল-দূষণমুক্ত করতে কাজ করছে সরকার: পানিসম্পদ মন্ত্রী
- ১০একযোগে ৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি
- ১আইএফআইসি ব্যাংকে ঋণের নামে লুটপাট: ‘নীরব’ ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
- ২চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে: অর্থমন্ত্রী
- ৩ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা ৩০ জুলাই
- ৪২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক : তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
- ৫লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল
- ৬মেঘনায় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, হতাশা নিয়ে ফিরছেন জেলেরা
- ৭ফনিক্স ফাইন্যান্সের বোর্ড সভা ২৮ জুলাই
- ৮নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন শুরু ২ আগস্ট
- ৯শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার
- ১০জাতীয় অধ্যাপক হলেন অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ





পাঠকের মতামত