আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১২:১৭ পিএম

বৈশ্বিকভাবে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়া ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিশ্ববাজারে প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। খবর রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি ও হেলেনিক শিপিং নিউজের।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এফএওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাইয়ে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যসূচক বেড়ে ১৩১ দশমিক ১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। জুনের তুলনায় এ সূচক দশমিক ৬ পয়েন্ট এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া খাদ্যপণ্যের দামের ভিত্তিতে এ সূচক তৈরি করে এফএও।

২০২৩ সালের জানুয়ারির পর গত জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যসূচক সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। তবে ২০২২ সালের মার্চে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় সূচক এখনো ১৮ দশমিক ২ শতাংশ কম।

জুলাইয়ে মূলত শস্য, ভোজ্যতেল ও চিনির দাম বেড়েছে। বিপরীতে এ সময়ে মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমেছে।

এফএওর শস্য মূল্যসূচক জুলাইয়ে আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১১৩ দশমিক ৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গম সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বন্দর অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে তীব্র তাপপ্রবাহও গমের বাজারে প্রভাব ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের খরা পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে।

এর প্রভাবে ভুট্টার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল।

এদিকে জুলাইয়ে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ২ শতাংশ। এতে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক। পাম ও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ায় বাজারে এ চাপ তৈরি হয়।

ইন্দোনেশিয়ায় বায়োডিজেল খাতে চাহিদা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পাম তেলের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ায় সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। তবে সরবরাহ বাড়ায় সূর্যমুখী ও সরিষার তেলের দাম কিছুটা কমেছে।

জুলাইয়ে চিনির দামও বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এল নিনোর প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া ও খরা দেখা দেওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া ব্রাজিলে ইথানল উৎপাদনে আখের ব্যবহার বাড়ার প্রত্যাশাও চিনির দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

তবে খাদ্যপণ্যের সব কটির দাম বাড়েনি। আগের মাসের তুলনায় জুলাইয়ে মাংসের দাম কমেছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৬ সালে এটিই মাংসের দামের প্রথম মাসিক পতন। একই সময়ে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক কমেছে দশমিক ৭ শতাংশ।

এফএও সতর্ক করে বলেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং এল নিনোর প্রভাবে তৈরি আবহাওয়া সংকট বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা আবারও চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এনজে

শেয়ার

পাঠকের মতামত

ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের আদেশ

কারাবন্দি পাকিস্তানের আলোচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিশ্বকাপ জেতানো সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ ...

জয়সওয়াল বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সম্পর্ক চায় ভারত

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত গঠনমূলক ও ইতিবাচক সম্পর্ক চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর ...

বিশ্ববাজারে বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ...