
স্পিুরুলিনা চাষের জন্য রাজশাহীর তানোর উপজেলার আমশো গ্রামে ১৭ হাজার লিটারের একটি কৃত্রিম জলাধার তৈরি করেছেন রাকিবুল সরকার। এইজন্য জলাধারে রাসায়নিক প্রয়োগ করে সামুদ্রিক পরিবেশ তৈরি করতে হয়েছে তাকে। কৃত্রিম জলাধারে সামুদ্রিক পরিবেশ তৈরির জন্য তাকে পানির সাথে ৯ ধরনের রাসায়নিক উপাদান মেশাতে হয়েছে। এছাড়া কৃত্রিম জলাধারটি স্বচ্ছ প্লাস্টিকের তৈরি টিন দিয়ে ছেয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে সরাসরি সূর্যালোক পড়ে জলাধারটিতে। এছাড়া পোকামাকড় ও জীবাণুর সংস্পর্শে যাতে না আসে সেজন্য জলাধারটি প্রথমে স্বচ্ছ মোটা পলিথিন ও তার ওপরে আবার প্লাস্টিকের নেট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। আর পানিতে যাতে সবসময় অক্সিজেনের প্রবাহ ঠিক থাকে সেজন্য অক্সিমিটার জেনারেটর পানিতে বসানো হয়েছে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে পানিতে অক্সিজেনের প্রবাহ তৈরি হয়।
উদ্যোক্তা রাকিবুল সরকার বলেন, কৃত্রিম জলাধারটি তৈরি করতে আমার দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কারণ প্লাস্টিকের টিন ঢাকা থেকে অর্ডার করে তৈরি করে আনতে হয়েছে যা ব্যয়বহুল। এছাড়া জলাধারটিতে সামুদ্রিক পরিবেশ তৈরি করতে ৯ ধরনের রাসায়নিক উপাদান পানির সাথে মেশাতে হয়েছে এইজন্য খরচ হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর ১৭ হাজার লিটার জলাধারের জন্য ১৫ লিটার স্পিরুলিনার বীজ দিতে হয়েছে। সবমিলিয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ পড়েছে। এরপর আর তেমন খরচ নেই। তবে পানির গুণাগুণ কমে গেলে সেক্ষেত্রে রাসায়নিক দিতে হয়। সেটাও ছয় মাসে একবার। এই জলাধার থেকে প্রতি মাসে শুকানোর পর ১৫ থেকে ২০ কেজি স্পিরুলিনা উৎপাদন হয়। প্রতিকেজি স্পিরুলিনা বিক্রি হয় চার হাজার টাকা কেজি হিসেবে। সে হিসেবে প্রতি মাসে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা স্পিরুলিনা বিক্রি হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি ও পুষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান স্পিরুলিনা ক্রয় করেন।
রাকিবুল সরকার বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমুদ্র বিজয়ের পর প্রায়ই ব্লু ইকোনমির কথা বলতেন। প্রধানমন্ত্রী বলতেন আমাদের দেশে ব্লু ইকোনমির অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ব্লু ইকোনমি কি বিষয়টি জানতে গিয়ে দেখি, ব্লু ইকোনমি হচ্ছে সমুদ্রের ভেতর যে প্রাণিজ ও খনিজ সম্পদ রয়েছে সেগুলো যথাযথভাবে আহরণ করে তার ব্যবহার করা। তার মধ্যে একটি হচ্ছে সামুদ্রিক শৈবাল। সামুদ্রিক শৈবালের মধ্যে প্রয়োজনীয় খনিজ, প্রাণিজসহ মানবদেহের সব পুষ্টিকর উপাদানই রয়েছে। সামুদ্রিক শৈবালের আবার দুইটি প্রকারভেদ আছে একটি হচ্ছে বৃহৎ আকারের সামুদ্রিক শৈবাল চাষ আর একটি হচ্ছে এককোষী সামুদ্রিক শৈবাল- স্পিরুলিনা। এককোষী প্রাণী পানিতে শ্যাওলার মতো ভেসে থাকে। তখন থেকে আসলে স্পিরুলিনা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ভারত, চীনসহ ইউরোপ-আমেরিকার অনেক দেশেই এটি চাষ হচ্ছে। তখন ঝিনাইদহের দেলোয়ার এগ্রো ফুডের দেলোয়ারের কাছে একদিনের প্রশিক্ষণ নিয়েই সামুদ্রিক শৈবাল চাষ শুরু করি”। এভাবেই প্রাণিজ ও খনিজ সম্পদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গিয়েই তিনি সামুদ্রিক শৈবাল স্পিরুলিনা চাষের সাথে যুক্ত হন।
রাকিবুল সরকার বলেন, “এ বছরের মার্চের ১ তারিখে আমি কৃত্রিম জলাধারে চাষ শুরু করি। ২০ তারিখ থেকে স্পিরুলিনা উৎপাদন শুরু হয়। পানি থেকে স্পিরুলিনা সংগ্রহ করে তাকে লবণজাত করে ড্রায়ার মেশিনে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় শুকাতে হয়। শুকানোর পর তা এয়ারটাইট বোতলজাত করে বিক্রি করা হয়। প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ কেজি স্পিরুলিনা উৎপাদন হয়”।
- ১৪২ ঋণখেলাপির পাচারের অর্থ ফেরাতে ৮ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি
- ২রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল, ১১ দলের অলি আহমদ
- ৩বাগেরহাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই নারীর সর্বস্ব পুড়ে ছাই
- ৪পাবনায় সমতল আদিবাসী নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত
- ৫চাঁদপুর সিভিল সার্জনকে ক্ষমা করে বদলির আদেশ প্রত্যাহার করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- ৬পাবনায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক ১
- ৭মোড়লগঞ্জে ৯ হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১
- ৮বাগেরহাটে বাসের ধাক্কায় অটোবাইক চালক নিহত, আহত ৪
- ৯শেরপুরের সীমান্তবর্তী বনে ১৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকার ভারতীয় মদ জব্দ
- ১০স্ট্রোকের পর সংকটাপন্ন রাবি শিক্ষার্থী
- ১কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
- ২রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের প্রার্থী অলি আহমদ
- ৩সোমবার সকাল ১০টায় এসএসসি ও সমমানের ফল উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী
- ৪প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে উৎসবের আমেজ, বুকভরা আশা হাটহাজারীবাসীর
- ৫হেলিকপ্টারে মহেশখালীর পথে প্রধানমন্ত্রী
- ৬সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার
- ৭আওয়ামী লীগ ১৭ বছরে যা পারেনি, আমরা ৫ বছরেই তা করার চেষ্টা করবো
- ৮রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ
- ৯আজ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- ১০কল-কারখানা স্থাপন করে উপকূলের বেকার সমস্যা সমাধান করা হবে: প্রধানমন্ত্রী





পাঠকের মতামত