
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাটহাজারী সফরকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সামনে রেখে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে ফটিকছড়ির নানুপুর মাদ্রাসা থেকে সড়কপথে হাটহাজারীতে আসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক দুই প্রয়াত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও আল্লামা বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করবেন। এরপর মাদ্রাসা সংলগ্ন জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় কিছু সময় অবস্থান করবেন।
পরে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণের সহায়তা হিসেবে পরিবারপ্রতি এক লাখ টাকা করে তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই অনুষ্ঠানে ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে হাটহাজারীর পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হাটহাজারীর স্থানীয় সংসদ সদস্য, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের সহায়তা হিসেবে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে হাটহাজারীর বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ডে বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশপাশের উপজেলা থেকেও নেতাকর্মীদের অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে হাটহাজারীবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অন্যতম প্রধান দাবি ৬০০ শয্যার হাটহাজারী হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালু করা। উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের পাশাপাশি হাটহাজারী কৃষি ইনস্টিটিউটকে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউটকে পূর্ণাঙ্গ ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিও রয়েছে।
এরই মধ্যে হাটহাজারীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৭ দফা দাবি জানিয়েছে হাটহাজারী উন্নয়ন ফোরাম। ফোরামের চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন গ্লোবাল বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ মোস্তফা আলম মাসুম এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানান।
হাটহাজারীর উন্নয়নে ৭ দফা দাবি
১. স্বাস্থ্যখাত:
ভৌগোলিক অবস্থান ও একাধিক প্রবেশপথ বিবেচনায় হাটহাজারীর ফটিকা ও মিঠাইছড়া মৌজায় ‘চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল’ জরুরি ভিত্তিতে নির্মাণের কাজ শুরু করা। পাশাপাশি উপজেলার সব ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ, নার্সিং কলেজ স্থাপন এবং একটি ডায়াবেটিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা।
২. যোগাযোগ খাত:
হাটহাজারীর মূল সড়কের যানজট নিরসনে ওভারপাসসহ ছয় লেনের মহাসড়ক নির্মাণ। সড়ক দুর্ঘটনা মোকাবেলায় হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা থেকে নাজিরহাট হালদা ব্রিজ পর্যন্ত চার লেনের সড়ক ও সিঙ্গেল ডিভাইডার নির্মাণ এবং মূল সড়কের সাথে সংযুক্ত উপ-সড়কগুলোর প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করা।
৩. শিক্ষাখাত:
হাটহাজারী কৃষি ইনস্টিটিউটকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি বিষয়ে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি, উপজেলার প্রাচীন উচ্চ বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ, মির্জাপুর ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডে বিসিআইসিকে জালালাবাদ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। একই সাথে মির্জাপুর বাকেরিয়া মহিলা মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
৪. দুর্যোগ মোকাবেলা:
হাটহাজারীর ১ নম্বর ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের মন্দাকিনী থেকে বুড়িশ্চর ইউনিয়ন পর্যন্ত হালদা নদীর পশ্চিম পাড় সুরক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করা। পাশাপাশি উপজেলার নিচু এলাকার ইউনিয়নগুলোতে সাইক্লোন কেন্দ্র নির্মাণের দাবি রয়েছে।
৫. ক্রীড়াখাত:
হাটহাজারীতে ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা। নাজিরহাট কলেজ মাঠ, কাটিরহাট বিদ্যালয় মাঠ, মির্জাপুর বিদ্যালয় মাঠ, হাটহাজারী কলেজ মাঠ, ফতেয়াবাদ স্কুল মাঠ ও কুয়াইশ কলেজ মাঠকে খেলার উপযোগী করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা। পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক সামাজিক ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
৬. পুলিশ স্টেশন নির্মাণ:
হাটহাজারী মডেল থানার আওতাধীন নূর আলী মিয়ার হাট, সরকার হাট, বড়দিঘীর পাড় ও নজুমিয়ার হাটে চারটি পুলিশ স্টেশন স্থাপন করা।
৭. সামাজিক ও সাংগঠনিক পৃষ্ঠপোষকতা:
সব ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সহাবস্থান বজায় রাখা, প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাটহাজারী প্রেসক্লাবের আধুনিকায়ন এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া।
হাটহাজারী উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোস্তফা আলম বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শুধু হাটহাজারী নয়, পুরো উত্তর চট্টগ্রাম এবং দুই পার্বত্য জেলার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ অঞ্চলের তৃণমূল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সাত দফা দাবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, যোগাযোগ, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে হাটহাজারীর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সফর নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তারা আশা করছেন, এই সফরের মাধ্যমে হাটহাজারীর উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে এবং দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
টিআর
- ১জবির ভর্তি আবেদন শুরু ১৫ নভেম্বর, পরীক্ষা জানুয়ারিতে
- ২১৯৫৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক
- ৩হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
- ৪প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে উৎসবের আমেজ, বুকভরা আশা হাটহাজারীবাসীর
- ৫কল-কারখানা স্থাপন করে উপকূলের বেকার সমস্যা সমাধান করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
- ৬শিক্ষার্থীদের জীবনের লক্ষ্য ও বদলে যাওয়া স্বপ্ন: কাঠামোগত বাস্তবতার সংকট
- ৭সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার
- ৮ইসলামী ব্যাংকের শরী’আহ সুপারভাইজরি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
- ৯প্রাথমিকের কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে সায়েন্স টয় : ববি হাজ্জাজ
- ১০দর পতনের শীর্ষে পিপলস লিজিং
- ১সাতক্ষীরায় বর্ষা মৌসুমে পাট পঁচানোর ধুম
- ২সোমবার সকাল ১০টায় এসএসসি ও সমমানের ফল উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী
- ৩শেয়ারবাজারে বন্ধ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৫
- ৪সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবার পাবে ৫ লাখ টাকা
- ৫কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
- ৬রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের প্রার্থী অলি আহমদ
- ৭হেলিকপ্টারে মহেশখালীর পথে প্রধানমন্ত্রী
- ৮চলনবিলে ইকো ট্যুরিজমের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে : পর্যটনমন্ত্রী
- ৯গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার
- ১০দেশে বিনিয়োগ করতে চায় গুগল-মেটা-টিকটক: আইসিটি মন্ত্রী





পাঠকের মতামত