জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬ ১:৩৬ পিএম

কুড়িগ্রামের চর রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের পূর্বপাড়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

শনিবার (৮ আগস্ট) নদীপথে ওই এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগ ও নদীভাঙনের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে নদীভাঙন পরিস্থিতি দেখতে তিনি কুড়িগ্রামে এসেছেন। জেলার নদীভাঙন রোধে ৯৩টি জরুরি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ থেকে ৬৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

চর রাজীবপুরের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন রোধে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের নদীভাঙন স্থায়ীভাবে রোধ করা সম্ভব হবে। দ্রুত একনেকে অনুমোদনের লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, দল-মত ও ব্যক্তির পরিচয় নির্বিশেষে দেশের মানুষের জানমাল ও সম্পদ রক্ষা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। নদীভাঙন রোধ ও বাঁধ সংস্কারের কাজে গুণগত মান বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বর্ষায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র স্রোত ও গতিপথ পরিবর্তনের কারণে কোদালকাটি ইউনিয়নের পূর্বপাড়ে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। এতে প্রতিবছর আবাদি জমি, বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদীভাঙনের কারণে অনেক পরিবারকে বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন শুরু হলে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে প্রতিরোধের চেষ্টা করা হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা কার্যকর হচ্ছে না। ফলে বর্ষা মৌসুম এলেই নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়।

তাদের দাবি, শুধু সাময়িক প্রতিরোধ নয়, নদীর গতিপথ ও স্রোতের চাপ বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ ও প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত প্রায় ৯০০ কোটি টাকার প্রকল্প দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রকল্প অনুমোদনের পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে। তাহলে দীর্ঘদিনের নদীভাঙন থেকে রাজীবপুরের নদীপাড়ের মানুষ স্থায়ীভাবে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেন লিপি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া চর রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সায়েকুল হাসান খান, চর রাজীবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীনুর আলম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান, সদস্য সচিব আব্দুল হাই সরকার, কোদালকাঠি ইউনিয়নের আমিনুল মাস্টার সহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

টিআর

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বাগেরহাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই নারীর সর্বস্ব পুড়ে ছাই

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার হোচলা পশ্চিমপাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই নারীর বসতঘর পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। আগুনের লেলিহান ...

চাঁদপুর সিভিল সার্জনকে ক্ষমা করে বদলির আদেশ প্রত্যাহার করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে জলাতঙ্কের টিকা (র‍্যাবিস ভ্যাকসিন) ও নরমাল স্যালাইন ...

মোড়লগঞ্জে ৯ হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনসংলগ্ন বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে র‌্যাব-৬। উপজেলার বারইখালী ...