
রাষ্ট্রেরও কখনো কখনো নীরবতা থাকে। সেই নীরবতার শব্দ শোনা যায় না সংসদে, টেলিভিশনের বিতর্কে বা সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে। শোনা যায় হাজার মাইল দূরের কোনো শ্রমিক শিবিরে, যেখানে দিনের শেষে এক বাংলাদেশি শ্রমিক মোবাইল ফোনে পরিবারের কণ্ঠ শুনে আবার পরদিনের রোদে দাঁড়ানোর সাহস খোঁজেন। রাষ্ট্রের কিছু ফাইল ঠিক তেমনই। বাইরে থেকে সেগুলো কেবল কাগজের স্তূপ। ভেতরে চাপা পড়ে থাকে মানুষের জীবন, একটি দেশের কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা, বিনিয়োগকারীর আস্থা এবং ভবিষ্যতের অর্থনীতির নকশা।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে দীর্ঘদিনের সিদ্ধান্তহীনতা এখন ঠিক এমন এক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ২০০৭ সালে আংশিক এবং ২০১৫ সালে পুরোদমে চালু হওয়ার পর থেকে দেশের এই বৃহত্তম ও সবচেয়ে লাভজনক টার্মিনালটির স্থায়ী ব্যবস্থাপনা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন মহলে ক্ষমতার টানাটানি, নীতিগত দ্বন্দ্ব এবং সিদ্ধান্তহীনতা চলছে। বিগত সরকারের আমলে দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে পিপিপি মডেলের আওতায় দীর্ঘমেয়াদে এই টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা বর্তমান সরকারের আমলেও সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে, দেশের শীর্ষস্থানীয় অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক, কসমস ও এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসের সমন্বয়ে গঠিত নতুন একটি দেশীয় কনসোর্টিয়াম ১৫ বছরের জন্য এই টার্মিনাল পরিচালনার পাল্টা প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এছাড়া এমজিএইচ গ্রুপও এটি পরিচালনায় আগ্রহী। দীর্ঘমেয়াদি কোনো স্থায়ী সুরাহা না হওয়ায় আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড সাময়িকভাবে এই টার্মিনালটি পরিচালনা করছে।
আমরা প্রায়ই অবকাঠামোকে ইট, পাথর, লোহা আর কংক্রিটের সমষ্টি বলে ভাবি। অথচ আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অভিধানে একটি বন্দর কেবল জাহাজ ভিড়ানোর জায়গা নয়; এটি একটি দেশের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার দরজা। একটি ক্রেন কখনো কখনো একটি দূতাবাসের চেয়েও বেশি কথা বলে। একটি কনটেইনার টার্মিনাল অনেক সময় একটি রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির বাস্তব অনুবাদ হয়ে ওঠে। কারণ বিশ্বায়নের এই যুগে কূটনীতি শুধু যৌথ বিবৃতিতে লেখা হয় না; লেখা হয় সমুদ্রবন্দরে, সরবরাহ শৃঙ্খলে, বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে এবং সময়মতো দেওয়া রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিতে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও আজ সেই বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে। সৌদি আরবের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্সের উৎস এই দেশ। প্রায় ২৮ লাখ বাংলাদেশি সেখানে কর্মরত। তাঁদের পাঠানো অর্থ বছরে প্রায় ৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই অঙ্কটিকে কেবল বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এই অর্থে আসে গ্রামের ভাঙা ঘরের নতুন টিনের চাল, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া এক মেয়ের সেমিস্টার ফি, বৃদ্ধ বাবার ওষুধ, ছোট ভাইয়ের ব্যবসার মূলধন এবং দেশের অর্থনীতির এমন এক নীরব শক্তি, যার কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নেই, কিন্তু যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন।
এই কারণেই ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবকে কেবল একটি ব্যবসায়িক দরপত্র হিসেবে পড়া বাস্তবতার প্রতি অবিচার হবে। ডিপি ওয়ার্ল্ড কোনো সাধারণ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত বৈশ্বিক বন্দর অপারেটর। বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে তাদের উপস্থিতি কেবল বাণিজ্যিক নয়, কৌশলগতও। ফলে এনসিটি নিয়ে আলোচনা আসলে দুই রাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি আস্থার একটি পরীক্ষা। বিগত সময়ে সরকার-টু-সরকার যে প্রতিশ্রুতির সূচনা হয়েছিল, তার পরিণতি আজও যদি একটি প্রশাসনিক ফাইলের নিচে আটকে থাকে, তাহলে প্রশ্নটি আর কোনো কোম্পানিকে ঘিরে থাকে না; প্রশ্নটি গিয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার সামনে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি নির্মম সত্য আছে। রাষ্ট্রের স্মৃতি মানুষের স্মৃতির চেয়ে দীর্ঘ। কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ক্ষত অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায় না। কিন্তু সেই ক্ষতের দাগ থেকে যায় ভবিষ্যতের প্রতিটি আলোচনায়। বিনিয়োগকারীরা প্রথমে করছাড়ের হিসাব করেন না; তাঁরা দেখেন, এই রাষ্ট্র কি কথা রাখে? এখানে সিদ্ধান্ত হয়, নাকি সিদ্ধান্তের অপেক্ষাই একসময় সিদ্ধান্তে পরিণত হয়? একটি ফাইল কত দিন সচিবালয়ের টেবিলে ঘুরে বেড়ায়, সেটিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি দেশের সুনামের অংশ হয়ে ওঠে।
চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদস্পন্দন অথচ এর ভেতরের সত্যটি এখনো বদলায়নি। দেশের সমুদ্রপথে আমদানি-রপ্তানির প্রধান প্রবেশদ্বার এই বন্দর। এখানে এক দিনের বিলম্ব মানে কেবল জাহাজের অপেক্ষা নয়; মানে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, রপ্তানিকারকের অতিরিক্ত ব্যয়, বিদেশি ক্রেতার আস্থায় চিড় ধরা এবং শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়া। বন্দর যত ধীর হয়, অর্থনীতির রক্তসঞ্চালনও তত ধীর হয়ে যায়।
এনসিটির বর্তমান বাস্তবতা সেই উদ্বেগকেই সামনে আনে। বন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, টার্মিনালের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেন ও যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক নিচে নেমে এসেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং ব্যবহারিক চিত্রে এটি স্পষ্ট যে, এনসিটি (NCT)-এর অনেক যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা বা ‘ইকুইপমেন্ট অ্যাভেইলেবিলিটি’ বৈশ্বিক মানদণ্ড (যা সাধারণত ৯৩%-এর ওপরে থাকে) থেকে নেমে বর্তমানে প্রায় ৭০% বা তার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফলে এই টার্মিনালের আধুনিকায়ন এবং পুরোনো যন্ত্রপাতি দ্রুত পরিবর্তন করা এখন কোনো বিলাসিতা নয়, বরং তীব্র জরুরি প্রয়োজন। ফলে পুরোনো যন্ত্রপাতি বদলাতে বিপুল বিনিয়োগ ও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। ডিপি ওয়ার্ল্ড দাবি করছে, তারা অনেক কম সময়ে আধুনিকায়নের কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। এই দাবির সত্যতা অবশ্য কঠোর আর্থিক, কারিগরি ও আইনি যাচাইয়ের বিষয়। কিন্তু একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায় না—যদি সমস্যার অস্তিত্ব স্বীকার করি, তবে তার সমাধানও কি অনন্তকাল অপেক্ষা করবে?
রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি কেবল তার সেনাবাহিনী নয়, তার অর্থনীতিও নয়; সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। যে রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করে, সে প্রায়ই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীর জন্য সুযোগ তৈরি করে। ইতিহাসের পাতা খুললে দেখা যায়, বহু দেশ যুদ্ধ হেরে নয়, সিদ্ধান্তহীনতায় পিছিয়ে পড়েছে। প্রশাসনিক বিলম্ব অনেক সময় গোলাবারুদের চেয়েও নীরবে ক্ষতি করে।
বিশ্ব মানচিত্রে তাকালে বোঝা যায়, সমুদ্র কেবল নীল জলরাশি নয়; সমুদ্র হলো ক্ষমতার আয়না। যে রাষ্ট্র সমুদ্রপথের ছন্দ বোঝে, সে বাণিজ্যের ভাষাও বোঝে। আর যে রাষ্ট্র বন্দরকে কেবল একটি সরকারি দপ্তর হিসেবে দেখে, সে অজান্তেই নিজের অর্থনীতির গতি কমিয়ে ফেলে। এক সময় যুদ্ধজাহাজ সাম্রাজ্য গড়ত, এখন কনটেইনার জাহাজ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। আগে কামানের মুখে ভূখণ্ড দখল হতো, আজ দক্ষ বন্দর দিয়ে বাজার দখল হয়। পৃথিবী বদলেছে, কিন্তু আমরা কি সেই বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়েছি?
ভারত মহাসাগরকে ঘিরে এখন যে নীরব প্রতিযোগিতা চলছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে বন্দর, জ্বালানি, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বাণিজ্যপথ। চীন একদিকে বন্দর নির্মাণ ও অবকাঠামো বিনিয়োগে এগোচ্ছে, ভারত তার সামুদ্রিক কৌশল নতুন করে সাজাচ্ছে, জাপান বঙ্গোপসাগরকে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক করিডর হিসেবে দেখছে, উপসাগরীয় দেশগুলো তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে লজিস্টিকসনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর ঘটাচ্ছে। এই পরিবর্তনের মাঝখানে বাংলাদেশ কোনো প্রান্তিক ভূখণ্ড নয়; বরং এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সঠিক সিদ্ধান্ত তাকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্রেও পরিণত করতে পারে, আবার ভুল সিদ্ধান্ত তাকে দর্শকের সারিতেও বসিয়ে দিতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত এই বাস্তবতাকে অনেক আগেই বুঝেছে। তারা জানে, একবিংশ শতাব্দীর প্রভাব শুধু তেলের কূপে লুকিয়ে নেই; লুকিয়ে আছে সমুদ্রবন্দরে, কার্গো টার্মিনালে, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায়। দুবাইয়ের উত্থান কোনো আকস্মিক অলৌকিক ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং রাষ্ট্রের ধারাবাহিক নীতির ফল। সেই অভিজ্ঞতার আলো নিয়ে যদি তারা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল পরিচালনার আগ্রহ দেখায়, তাহলে আমাদের প্রথম কাজ হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থের প্রতিটি ধারা কঠোরভাবে যাচাই করা। কিন্তু যাচাই আর বিলম্ব এক জিনিস নয়। সতর্কতা রাষ্ট্রের গুণ, সিদ্ধান্তহীনতা রাষ্ট্রের দুর্বলতা।
বাংলাদেশে আমরা প্রায়ই দুটি চরম অবস্থান দেখি। একদল মনে করেন, বিদেশি বিনিয়োগ এলেই সব সমস্যার সমাধান। আরেক দল মনে করেন, বিদেশি অংশীদার মানেই সার্বভৌমত্বের হুমকি। বাস্তবতা এই দুই মেরুর মাঝখানে। কোনো চুক্তিই প্রশ্নাতীত নয়, আবার কোনো প্রস্তাবই কেবল বিদেশি বলেই বাতিল করার মতো নয়। পরিণত রাষ্ট্র আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় না; নেয় তথ্য, সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের ভিত্তিতে। যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হওয়া উচিত—এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের লাভ কোথায়, ঝুঁকি কোথায়, আর সেই ঝুঁকি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
আমরা প্রবাসীদের “রেমিট্যান্সযোদ্ধা” বলি, তাঁদের সম্মান জানাই, অনুষ্ঠানে ফুল দিই, বক্তৃতায় তাঁদের অবদানের কথা বলি। কিন্তু রাষ্ট্রের বড় সিদ্ধান্তে তাঁদের অস্তিত্ব কতবার বিবেচনায় আসে? সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি কেবল শ্রমশক্তি নন; তাঁরা দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে দৃঢ় মানবিক সেতু। তাঁদের ঘামে যে আস্থা তৈরি হয়েছে, সেটিকে রাষ্ট্রের নীতিতে সম্মান জানানোও এক ধরনের দায়িত্ব। কূটনীতি কখনো এক দিনের ঘটনায় ভেঙে পড়ে না, আবার এক দিনের ঘোষণায় শক্তিশালীও হয় না। এটি তৈরি হয় বছরের পর বছর ধরে ছোট ছোট সিদ্ধান্ত, পারস্পরিক সম্মান এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষার মধ্য দিয়ে।
আজ যে ফাইলটি টেবিলে পড়ে আছে, সেটি হয়তো একজন কর্মকর্তার কাছে আর দশটি ফাইলের মতোই। কিন্তু মরুভূমির নির্মাণশ্রমিকের কাছে সেই ফাইলের অর্থ আলাদা। চট্টগ্রাম বন্দরের একজন কর্মীর কাছেও আলাদা। একজন পোশাক রপ্তানিকারকের কাছেও আলাদা। এমনকি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর কাছেও। কারণ প্রত্যেকে সেই ফাইলের ভেতরে একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন—বাংলাদেশ কি সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে?
রাষ্ট্রের ইতিহাসে অনেক ব্যর্থতার কারণ অর্থের অভাব নয়; সিদ্ধান্তের অভাব। সুযোগ চিরকাল দরজায় কড়া নাড়ে না। একসময় সে ফিরে যায়। তারপর বহু বছর ধরে আমরা সম্মেলন করি, সেমিনার করি, নীতিপত্র লিখি, বিদেশি বিনিয়োগ না আসার কারণ খুঁজি। অথচ উত্তরটি হয়তো বহু আগেই একটি ধুলোমাখা ফাইলের ভাঁজে লুকিয়ে ছিল।
এই কারণেই এনসিটি নিয়ে সিদ্ধান্তটি একটি টার্মিনালের ভবিষ্যৎ নয়; এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার পরিপক্বতারও পরীক্ষা। আমরা কি এমন একটি রাষ্ট্র হতে চাই, যে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তা সময়মতো বাস্তবায়ন করে? নাকি এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে সিদ্ধান্তের চেয়ে সিদ্ধান্তহীনতার আয়ু বেশি?
ইতিহাস খুব নির্মম বিচারক। ইতিহাস কোনো ফাইল নম্বর মনে রাখে না, কোনো নোটশিটও নয়। ইতিহাস মনে রাখে—একটি জাতি সুযোগের মুহূর্তে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আর যদি সিদ্ধান্ত না-ই নেয়, ইতিহাস সেটিও লিখে রাখে। কারণ কখনো কখনো একটি রাষ্ট্রকে পিছিয়ে দেয় ভুল সিদ্ধান্ত নয়; সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহসের অভাব।
২৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি আজও প্রতিদিন তাঁদের শ্রম দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে অক্সিজেন জোগাচ্ছেন। তাঁদের পাঠানো প্রতিটি ডলারের সঙ্গে দেশে ফিরে আসে এক টুকরো বিশ্বাস—রাষ্ট্র তাঁদের শ্রমের মর্যাদা দেবে, তাঁদের ঘামে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে গুরুত্ব দেবে, এবং সময় এলে ফাইলের নিচে নয়, জাতীয় স্বার্থের টেবিলেই সিদ্ধান্ত নেবে। সেই বিশ্বাস ভেঙে যাওয়ার মূল্য কোনো বাজেটের খাতায় লেখা থাকে না। কিন্তু একদিন তার হিসাব পুরো জাতিকেই দিতে হয়।
লেখক: মো. মাহমুদুল হাসান
ভূরাজনৈতিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন কৌশল বিশ্লেষক
- ১ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের মূল বাধা রাজনৈতিক পর্ষদ
- ২রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ
- ৩গভীর রাতে আড়িয়াল খাঁয় ড্রেজার, ভাঙনে ঘরবাড়ি হারাচ্ছে অর্ধশত পরিবার
- ৪সৌদির দুই অঞ্চলে বিস্ফোরণ, আরামকো তেল ও জুবাইল গ্যাস স্থাপনায় আগুন
- ৫মহেশখালীর মাতারবাড়িতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
- ৬সূচকের পতনে চলছে লেনদেন
- ৭হেলিকপ্টারে মহেশখালীর পথে প্রধানমন্ত্রী
- ৮ঢাকায় পুলিশের অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫০৪
- ৯দর বৃদ্ধির কারণ জানে না ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স
- ১০সোমবার সকাল ১০টায় এসএসসি ও সমমানের ফল উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী
- ১সাতক্ষীরা-ভেটখালী সড়কে বড় বড় খানাখন্দ, চলাচলে চরম ভোগান্তি
- ২আখাউড়ায় শাহপীর কল্লা শহীদ’র ওরস সোমবার শুরু
- ৩সিন্ডিকেট-মজুদদারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করবে সরকার
- ৪চিকিৎসক সমাজের পেশাগত উৎকর্ষতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ড্যাব
- ৫সমনবাগ চা বাগানে ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে গণবিক্ষোভ
- ৬কাপাসিয়ায় বাবার খরিদকৃত জমি দখল চেষ্টা, থানায় মেয়ের অভিযোগ
- ৭চাহিদা অনুযায়ী বগুড়ার তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি: বাণিজ্যমন্ত্রী
- ৮আমরা বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই: শিক্ষামন্ত্রী
- ৯সাতক্ষীরায় বর্ষা মৌসুমে পাট পঁচানোর ধুম
- ১০ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোগে বিশিষ্ট আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা





পাঠকের মতামত