জাহাঙ্গীর আলম আনসারী, সিনিয়র রিপোর্টার
প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬ ৪:১৩ পিএম

প্রবাসী আয়কে শুধু দেশে পাঠানো অর্থ হিসেবে নয়, বরং উৎপাদনশীল বিনিয়োগের শক্তিশালী উৎসে পরিণত করতে চায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্স পিএলসি। প্রবাসীদের সঞ্চয়কে নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগে যুক্ত করতে ‘বীর’ নামে বিশেষ এনআরবি প্ল্যাটফর্ম চালুর পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক সেবা, এসএমই ও নারী উদ্যোক্তা অর্থায়ন, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং সুশাসনভিত্তিক ব্যবসায়িক কৌশলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমান আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জ, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ এবং আগামী দিনের ভিশন নিয়ে বাণিজ্য প্রতিদিনের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়সার হামিদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিদিনের অর্থনৈতিক প্রতিবেদক জাহাঙ্গীর আলম আনসারী।

বাণিজ্য প্রতিদিন: বাংলাদেশের নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিডি ফাইন্যান্সের বর্তমান আর্থিক অবস্থান ও ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

কায়সার হামিদ: বাংলাদেশের ফাইন্যান্স কোম্পানি ও সামগ্রিক ব্যাংকিং খাত আজ একটি সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। উচ্চ তহবিল ব্যয়, তারল্য সংকট, মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সর্বোপরি আস্থার সঙ্কটের মতো নানা বাস্তবতা আমাদের সামনে রয়েছে। তবে আমি সবসময় বিশ্বাস করি; প্রতিটি সংকটের মধ্যেই নতুন সম্ভাবনার জন্ম হয়। বাংলাদেশ ফাইন্যান্স পিএলসি শুরু থেকেই সংখ্যাত বা নাম্বারের চেয়ে গুণগত প্রবৃদ্ধিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। আমাদের অগ্রাধিকার সবসময় ছিল সুশাসন, শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা এবং গ্রাহকের আস্থা অর্জন। গত কয়েক বছরে আমরা আমাদের ঋণ পোর্টফোলিওর গুণগত মান উন্নয়ন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, আমানত ভিত্তি শক্তিশালীকরণ এবং পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। এর ইতিবাচক ফলও আমরা পাচ্ছি। আমার কাছে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় মূলধন শুধু তার ব্যালেন্স শিট নয়; বরং মানুষের আস্থা। সেই আস্থা অর্জন ও ধরে রাখাই বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি।

বাণিজ্য প্রতিদিন: রেমিট্যান্সভিত্তিক আর্থিক সেবা সমপ্রসারণে বিডি ফাইন্যান্সের বর্তমান কার্যক্রম কী? প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কোনো আর্থিক পণ্য বা সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে কি?

কায়সার হামিদ: প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক আয় শুধু দেশে প্রেরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে উৎপাদনশীল বিনিয়োগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ফাইন্যান্স পিএলসি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বীর নামে একটি বিশেষ এনআরবি সেবা চালু করেছে, যা তাঁদের সঞ্চয়কে নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগে রূপান্তর করার সুযোগ দিচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি আকর্ষণীয় আমানত ও বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করে আসছে। ভবিষ্যতে আমরা আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং সহজলভ্য এনআরবি সেবা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছি, যাতে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে সহজেই বিনিয়োগ করা এবং বিভিন্ন আর্থিক সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হয়। এছাড়াও, প্রবাসীদের প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ সঞ্চয়পণ্য, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্মকে আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর করার লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

বাণিজ্য প্রতিদিন: ব্যাংকের তুলনায় একটি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের প্রধান প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা কী? গ্রাহক কেন আপনাদের সেবা বেছে নেবেন?

কায়সার হামিদ: আমি সবসময় বলি, আমরা শুধু অর্থায়ন করি না; আমরা আমাদের গ্রাহকের ব্যবসায়িক যাত্রার একজন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হতে চাই। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের অন্যতম শক্তি হলো দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমাইজড আর্থিক সমাধান এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার সক্ষমতা। আমরা কোনো ব্যবসাকে শুধু জামানত দিয়ে মূল্যায়ন করি না; বরং তার ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, নগদ প্রবাহ, ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকেও সমান গুরুত্ব দিই। অভিজ্ঞ জনবল, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, শক্তিশালী করপোরেট সুশাসন এবং সর্বোপরি গ্রাহকের প্রতি দায়বদ্ধতাই আমাদের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে।

বাণিজ্য প্রতিদিন: এসএমই, নারী উদ্যোক্তা এবং স্টার্টআপ অর্থায়নে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের বর্তমান অগ্রাধিকার কী? এই খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে কী ধরনের কৌশল নেওয়া হয়েছে?

কায়সার হামিদ: বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে এসএমই খাত। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশ এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে এই খাতের বিকল্প নেই। তাই এসএমই অর্থায়নকে আমরা শুধু একটি ব্যবসায়িক সুযোগ হিসেবে দেখি না; বরং এটি জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নে আমাদের দায়িত্বের অংশ বলে মনে করি। একইভাবে নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সম্ভাবনাময় নতুন উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোও আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। আগামী দিনে প্রযুক্তিনির্ভর ক্রেডিট মূল্যায়ন, দ্রুত ঋণ অনুমোদন, শিল্পভিত্তিক আর্থিক সমাধান এবং পরামর্শভিত্তিক সেবার মাধ্যমে এই খাতে আমাদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, একজন সফল উদ্যোক্তা শুধু নিজের ব্যবসাই বড় করেন না; তিনি দেশের অর্থনীতিকেও এগিয়ে নিয়ে যান।

বাণিজ্য প্রতিদিন: বর্তমান উচ্চ সুদের হার, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ঋণের গুণগত মান ও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স কীভাবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা করছে?

কায়সার হামিদ: বর্তমান বাস্তবতায় ঋণ বিতরণের চেয়ে ঋণের গুণগত মান নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শুরু থেকেই এই নীতিতে বিশ্বাস করি যে, একটি ভালো ঋণই একটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করে। তাই ঋণ অনুমোদনের আগে আমরা শুধু জামানত নয়, বরং গ্রাহকের ব্যবসার প্রকৃতি, নগদ প্রবাহ, ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা, শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং ঝুঁকির মাত্রা গভীরভাবে মূল্যায়ন করি। ঋণ বিতরণের পরও নিয়মিত মনিটরিং, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং সময়োপযোগী পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আমাদের লক্ষ্য ঋণের পরিমাণ বাড়ানো নয়; বরং একটি সুস্থ, টেকসই ও লাভজনক ঋণ পোর্টফোলিও গড়ে তোলা। আমি বিশ্বাস করি, দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির সঠিক ব্যবস্থাপনাই একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক শক্তি।

বাণিজ্য প্রতিদিন: ডিজিটাল ফাইন্যান্স এবং অনলাইন ঋণসেবার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা সমপ্রসারণে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের নতুন উদ্যোগগুলো কী?

কায়সার হামিদ: ডিজিটাল ট্রান্সফরমিশন বা অটোমেশন এখন আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়; এটি বর্তমানের বাস্তবতা। আগামী দিনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তির ওপরই দাঁড়াবে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্স সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ধারাবাহিকভাবে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে। আমরা গ্রাহকের পুরো যাত্রাপথকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে ডিজিটাল অনবোর্ডিং, অনলাইন অ্যাকাউন্ট ওপেনিং, ইলেকট্রনিক ডকুমেন্টেশন, দ্রুত ঋণ প্রক্রিয়াকরণ এবং উন্নত ডিজিটাল কাস্টমার সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করছি। ভবিষ্যতে ডেটা অ্যানালিটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (অও) এবং বিকল্প তথ্যভিত্তিক ক্রেডিট মূল্যায়নের ব্যবহার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে গ্রাহক আরও দ্রুত ও নির্ভুল সেবা পান। তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা এবং তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করাকেও আমরা সমান গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ প্রযুক্তির ভিত্তি যতটা উদ্ভাবন, তার চেয়েও বেশি আস্থা।

বাণিজ্য প্রতিদিন: দেশে শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রয়োজন বাড়ছে। এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স কোন কোন খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

কায়সার হামিদ: বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আগামী পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলে উৎপাদনশীল খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বিকল্প নেই। আমরা বিশেষভাবে উৎপাদনশীল শিল্প, এসএমই, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষিভিত্তিক শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এছাড়া দেশের শিল্পখাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে বিদেশি তহবিল, গ্রিন ফাইন্যান্স এবং টেকসই অর্থায়নের সুযোগ সমপ্রসারণেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। আমার বিশ্বাস, একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সফলতা শুধু মুনাফা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না; দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার অবদান দিয়েও বিচার করা উচিত।

বাণিজ্য প্রতিদিন: গ্রাহকদের আস্থা ও করপোরেট সুশাসন শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স কী ধরনের নীতিমালা ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে?

কায়সার হামিদ: একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তার মূলধন নয়; তার গ্রাহকের আস্থা। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সে আমরা সবসময় ট্রাস্ট, ফেইথ অ্যান্ড কনফিডেন্স; এই তিনটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা এবং কঠোর কমপ্লায়েন্স সংস্কৃতি আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের ভিত্তি। বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি ও সকল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করার পাশাপাশি আমরা অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও শক্তিশালী করেছি। আমি বিশ্বাস করি, আস্থা অর্জন করা কঠিন, কিন্তু হারানো খুব সহজ। তাই প্রতিটি সিদ্ধান্তে আমরা দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বাসকে স্বল্পমেয়াদি লাভের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই।

বাণিজ্য প্রতিদিন: বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন নীতিগত পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স কীভাবে নিজেদের ব্যবসায়িক কৌশল পুনর্বিন্যাস করছে?

কায়সার হামিদ: নিয়ন্ত্রক পরিবর্তনকে আমরা কখনো বাধা হিসেবে দেখি না; বরং নিজেদের আরও দক্ষ ও শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে দেখি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা আমাদের মূলধন পরিকল্পনা, তারল্য ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি কাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে ধারাবাহিকভাবে উন্নত করছি। একই সঙ্গে বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী নতুন আর্থিক পণ্য, ডিজিটাল সেবা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সমাধান তৈরি করছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো নয়; বরং পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়া।

বাণিজ্য প্রতিদিন: আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সকে আপনি কোথায় দেখতে চান? বিশেষ করে রেমিট্যান্স-সংশ্লিষ্ট সেবা, এসএমই অর্থায়ন, ডিজিটাল ফাইন্যান্স এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে আপনার দীর্ঘমেয়াদি ভিশন কী?

কায়সার হামিদ: আমাদের লক্ষ্য, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স পিএলসি শুধু একটি সফল আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং দেশের অন্যতম আস্থাভাজন, উদ্ভাবনী এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চাই, যেখানে গ্রাহক শুধু একটি আর্থিক সেবা পাবেন না; বরং একজন দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক অংশীদার পাবেন। ডিজিটাল রূপান্তর, টেকসই অর্থায়ন, এসএমই উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আধুনিক আর্থিক সেবা এবং আন্তর্জাতিক মানের করপোরেট সুশাসনের মাধ্যমে আমরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে চাই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতের সফল প্রতিষ্ঠান হবে সেই প্রতিষ্ঠান, যারা মানুষের আস্থা অর্জন করবে, প্রযুক্তিকে কাজে লাগাবে এবং সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের প্রতিটি পদক্ষেপ সেই লক্ষ্যেই পরিচালিত হবে।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ঘাটতি: সুযোগের বাজারে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ, কী হতে পারে উত্তরণের পথ?

বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাঁচ দশক পূর্তি এমন এক সময়ে উদযাপিত হচ্ছে, যখন দুই ...