
ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত নদীভাঙনের করাল গ্রাস থেকে রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নসহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলকে রক্ষায় কুড়িগ্রামের উলিপুরের সাহেবের আলগা থেকে রাজিবপুরের মোহনগঞ্জ পর্যন্ত স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ। একই সঙ্গে নদীভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার বিকেলে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের পাইকান্টারী বল্লভপাড়া এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ, রাজিবপুর উপজেলা শাখা। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য নারী-পুরুষ, প্রবীণ, যুবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ, রাজিবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কুড়িগ্রাম জেলা সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।
তিনি বলেন, “চরের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ছাড়া কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম দুর্বলতার কারণে চরাঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। নাজুক শিক্ষাব্যবস্থার ফলে বাল্যবিবাহ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার কারণে প্রতিবন্ধী শিশু জন্মের ঝুঁকিও বাড়ছে। বর্তমানে কুড়িগ্রামে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা প্রায় এক লাখ।”
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ব্রহ্মপুত্রের বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার পরিবার এক চর থেকে অন্য চরে স্থানান্তর হতে বাধ্য হয়। গত পাঁচ বছরে সর্বস্ব হারিয়ে টিকে থাকতে না পেরে প্রায় ৬ হাজার পরিবার ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রাম জেলায় প্রায় সাড়ে চারশ থেকে পাঁচশ চর রয়েছে। এসব চরের মানুষ বছরের পর বছর নদীভাঙন, বন্যা, খরা ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে একপ্রকার যুদ্ধ করে বেঁচে আছেন।
তিনি বলেন, “চরের মানুষের একটাই দাবি—নদীভাঙন রোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা। বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সরকার ক্ষতিপূরণ দেয়। অথচ আমাদের দেশে নদীভাঙনে বাড়ি-ভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে সেই জমি সরকারি খাস হিসেবে গণ্য হয়। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা এবং স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ গ্রহণে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
সমাবেশ থেকে বক্তারা কুড়িগ্রামের উলিপুরের সাহেবের আলগা থেকে রাজিবপুরের মোহনগঞ্জ পর্যন্ত প্রস্তাবিত প্রায় সাড়ে ৮০০ কোটি টাকার স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।
একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, নদীভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর কার্যকর ভূমিকার অভাব রয়েছে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আদলে একটি পৃথক ‘চর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবি জানান বক্তারা। তারা বলেন, দেশের ৩২টি জেলার ১০০টি উপজেলার প্রায় দেড় কোটি চর ও নদীপাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষায়িত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু দারদা হেলাল, ওয়াজেদ আলী ঝিনুক, চিলমারী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুল হক, রাজিবপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান মাস্টার, মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম আনু, সাংবাদিক হাবিবুর রহমানসহ ভাঙনকবলিত এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বক্তব্য
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ বিভিন্ন নদীর ৪২টি ভাঙন পয়েন্টে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ লাখ ২২ হাজার বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে জরুরি প্রতিরোধমূলক কাজ করা হয়েছে। এছাড়া নতুন করে আরও ৬টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই সেখানে প্রতিরোধকাজ শুরু করা হবে।
জেলা প্রশাসনের বক্তব্য
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যাতে আরও দুর্ভোগে না পড়েন, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তাৎক্ষণিক ভাঙন প্রতিরোধে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে ১ লাখ ৭৪ হাজার বালুভর্তি জিওব্যাগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত ভাঙনে প্রতিদিনই হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের বসতভিটা, আবাদি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জীবিকার শেষ সম্বল। তাই ভাঙনকবলিত মানুষের প্রত্যাশা—অস্থায়ী প্রতিরোধ নয়, দ্রুত বাস্তবায়ন হোক স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প; নিরাপদ হোক চরাঞ্চলের মানুষের জীবন, ফিরুক বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা।
এনজে
- ১ইসলামিক ফাইন্যান্সে এমডি নিয়োগ
- ২ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে নিঃস্ব হাজারো পরিবার, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি
- ৩কুমারখালিতে ৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ বাসের সুপারভাইজার আটক
- ৪চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন
- ৫ফুটবল খেলতে গিয়ে ডোবায় পড়ে শিশুর মৃত্যু
- ৬পাকিস্তানে থানার সামনে আত্নঘাতী হামলায় ১৪ জন নিহত
- ৭ইরানের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
- ৮তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রী
- ৯কুড়িগ্রামে বগুড়া দই ঘরে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান
- ১০জুলাই বিপ্লব ফরাসি বিপ্লবের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়: রুহুল কবির রিজভী
- ১প্রাইজবন্ডের ১২৪তম ড্র আজ, প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ টাকা
- ২নালিতাবাড়ীতে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন
- ৩চাঁদপুর মাছঘাটে ইলিশের ডিমের কেজি ৬ হাজার টাকা
- ৪নবীনগরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় আলোচিত ব্যক্তি গ্রেপ্তার
- ৫বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা নেই: মহাসচিব
- ৬পুলিশ কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ৭জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসকে ঘিরে যবিপ্রবিতে যত আয়োজন
- ৮দুবাইয়ের কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন বেনজীর
- ৯নতুন প্রজন্মকে কুরআনের আদর্শে গড়তে আল ওয়াহদা ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী আয়োজন
- ১০সরকারের প্রধান লক্ষ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি: আমিনুল হক





পাঠকের মতামত