জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬ ২:৪৫ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে জোরপূর্বক হোসেন মিয়া নামে এক বৃদ্ধের জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর উত্তর পাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ হোসেন মিয়া আদালতে মামলা করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন-কাশিনগর গ্রামের বাসিন্দা বকুল মিয়া ও তার স্ত্রী মাফিয়া বেগম, বকুল মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া এবং হেকিম মিয়ার মেয়ে রুনা বেগম।

মামলা, দলিলপত্র ও খতিয়ান সূত্রে জানা যায়, গত ২৩/০৩/২০০২ ইং তারিখে ২৩১৩ নং সাফ কাবলা দলিল মূলে মোঃ হোসেন মিয়া ৪৮৪ দাগে ১৫ শতক মোড়া বাড়ি মোঃ রফিকের কাছ থেকে ক্রয় করেন। উল্লেখ্য, মোঃ রফিক ১৯৮৮ সালে সাফ কাবলা দলিল মূলে খরিদ সূত্রে উক্ত জায়গার মালিক। হোসেন মিয়া পেশাগত কারনে স্ত্রী-সন্তানসহ চট্টগ্রাম চলে যাওয়ায় তাদের অনুপস্থিতিতে প্রতিপক্ষ বকুল মিয়া ও মাফিয়া বেগম গংরা স্থানীয় একদল প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের সহযোগিতায় জায়গাটি দখলে নিয়ে সেখানে দুইটি ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। মাফিয়া বেগম ও তার সহযোগীরা প্রতারনার উদ্দেশ্যে হোসেন মিয়ার স্বাক্ষর জাল করে ১০০/-টাকা মূল্যের ১ ফর্দ নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা নিজেরা তৈরি করে জমির মালিকানা দাবি করছে। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার বিচার শালিশ করেও জায়গা উদ্ধার করতে না পেরে আদালতে উচ্ছেদ মামলা দায়ের করেন হোসেন মিয়া।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী হোসেন মিয়া বলেন, “রফিক মিয়ার কাছ থেকে ২০০২ সালে আমি ১৫ শতক জায়গা কিনছি।দলিল করার কিছুদিন পর পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম চলে যায়। চট্টগ্রাম যাওয়ার পর মাফিয়া, রুনা ও বকুল আমার জায়গায় থাকছে। থাইকা দুইজন দুইটি ঘর তুলছে। ৫/৬ বছর পর চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে ফিরে আসার পর তাদেরকে বলছি আমার জায়গা থেকে উঠো। তখন তারা বলে জায়গা ছাড়বেনা, তারা নাকি জায়গা কিনছে। কোর্টে মামলা করছি। আমার জায়গা উদ্ধারের জন্য সরকার, দেশবাসী ও প্রশাসনের সহযোগিতা চায়।”

হোসেন মিয়ার ছেলে শাহীন মিয়া বলেন, “হেকিমের কাছে এক শতক জায়গা বিক্রি করবে বলে খালি স্ট্যাম্পে সাইন করে ৮ হাজার টাকা নিয়েছিল আমার বাবা। বাজারে ৪/৫ জন লোকের সামনে খালি স্ট্যাম্পে হেকিম আমার বাবার সাইন রেখেছিল পরবর্তীতে লিখবে বলে। বাড়িতে এসে ওই খালি স্ট্যাম্পটা হেকিম তার স্ত্রী মাফিয়া বেগমের কাছে দেয়। হেকিমের সাথে মাফিয়া বেগমের ডিভোর্স হয়ে যায়। মাফিয়া বেগম তার সাবেক স্বামী হেকিমের কাছ থেকে খালি স্ট্যাম্পটি চুরি করে নিয়ে এসে সেখানে ১২.৫ শতক যায়গা ও সাড়ে তিন লাখ টাকা তাদের মনমতো লিখছে। আমরা তাদের কাছে কোনো জায়গা বিক্রি করিনি। আমার বাবা হোসেন মিয়ার নামে জায়গার দলিল, নামজারি-খতিয়ান আছে। ভূমি অফিসে খাজনা ও পরিশোধ করছি নিয়মিত৷ মাফিয়া বেগম ও তার বর্তমান স্বামী বকুলের নেতৃত্বে কয়েকদিন পরপর লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে মারধর করে। বসত ঘরে তালা লাগিয়ে দেয়, চলাচলের রাস্তাও দখল করে বন্ধ করে দিয়েছে।”

অভিযুক্ত মাফিয়া বেগম বলেন, “জায়গা আমি কিনে রাখছি। আমাকে দলিল করে দিবে বলছিল। ২৫-২৬ বছর আগে কিনছি। আমার জায়গা হইলো সাড়ে ১২ শতক। একবার বেচছে সাড়ে ৬ শতক, পরে বেচছে ৩ শতক, এর পরে বেচছে আবার পৌনে ২শতক। মোট তিনবারে সাড়ে ১২ শতক বিক্রি করছে৷ আমার মেয়েকে কিনে দিছি আমিও কিনছি। স্ট্যাম্প ও আমার নামেই হইছে। তিনবারে কিনে একটা স্ট্যাম্প করছি।”

এনজে

শেয়ার

পাঠকের মতামত

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে নিঃস্ব হাজারো পরিবার, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি

ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত নদীভাঙনের করাল গ্রাস থেকে রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নসহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলকে রক্ষায় কুড়িগ্রামের উলিপুরের ...