ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬ ২:১৬ পিএম

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থেকে শাহজাদপুর পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উঁচু করতে সড়কের ওপর মাটি ফেলার দুই বছর পরও তা পাকা করা হয়নি। ফলে বর্ষায় কাদা, শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি এবং বড় বড় খানাখন্দে দুর্ভোগে পড়েছেন দুই উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

দুই বছরেও পাকা হয়নি সড়ক

প্রায় ছয় বছর আগে যমুনা নদীর তীর ঘেঁষে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এনায়েতপুরের মণ্ডলপাড়া থেকে শাহজাদপুরের আহমেদপুর পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার বাঁধ-সড়ক নির্মাণ করা হয়। তবে দুই বছর আগে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উঁচু করার অংশ হিসেবে সড়কের ওপর মাটি ফেলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরপর আর সড়কটি পাকা করা হয়নি।

বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

রোগী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি

এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দুই উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এনায়েতপুর হাসপাতালে আসা রোগী, হাটের তাঁত ব্যবসায়ী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে কাদায় পরিণত হয়। তখন হাঁটা বা যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে পোশাক নষ্ট হচ্ছে। পুরো সড়কজুড়ে কাদা ও গর্ত থাকায় চলাচল চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারা আরও জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহনের চাকা, রিং, চেসিসসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মেগা প্রকল্পের কথা বলছে সওজ

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) জানিয়েছে, শুধু এই সড়ক নয়, সিরাজগঞ্জের ছয়দাবাস থেকে এনায়েতপুর হয়ে পাবনা পর্যন্ত তিনটি সড়কের সমন্বয়ে ১ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি আধুনিক মহাসড়ক নির্মাণের মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

সওজের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ২৫ কিলোমিটার সড়ক নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও অঙ্গীকারের আলোকে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত অনুমোদনের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

দ্রুত সংস্কারের দাবি

তবে মেগা প্রকল্পের কাজ কবে শুরু হবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী মানুষের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে এনায়েতপুর-শাহজাদপুরের ২৯ কিলোমিটার সড়কটি দ্রুত সংস্কার বা পাকাকরণের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করা হোক।

এনজে

শেয়ার

পাঠকের মতামত

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে নিঃস্ব হাজারো পরিবার, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি

ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত নদীভাঙনের করাল গ্রাস থেকে রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নসহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলকে রক্ষায় কুড়িগ্রামের উলিপুরের ...