ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬ ৭:৪৫ পিএম , আপডেট: জুলাই ৪, ২০২৬ ৭:৪৭ পিএম

বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ প্রায় অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের দ্বারপ্রান্তে। গত দুই দশকে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, প্রবাসী আয়, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিস্তৃতির ফলে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধির ভিত কতটা ঝুঁকিমুক্ত ও টেকসই—সেই প্রশ্নও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

একটি আধুনিক অর্থনীতির আর্থিক কাঠামো মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে—ব্যাংকিং খাত, পুঁজিবাজার এবং বীমা খাত। ব্যাংক অর্থনীতিতে তারল্য সরবরাহ করে, পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করে, আর বীমা খাত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার নিয়ে যত আলোচনা হয়, বীমা খাত ততটাই নীতিনির্ধারণী অগ্রাধিকারের বাইরে থেকে যায়। অথচ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বীমার ভূমিকা অপরিসীম।

বীমা কেবল একটি ব্যবসা নয়; এটি একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। মৃত্যু, দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অসুস্থতা, ব্যবসায়িক ক্ষতি কিংবা সম্পদের বিনাশের মতো অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে বীমা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি আর্থিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। উন্নত বিশ্বে বীমাকে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো বিপুল জনগোষ্ঠী বীমার আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

বাংলাদেশে বীমা শিল্পের ইতিহাস দীর্ঘ। ব্রিটিশ আমলে কলকাতা ভিত্তিক বিভিন্ন বিদেশি বীমা প্রতিষ্ঠান তৎকালীন পূর্ববঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করত। পাকিস্তান আমলেও এ অঞ্চলে বীমা কার্যক্রম চালু ছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সরকার বীমা খাত জাতীয়করণ করে জীবন বীমা কর্পোরেশন এবং সাধারণ বীমা কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে অর্থনীতির উদারীকরণের অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতের জন্য বীমা ব্যবসা উন্মুক্ত করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে দেশে অসংখ্য জীবন ও সাধারণ বীমা কোম্পানি গড়ে ওঠে।

বর্তমানে দেশে ৮০টিরও বেশি বীমা কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ৩০টির বেশি জীবন বীমা এবং প্রায় ৫০টি সাধারণ বীমা কোম্পানি রয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি প্রতিষ্ঠানও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সংখ্যাগতভাবে খাতটি বড় হলেও আর্থিক শক্তি, করপোরেট সুশাসন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং জনআস্থার বিচারে এখনও অনেক পিছিয়ে।

বিশ্বব্যাপী বীমা শিল্পের উন্নয়ন পরিমাপের অন্যতম সূচক হলো ‘ইনস্যুরেন্স পেনিট্রেশন’ বা জিডিপির তুলনায় মোট বীমা প্রিমিয়ামের হার। উন্নত দেশগুলোতে এই হার ৬ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে। যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে বীমা অর্থনীতির একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এমনকি ভারত, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো উদীয়মান অর্থনীতিতেও এই হার বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু বাংলাদেশে ইনস্যুরেন্স পেনিট্রেশন এখনও ১ শতাংশেরও নিচে। অর্থাৎ দেশের অধিকাংশ মানুষ কোনো ধরনের আর্থিক ঝুঁকি সুরক্ষার আওতায় নেই।

মাথাপিছু বীমা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় পিছিয়ে। এই বাস্তবতা যেমন হতাশাজনক, তেমনি এটি একটি বিশাল সম্ভাবনারও ইঙ্গিত দেয়। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশে জীবন, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, সম্পদ, পরিবহন, জলবায়ু ঝুঁকি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বীমার বিপুল বাজার এখনও অনেকাংশে অনাবিষ্কৃত।

বীমা খাতের সবচেয়ে বড় সংকট হলো জনআস্থার অভাব। দীর্ঘদিন ধরে দাবি নিষ্পত্তিতে বিলম্ব, আর্থিক অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, এজেন্টদের অতিরঞ্জিত প্রতিশ্রুতি এবং গ্রাহক হয়রানির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেন, পলিসি বিক্রির সময় যত সহজ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সময় তত জটিলতা সৃষ্টি হয়। ফলে জনগণের একটি বড় অংশ বীমাকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সুরক্ষা নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে।

এই আস্থাহীনতা দূর করা ছাড়া বীমা শিল্পের বিকাশ সম্ভব নয়। ব্যাংকের শক্তি যেমন আমানতকারীর বিশ্বাস, তেমনি বীমা শিল্পের শক্তি পলিসিধারীর আস্থা। তাই দ্রুত দাবি নিষ্পত্তি, গ্রাহকবান্ধব সেবা এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

বীমা শিল্পের আরেকটি বড় দুর্বলতা হলো দক্ষ মানবসম্পদের সংকট। বর্তমানে কয়েক লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খাতের সঙ্গে জড়িত থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের পেশাদার জনবলের সংখ্যা খুবই সীমিত। বিশেষ করে অ্যাকচুয়ারিয়াল সায়েন্স, আন্ডাররাইটিং, ঝুঁকি মূল্যায়ন, রি-ইনস্যুরেন্স, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল বীমা পরিচালনায় দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি রয়েছে।

উন্নত দেশগুলোতে বীমা খাত অত্যন্ত বিশেষায়িত একটি পেশাগত ক্ষেত্র। সেখানে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সনদের মাধ্যমে পেশাজীবী তৈরি করা হয়। বাংলাদেশে এখনও কমিশনভিত্তিক এজেন্টনির্ভর ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রবণতা বেশি। ফলে পেশাদারিত্বের পরিবর্তে বিক্রয়কেন্দ্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। অথচ সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে এই খাত লাখ লাখ শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হতে পারে।

বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, আর্থিক সেবা খাতের মধ্যে বীমা শিল্প উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম বড় ক্ষেত্র। অর্থনীতি, গণিত, পরিসংখ্যান, ব্যবসায় প্রশাসন, ডাটা অ্যানালিটিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষিত তরুণদের জন্য এ খাতে ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য কৃষি বীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, নদীভাঙন ও অতিবৃষ্টির কারণে কৃষি খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। কৃষকদের অধিকাংশই এসব ক্ষতি নিজস্ব সম্পদ বা ঋণের মাধ্যমে সামাল দিতে বাধ্য হন। ফলে তারা ঋণের দুষ্টচক্রে আটকে পড়েন। কার্যকর কৃষি বীমা চালু করা গেলে কৃষকের ঝুঁকি কমবে, উৎপাদন বাড়বে এবং খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

একইভাবে স্বাস্থ্য বীমার ক্ষেত্রেও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হয়। একটি বড় অসুস্থতা অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারকে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেয়। উন্নত দেশগুলোতে স্বাস্থ্য বীমা সামাজিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বীমা শিল্পের আরেকটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হলো ইসলামী বীমা বা তাকাফুল। দেশের ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাকাফুলের প্রতি আগ্রহ ক্রমবর্ধমান। তবে এই ব্যবস্থাকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে হলে আন্তর্জাতিক মানের শরিয়াহ গভর্ন্যান্স, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র নামের আগে ‘ইসলামী’ শব্দ ব্যবহার করলেই হবে না; বিনিয়োগ ও পরিচালনার প্রতিটি স্তরে শরিয়াহসম্মত নীতিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রযুক্তি বীমা শিল্পের রূপ পাল্টে দিচ্ছে। বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডাটা, ব্লকচেইন, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ইনসুরটেক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বীমা সেবা আরও সহজ ও দ্রুত করা হচ্ছে। বর্তমানে অনেক দেশে কয়েক মিনিটের মধ্যে মোবাইল ফোনে বীমা পলিসি গ্রহণ, দাবি দাখিল এবং ক্ষতিপূরণ নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছে। বাংলাদেশেও ডিজিটাল বীমার যাত্রা শুরু হয়েছে, কিন্তু তা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।

এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ইন্সুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (আইডিআরএ)’-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র লাইসেন্স প্রদান নয়, বরং কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, সলভেন্সি রেশিও, করপোরেট সুশাসন এবং গ্রাহক স্বার্থ রক্ষার বিষয়েও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং পলিসিধারীদের জন্য কার্যকর সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

বীমা খাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দীর্ঘমেয়াদি তহবিল গঠন। বিশ্বের উন্নত অর্থনীতিগুলোতে বীমা কোম্পানিগুলো অবকাঠামো, বন্ড, পুঁজিবাজার এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পে বড় বিনিয়োগকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশেও যদি বীমা শিল্পকে শক্তিশালী করা যায়, তাহলে এটি জাতীয় সঞ্চয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অর্থায়নের অন্যতম উৎসে পরিণত হতে পারে।

পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ভবিষ্যতের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় শক্তিশালী বীমা খাত অপরিহার্য। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও একটি নির্ভরযোগ্য বীমা ব্যবস্থাকে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করে।

বাংলাদেশ যখন স্মার্ট অর্থনীতি, উন্নত রাষ্ট্র এবং উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বীমা খাতকে আর অবহেলা করার সুযোগ নেই। প্রয়োজন আস্থার পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, স্বাস্থ্য ও কৃষি বীমার সম্প্রসারণ এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

বস্তুত, বীমা শিল্পের সামনে আজ দুটি পথ খোলা রয়েছে। একটি পথ হলো সীমাবদ্ধতা, দুর্বলতা ও আস্থাহীনতার বর্তমান অবস্থায় আটকে থাকা; অন্যটি হলো সংস্কার, পেশাদারিত্ব ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভে পরিণত হওয়া। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, জলবায়ু ঝুঁকি, শিল্পায়নের গতি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রয়োজন বিবেচনায় দ্বিতীয় পথটিই সময়ের দাবি।

অতএব, বীমা খাতকে কেবল একটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আস্থা ফিরিয়ে এনে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারলে বীমা শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে। তখন বীমা কেবল কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধির মাধ্যম হবে না; বরং সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পদ ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার নির্ভরযোগ্য রক্ষাকবচে পরিণত হবে। এটাই হওয়া উচিত আগামী দিনের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

লেখক : মোঃ সহিদুল ইসলাম সুমন
অর্থনীতি বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক।
Email : msislam.sumon@gmail.com

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ঘাটতি: সুযোগের বাজারে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ, কী হতে পারে উত্তরণের পথ?

বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাঁচ দশক পূর্তি এমন এক সময়ে উদযাপিত হচ্ছে, যখন দুই ...

বাণিজ্য ঘাটতির বাড়ন্ত চাপ: কাঠামোগত সংস্কারই টেকসই অর্থনীতির একমাত্র পথ

বাংলাদেশের অর্থনীতি গত দেড় দশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আলোচিত প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। মাথাপিছু আয় ...

কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনার সামনে বাংলাদেশ: দরকার সরকারের কার্যকর নীতি সহায়তা

বাংলাদেশে তরুণ বেকার জনশক্তির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং বিভিন্ন সংস্থা ভিন্নভাবে হিসাব ...