কাজী সাজেদুর রহমান
প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬ ১০:৩৯ এএম

বাংলাদেশে তরুণ বেকার জনশক্তির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং বিভিন্ন সংস্থা ভিন্নভাবে হিসাব করে। তবে সাম্প্রতিক শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী দেশে মোট বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৬ থেকে ২৭ লাখের মধ্যে, যার বড় অংশই তরুণ জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বিভিন্ন জরিপ ও শ্রমবাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যেই বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে এই হার আরও উদ্বেগজনক। অনেক গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পাস করা বিপুলসংখ্যক তরুণ দীর্ঘ সময় চাকরি পাচ্ছেন না বা তাদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ পাচ্ছেন না। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ। এই বিশাল যুবশক্তি দেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হলেও কর্মসংস্থানের অভাবে তা অর্থনীতির জন্য চাপেও পরিণত হচ্ছে। সরকারি চাকরির সীমিত সুযোগ, বেসরকারি খাতে কম বেতন, শিল্প বিনিয়োগের ধীরগতি এবং দক্ষতা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে অসামঞ্জস্য—এসব কারণে তরুণ বেকারত্ব বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রকৃত বেকারত্বের চিত্র সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় হতে পারে। কারণ অনেক তরুণ আংশিক কাজ, অনিয়মিত আয় বা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যুক্ত থাকলেও বাস্তবে তারা স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের বাইরে রয়ে গেছে। ফলে “আন্ডারএমপ্লয়েমেন্ট” বা অপ্রতুল কর্মসংস্থানও বাংলাদেশের বড় সমস্যা। বাংলাদেশ আজ এমন এক অর্থনৈতিক বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে একদিকে রয়েছে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ। এই দুই বাস্তবতার মধ্যে সঠিক সমন্বয় ঘটাতে পারলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী উৎপাদন ও সেবা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। কিন্তু তা সম্ভব হবে কেবল তখনই, যখন সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ব্যবসাবান্ধব নীতি এবং দক্ষ প্রশাসনিক সহায়তার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের পরিবেশ তৈরি করতে পারবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার জনশক্তি। প্রতিবছর লাখ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। এই জনগোষ্ঠী একদিকে যেমন সম্ভাবনা, অন্যদিকে তেমনি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি না হলে বেকারত্ব, সামাজিক হতাশা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়তে পারে। তাই কর্মসংস্থানকে এখন শুধু অর্থনৈতিক বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না; এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। বর্তমানে দেশে কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হলো বিনিয়োগের ধীরগতি। দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখনও নানা প্রশাসনিক জটিলতা, দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া, উচ্চ সুদের হার, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হন। অনেক ক্ষেত্রে একজন উদ্যোক্তাকে একটি কারখানা চালু করতে অসংখ্য অনুমোদন নিতে হয়। এতে সময় যেমন নষ্ট হয়, তেমনি বিনিয়োগ ব্যয়ও বেড়ে যায়। ফলে সম্ভাবনাময় বহু উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগেই থেমে যায়।

এই অবস্থার পরিবর্তনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যবসা সহজীকরণ। সরকার যদি বিনিয়োগকারীদের জন্য “ওয়ান স্টপ সার্ভিস” কার্যকরভাবে চালু করতে পারে, তাহলে উদ্যোক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাবেন। একই সঙ্গে কর কাঠামো সহজ করা, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে আনা জরুরি। কারণ বিনিয়োগের পরিবেশ যত সহজ হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগও তত বাড়বে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় উৎস হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এই খাত এখনও পর্যাপ্ত নীতিগত সহায়তা পায় না। ব্যাংক ঋণ পাওয়া কঠিন, সুদের হার তুলনামূলক বেশি এবং বাজারে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তাও সীমিত। অথচ একটি শক্তিশালী এসএমই খাত লাখো তরুণের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। তাই এই খাতে স্বল্পসুদে ঋণ, কর ছাড় এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া জরুরি। শুধু শিল্প নয়, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, লজিস্টিকস, পর্যটন এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতেও বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা গেলে বাংলাদেশের তরুণরা আন্তর্জাতিক বাজারেও কাজের সুযোগ পেতে পারে। একইভাবে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং শহরমুখী চাপ কমবে। তবে কর্মসংস্থান বাড়াতে শুধু বিনিয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ।

বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থা ও শ্রমবাজারের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা অনেক তরুণ বাস্তব কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেন না। ফলে একদিকে বেকারত্ব বাড়ছে, অন্যদিকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ কর্মী খুঁজে পাচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধানে কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর দেওয়া জরুরি। শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নারীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশে এখনও বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তৈরি পোশাক খাত নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়িয়েছে, কিন্তু এর বাইরেও প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে নারীদের সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সহজ ঋণ সুবিধা এবং প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে অর্থনীতিতে নতুন গতি তৈরি হবে। অবকাঠামো উন্নয়নও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একটি কার্যকর বন্দর, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত সড়ক ব্যবস্থা এবং দ্রুত লজিস্টিকস বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক সময় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদনের চেয়ে পরিবহন ব্যয়েই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অবকাঠামো উন্নয়নকে কর্মসংস্থান নীতির অংশ হিসেবেই দেখতে হবে। এছাড়া নীতিগত ধারাবাহিকতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। বিনিয়োগকারীরা এমন পরিবেশ চান যেখানে হঠাৎ নীতির পরিবর্তন হবে না, কর কাঠামো অস্থির থাকবে না এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পূর্বানুমানযোগ্য হবে। অর্থনৈতিক নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে না পারলে বড় বিনিয়োগ আসবে না।
বাংলাদেশের সামনে এখনো বড় সুযোগ রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে উৎপাদন কেন্দ্র পরিবর্তনের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ নতুন শিল্পায়নের যুগে প্রবেশ করতে পারে।

চীন থেকে অনেক উৎপাদন খাত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্থানান্তরিত হচ্ছে। ভিয়েতনাম এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশও সঠিক নীতি সহায়তা পেলে একই পথ অনুসরণ করতে পারে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি কোনো একদিনের কাজ নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার সমন্বিত ফল। সরকার যদি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, এসএমই খাতকে সহায়তা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীই দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে। অতএব, বাংলাদেশের সামনে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বিশাল। প্রয়োজন শুধু সঠিক নীতি, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ শুধু বেকারত্ব কমাতেই সক্ষম হবে না, বরং একটি শক্তিশালী, উৎপাদনমুখী এবং টেকসই অর্থনীতির ভিত্তিও গড়ে তুলতে পারবে।

বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে তরুণদের শুধু কৃষিকাজে ফিরিয়ে আনলেই হবে না, বরং গ্রামকে একটি আধুনিক উৎপাদন ও উদ্যোক্তা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আজকের তরুণ শুধু ঐতিহ্যগত চাষাবাদে আগ্রহী নয়; তারা প্রযুক্তি, আয়, মর্যাদা এবং স্বাধীনতার সমন্বয় চায়। তাই গ্রামীণ অর্থনীতিকে তরুণবান্ধব করে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রথমত, কৃষিকে লাভজনক করতে হবে। এখনও অনেক তরুণ মনে করেন কৃষি মানেই অনিশ্চিত আয় ও কঠোর পরিশ্রম। এই ধারণা পরিবর্তনের জন্য আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, যান্ত্রিকীকরণ, ড্রিপ সেচ, স্মার্ট ফার্মিং এবং উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনে সহায়তা দিতে হবে। কৃষিকে যদি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায় রূপ দেওয়া যায়, তাহলে তরুণদের আগ্রহ বাড়বে।

দ্বিতীয়ত, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা জরুরি। শুধু ধান বা সবজি উৎপাদন নয়, বরং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, দুগ্ধশিল্প, মাছ সংরক্ষণ, ফল প্রক্রিয়াকরণ এবং প্যাকেজিং শিল্প গ্রামেই গড়ে উঠতে হবে। এতে উৎপাদনের পাশাপাশি বিপণন, পরিবহন, ডিজিটাল মার্কেটিং ও সাপ্লাই চেইনে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তৃতীয়ত, গ্রামে সহজ ঋণ ও স্টার্টআপ সহায়তা প্রয়োজন। অনেক তরুণ ব্যবসা শুরু করতে চাইলেও পুঁজি পান না। জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ, তরুণ উদ্যোক্তা তহবিল এবং প্রশিক্ষণভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থা চালু করা গেলে তারা ছোট উদ্যোগ গড়ে তুলতে পারবেন।

বিশেষ করে কৃষি-স্টার্টআপ, অনলাইন ব্যবসা এবং গ্রামীণ সেবাখাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। চতুর্থত, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত ইন্টারনেট, ই-কমার্স সুবিধা এবং ডিজিটাল প্রশিক্ষণ থাকলে গ্রামের তরুণরাও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করতে পারবেন। বর্তমানে অনেক তরুণ গ্রাম থেকে ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন বিক্রি বা ডিজিটাল সেবা দিয়ে আয় করছেন। এই সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। পঞ্চমত, কারিগরি ও বাস্তবমুখী শিক্ষা বাড়াতে হবে। শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, কৃষিযন্ত্র পরিচালনা, পশুপালন, মৎস্যচাষ, সৌরবিদ্যুৎ, ইলেকট্রিক কাজ, মোবাইল সার্ভিসিং কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো দক্ষতা গ্রামীণ তরুণদের আয়মুখী করে তুলতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—গ্রামীণ অর্থনীতিকে “বেঁচে থাকার অর্থনীতি” থেকে “উৎপাদন ও উদ্যোক্তার অর্থনীতি”তে রূপান্তর করা। তরুণদের যদি মর্যাদা, আয় এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তারাই বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হবে।

লেখক: কাজী সাজেদুর রহমান; ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, বাণিজ্য প্রতিদিন এবং চেয়ারম্যান, কেপিসি ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ঘাটতি: সুযোগের বাজারে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ, কী হতে পারে উত্তরণের পথ?

বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাঁচ দশক পূর্তি এমন এক সময়ে উদযাপিত হচ্ছে, যখন দুই ...

বাণিজ্য ঘাটতির বাড়ন্ত চাপ: কাঠামোগত সংস্কারই টেকসই অর্থনীতির একমাত্র পথ

বাংলাদেশের অর্থনীতি গত দেড় দশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আলোচিত প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। মাথাপিছু আয় ...