
আদিযুগ থেকে সহিংসতার বিষাক্ত সংস্কৃতিতে জড়জড়িত হয়ে আছে সালথা উপজেলা। তুচ্ছ ঘটনায় এখানে প্রতিনিয়ত ঘটে সংঘর্ষের ঘটনা। শত বছর ধরে চলছে এমন পরিস্থিতি । এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় অগনিত ব্যক্তি নিহতসহ আহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। পুঙ্গত্বরবণ করেছে অনেকে। মোট কথা সালথার জনপদ হাজারও মানুষের রক্তে রাঙ্গিয়ে আছে। শুধু তাই নয়- হামলা পাল্টা হামলা চালিয়ে যেসব বসত বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে তার সঠিক কোন হিসাব নেই।
এরমধ্যে গত এক বছরেই সংঘর্ষে নিহত হয়েছে অন্তত ছয় জন। গত বছরের ৪ জুন যদুনন্দী ইউনিয়নের যদুনন্দী গ্রামে সংঘর্ষে নিহত হন ইদ্রিস কারিগর। ২৫ ডিসেম্বর একই গ্রামে সংঘর্ষে নিহত হন গোলাম মাওলা। ২৬ ডিসেম্বর ভাওয়াল ইউনিয়নের নারানদিয়া গ্রামে সংঘর্ষে নিহত হন প্রতিবন্ধী মোহাম্মাদ মাতুব্বর। ২৩ অক্টোবর যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামে সংঘর্ষে নিহত হয় মারিজ শিকদার। ২৮ এপ্রিল সংঘর্ষে যদুনন্দী গ্রামের নান্নু ফকির নিহত হয়। সব শেষ ৫ মে খারদিয়া গ্রামে সংঘর্ষে নিহত হয় সিরাজুল ইসলাম।
এতে এখানকার বাসিন্দারা অর্থনৈতিকভাবে যেমন ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি সামাজিকভাবেও হেয় হয়ে আসছে। শুধুমাত্র সহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য সালথার মানুষকে সারাদেশের মানুষ ঘৃণার চোখে দেখে। এমনকি সালথায় কেউ আত্মীয়ও করতে চায় না। এমন পরিস্থিতি থেকে সালথাকে মুক্ত করতে এক রকম যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন ফরিদপুর পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান। তার নির্দেশে এ যুদ্ধে সামিল হয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার (সালথা-নগরকান্দা সার্কেল) মো. সুমিনুর রহমান ও সালথা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শেখ সাদিক।
তারা দুই জনই সহিংসতা বন্ধে নানান উদ্যোগ নিয়েছেন। রাত-দিন ২৪ ঘন্টা মাঠে নেমে কাজ করছেন। সংঘর্ষের খবর পেলেই গোসল ও খাওয়া-দাওয়া বাদ দিয়ে ছুটে যাচ্ছেন ঘটনাস্থলে। সহিংস পরিবেশ থেকে সকলকে বের করে আনতে পুলিশ সুপার নিজেও একাধিকবার সালথায় এসে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, গ্রাম্য মাতুব্বরসহ বিশিষ্টজনদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। যারা সহিংস কর্মকাণ্ডে লিপ্ত তাদের চরম হুশিয়ারি দিয়ে করে গেছেন সতর্ক। যার ফল হিসেবে সালথার পরিবেশ কিছুটা হলেও পরিবর্তনের দিকে এসেছে। বর্তমানে সংঘর্ষের ঘটনাও অনেকটা কমে গেছে।
সালথা উপজেলার জয়ঝাপ গ্রামের বাসিন্দা মো. রতন মাতুব্বর বলেন- শত বছর ধরে আমাদের এলাকার প্রতিটি গ্রাম নিয়ন্ত্রণ করে আসছে মাতব্বররা। তাদের আধিপত্য ধরে রাখতে এবং প্রভাব বিস্তার টিকিয়ে রাখতে আমাদের মত সাধারন মানুষদের নিয়ে গ্রাম্যদল তৈরী করে সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। আমরা যদি গ্রাম্য দল না করি তাহলে এলাকায় থাকতেও পারি না। তাই কোন না কোন দলে বাধ্য হয়েই আমাদের থাকতে হয়। তবে- শুনেছি আমাদের পুলিশ সুপার মহোদয় নাকি সংঘর্ষের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছেন। তিনি নাকি সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। আমরা তার জন্য দোয়া করি সে যেন সফল হয়।
সালথা বাজারের ভ্যানচালক আবুল বাসার বলেন- আমাদের এসপি স্যার, সার্কেল স্যার ও ওসি স্যার অত্যন্ত সৎ লোক। যেকারণে থানায় এখন মামলা করতে একটি টাকাও লাগে না। তাদের সততার কারণে সাধারন মানুষের থানায় যেতে এখন আর ভয় লাগে না। বর্তমানে তারা যেভাবে সংঘর্ষের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন, এটা অব্যাহত থাকলে এক সময় এমনিতেই সংঘর্ষ থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হবে সালথাবাসী।
স্থানীয় সাংবাদিক মনির মোল্যা ও আবু নাসের হুসাইন বলেন- আগে ফরিদপুরে অনেক পুলিশ সুপার এসেছেন। সালথায় সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তেমন কেউ কঠোর হয়নি। তবে আমাদের পুলিশ সুপার স্যার ফরিদপুর যোগদানের পর থেকে সালথার সহিংস পরিবেশ নজরে এনেছেন। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সহিংসতা নিরসনের। যার অংশ হিসেবে আমরা লক্ষ করছি- প্রায় দিনই এসপির নির্দেশে সহকারী পুলিশ সুপার মো. সুমিনুর রহমান ও ওসি শেখ সাদীক মাঠে নেমে সাধারন মানুষকে সহিংসতায় না জড়াতে নানান পরামর্শ দিচ্ছেন। মতবিনিময় সভার মাধ্যমে করছেন সচেতন। জন-সাধারণের মধ্যে টুকটাক হলেই তৎক্ষানিক মিমাংসা করে দিচ্ছেন। যার ফলে অনেকটা সফলও হয়েছেন এসপি। সংঘর্ষ এখন অনেক কমে গেছে।
নবকাম পল্লী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন- সালথার সহিংস সংস্কৃতি থেকে সকলকে বেরিয়ে আসতে হবে। সালথার জনপদে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশ সুপার সাহেব যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা সত্যিই প্রসংশনীয়। আমি তার সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
ফরিদপুর পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান বলেন- ফরিদপুরের ৯টি উপজেলায় কম বেশি মারামারির ঘটনা ঘটে। তবে সালথায় এর প্রভাবটা বেশি। এখানে স্থানীয় আধিপত্য এবং গ্রাম্য দলাদলির কারণে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মারামারি বা কাইজ্যার ঘটনা ঘটে। পক্ষ প্রতিপক্ষ তৈরী করে বাড়িঘব ভাঙচুরের মাধ্যমে সম্পদের যে ক্ষতি সাধন করা হয়, সেটা আসলে মানুষের অর্থের প্রচণ্ড ক্ষতি হয়। এগুলো থেকে উত্তরণের জন্য আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন- সংঘর্ষ এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। সেটা শুধু আইন প্রয়োগ করে নিরসন করা সম্ভব হবে না। কারণ ইতিমধ্যে অনেক মামলা হয়েছে। সেখানে অনেক হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। অনেক সম্পদের ক্ষতি হয়েছে, অনেক প্রাণহানি হয়েছে। সেই জায়গা থেকে উত্তরণের জন্য সামাজিক উদ্যোগ নিয়েছি। যেখানে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষকে সম্পৃক্ত করার জন্য আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি।
তিনি আরও বলেন- আমরা বিট পুলিশিং কার্যক্রম শুরু করেছি। বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে ছোট ছোট আকারে তাদের উদ্ববুদ্ধ করার করছি যে, এই কাজগুলো করলে আর্থিক, মানসিক, শারিরিক ও সময়ের ক্ষতি হয়। পাশাপাশি আমাদের পুলিশ অফিসাররাও মাঠে নেমে কাজ করছেন। আমি নিজেও স্কুল-কলেজে গিয়ে যুব সমাজকে সচেতন করছি। উঠান বৈঠকের মাধ্যমেও সাধারন মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। এটা চলমান থাকলে আশা করি এক সময় সালথার পরিবেশের পরিবর্তন ঘটবে।
- ১১.৫ বিলিয়ন ডলারে ২১ বোয়িং কিনছে ইউএস-বাংলা, বিশ্ববাজারে বড় লক্ষ্য
- ২বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি জনশক্তি নিতে ব্রুনাইকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধ
- ৩কারখানা চালাতে সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস চায় বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ
- ৪হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
- ৫সোনালী ব্যাংক ও ইবনে সিনা ট্রাস্টের মধ্যে চুক্তি
- ৬সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া নদী-খাল রক্ষা সম্ভব নয়: পানিসম্পদমন্ত্রী
- ৭ইফতেখার আহমেদ শামীমের বেস্টসেলিং উপন্যাস ‘মৃত্যুটা ভীষণ প্রয়োজন’-এর তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশ
- ৮হাসপাতালে দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে
- ৯ভূরুঙ্গামারীতে গাঁজাসেবীর কামড়ে দুই যুবক আহত
- ১০কেএমপির নতুন কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান
- ১রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেলেন ড. সোবহান
- ২প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- ৩জুলাইয়ে অপেক্ষা করতাম, কখন জবির মিছিল আসবে: নাহিদ ইসলাম
- ৪কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সঙ্গে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্টের চুক্তি
- ৫পুলিশ জনগণকে সঙ্গে নিয়েই বাঁচবে, কারও লাঠিয়াল বাহিনী হবে না
- ৬২৭ দিনে রেমিট্যান্স এলো আড়াই বিলিয়ন ডলার
- ৭চাঁদপুরে নদীতে পড়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীর মৃত্যু
- ৮উন্নয়ন কাজে অনিয়ম হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্টেড করা হবে
- ৯হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিসসহ অনেকে আহত
- ১০শেখ হাসিনার লাশও বাংলাদেশের মাটি গ্রহণ করবে না: জবি প্রক্টর





পাঠকের মতামত