জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬ ৯:৪৭ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সৎ মায়ের প্ররোচনায় স্ত্রী-সন্তান সহ যুবককে বসত বাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (১ জুন) উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের হীরাপুর বড় কুড়িপাইকা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী আমিন মিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী আমিন মিয়া বলেন, গত সোমবার রাত আনুমানিক ২.০০ ঘটিকার সময় আমার সৎ মা বিলকিছ বেগম এর প্ররোচনায় আমার পিতা আলী মিয়া, ভাই আলাউদ্দিন প্রকাশ বুদু মিয়া ও তার স্ত্রী শেফালী বেগম এবং আলাউদ্দিনের ছেলে ফাহিম মিয়া সহ অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জন অশ্রু রিহ্যাব সেন্টারের পরিচয় দাতা ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে আমাকে অপহরণের চেষ্টা করে।

অপহরণ করার পর খুন করার উদ্দেশ্যে সাদা মাইক্রো নিয়ে তারা বসত ঘরের সামনে উপস্থিত হয়। আমার বসত ঘরের কেচি গেইটের তালায় নাড়া দেয় এবং আমাকে উচ্চকণ্ঠে ডাকাডাকি করতে থাকিলে আমি ও আমার স্ত্রী ঘর থেকে বের হয়ে গেইটের বাইরে তাদের হাতে রাম দা, কোড়াল, চাইনিজ দা, শাবল নিয়া দাড়িয়ে থাকতে দেখি। তারা লোহার শাবল দিয়ে আমার বসত ঘরের কাঠের দরজা ভেঙ্গে আমাকে অপহরণের চেষ্টা করে। তখন আখাউড়া থানায় ফোন করে জানানোর পর এসআই মুস্তাক ঘটনাস্থলে এসে তাদের হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে।”

আমিন মিয়া আরও বলেন, ‘আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ কোর্টের আইনজীবি সহকারী। আমার মাতা বিগত ০১/০১/২০ইং তারিখে মৃত্যুবরণ করার পর থেকে আমি আমার স্ত্রী ও তিন সন্তানদের নিয়ে আমার মৃতা মায়ের ভিটায় বসবাস করতেছি। আমার পিতা সৎ মায়ের প্ররোচনায় আমার মৃতা মাতার বসত ভিটা জবর দখল করার চক্রান্তের প্রতিবাদ করায় আমাকে প্রাণে হত্যার চেষ্টায় মারপিট করে। এ বিষয়ে আখাউড়া থানায় ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জজ কোর্টে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। ’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে অবস্থিত অশ্রু রিহ্যাব সেন্টারের অন্যতম স্বত্বাধিকারী মোঃ মান্না এ বিষয়ে বলেন, আমিনকে আনতে ৪ জনের একটি টিম পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে মাহফুজ আমাদের স্টাফ। এডভাইজার পদে আছে। আমি বিষয়টা খবর নিছি। আমাদের আরেকজন স্টাফ মাসুম মিয়ার সাথে হয়তো ঐ ভিকটিমের বাবার আর ভাইয়ের কথা হইছিলো। তারা হয়তো পরিচিত। এরপর টিম পাঠাইছে মাসুম। পরে ওখানে গিয়ে এডভোকেট (জহিরুল) যখন বলছে সে বাবা থেকে আলাদা থাকে তখন তারা চলে আসছে।

ভুক্তভোগী আমিনের পিতা আলী মিয়া এ বিষয়ে বলেন, আমার ছোট ছেলে আমিনের নামে সম্পত্তি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় খারাপ ব্যবহার করেছে ও মারতে আসছে কয়েকবার। মাস দুয়েক আগে আমিন তিনটি পেঁপে গাছ কেটে ফেলেছে। এসব বিষয় নিয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে অশ্রু রিহ্যাব এর ৪ জন লোক আনছিলাম।

আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাবেদ উল ইসলাম বলেন, রিহ্যাব এর লোকজন আমাকে জানিয়ে আসেনি। এবিষয়ে আমি কিছু জানি না। এসআই মুস্তাক কে তার ছেলে (আলী মিয়ার ছেলে আমিন) ফোন দিয়েছিল। সে গিয়েছিল, গিয়ে তাদের সাথে কথা বলেছে। ওই রাতে রিহ্যাব এর কোনো লোকজনের সাথে আমার কোনো কথা হয় নাই। ভুক্তভোগী ছেলে আমিন এবিষয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছে। এটা আমরা তদন্ত করতেছি।

রিহ্যাব এর লোকজন পাশবর্তী থানা কে অবগত না করে রাতের অন্ধকারে কাউকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত বাঁধা কিংবা সুযোগ আছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মোঃ জাবেদ উল ইসলাম বলেন, এটা তাদের (রিহ্যাব) নিয়মের মধ্যে আছে কিনা আমার জানা নাই।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

পারিবারিক বিরোধের জেরে তায়েবাকে হত্যার অভিযোগ, ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে আলোচিত শিশু তায়েবা হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পর মামলার তদন্তে চাঞ্চল্যকর ...