
ব্যস্তনগরী ঢাকার একটি মোড়ে যানজটে আকটা পড়ল গাড়ী। দুজন মানুষ গাড়িতে উঠল। তুড়ির শব্দ শুনেই বুজার বাকি রইলনা তারা কারা। বাংলা অভিধানের শব্দ অনুযায়ী তারা ‘হিজড়া‘। আর রাষ্ট্রের খাতায় তাদের পরিচয় লিখা রয়েছে ‘হিজড়া লিঙ্গ’। রাজধানীর গণপরিবহনগুলোতে তাদের তুড়ির শব্দ প্রায়ই ভাসে। এটি হয়ে গিয়েছে একটি সাধারণ দৃশ্য।
এই দৃশ্যের ধরণ সব সময় এক হয় না। রাগ, ক্ষোভ আর জিদের মত বিষয়গুলো আমরা প্রাকৃতিক নিয়মেই ধারণ করে থাকি। এই প্রকৃতি প্রদত্ত উপাদানগুলোর অনৈতিক ব্যবহার সচেতন জনগোষ্ঠীর মাঝেই অধিক প্রতিয়মান। তুড়ি বাজিয়ে গাড়িতে উঠা মানুষদের পয়সা দিতে অসম্মত হলে কালে ভদ্রে হতে হয় বিব্রত, ঘটে অনাঙ্খিত কিছু।
যানজটে আটকা পড়া গাড়িতে উঠা দুইজন গাড়িটির পেছন থেকে টাকা চাইতে থাকেন। প্রথম জন ‘আসসালামু আলাইকুম‘ বলে টাকা চাইল। তার এমন সুন্দর ব্যবহার যেন মনের কার্পণতা দূরকরণের নিয়ামক। তার উল্টোটা পরিলক্ষিত হয় দ্বিতীয় জনের মধ্যে। এক আসন এগিয়ে গিয়ে তার ‘অনৈতিক‘ জিদ চেপে বসে এক সহজ প্রাণ ব্যক্তির উপর। ওই ব্যক্তি তার পয়সার স্বল্পতার কথা জানালেও সে মানতে নারাজ। গাড়ীর সবাই উপহাস করলেও তাকে হতে হলো বিব্রত।
‘হিজড়ারা’ মানসিকভাবে যেমন সুস্থ, তাঁদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যও প্রাকৃতিকভাবে স্বাভাবিক। কিন্তু অজ্ঞতাজনিত সামাজিক ভ্রান্ত ধারণার বলি হয়ে তাঁরা কখনো স্বেচ্ছায়, কখনোবা বলপ্রয়োগের কারণে নিজ পরিবার থেকেও নির্বাসিত হন। মানুষের সাংস্কৃতিক বিকাশের আঁতুড়ঘর পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অদৃশ্য অথচ দুর্ভেদ্য দেয়ালের আড়ালে বেড়ে ওঠার ফলে তাঁদের কাছে সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় অধরাই থেকে যায়। তাই অনেক ক্ষেত্রেই সক্ষমতা থাকার পরও কেউ তাঁদের কাজে নিয়োগ দিতে চান না। কিন্তু মূল্যবোধের ঘাটতি তো আর ক্ষুধার কমতি ঘটায় না। তাই পেটের তাগিদে তাঁরা পথেঘাটে, বাজারে, যানবাহনে হাত পাতে, চাঁদা তোলে। রাষ্ট্র ও সমাজ যেহেতু তাঁদের বোধের বিকাশে ভূমিকা রাখেনি, তাই যৌক্তিক কারণেই তাঁদের আচরণগত অসংলগ্নতার দায় সভ্য সমাজের ওপরই বর্তায়।
হিজড়া সম্প্র্দায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নকল্পে সরকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৫০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী অসচ্ছল ‘হিজড়া’ লিঙ্গের মানুষদের জন্য মাসিক বিশেষ ভাতা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে ‘হিজড়া’ শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে উপবৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে এই উন্নয়নকল্প ‘হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন শুরু হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছর হতে দেশের ৬৪টি জেলায় হিজড়া জনগোষ্ঠীর ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। গবেষণা বলছে, প্রতি এক হাজার নবজাতকের মধ্যে কমপক্ষে এক থেকে তিনজন ‘হিজড়া’ লিঙ্গের শিশু জন্মগ্রহণ করে। তবে এই নিবন্ধ লেখার সময় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত তথ্য বলছে, বাংলাদেশের মাত্র ১১ হাজার জন ‘হিজড়া’ লিঙ্গের মানুষ রয়েছেন। ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে সরকারি হিসাবের এই ১১ হাজার মানুষের জন্য গৃহীত উন্নয়নকল্প কতটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন সরকার। এই ১১ হাজার হিজড়ার জীবনমান উন্নয়ন করে মূলধারায় আনা অসম্ভব?
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক জন শুনানিতে একজন হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষ বলেছিলেন, হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে আখ্যাখিত করা হয়। তাহলে প্রথম ও দ্বিতীয় লিঙ্গ কারা তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তার এই নিরোত্তাপ প্রশ্ন কর্তাব্যক্তিদের মাঝে তাপ সঞ্চালন করতে না পারলেও তৃতীয় থেকে যাওয়ার তাপে পুড়ছে তার মতো হাজারো হিজড়া।
যদিও এক দুই জন এই তাপকে পরিণত করেছেন শক্তিতে। হয়ে উঠেছেন অন্য দের জন্য উদাহরণ। তাদেরই এইকজন তাসনুভা আনান শিশির। দেশের সুবর্ণজয়ন্তীতে বেসরকারি বৈশাখি টেলিভিশন চ্যানেলে সংবাদ পাঠক হওয়ার সুযোগ আদায় করে নিয়েছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন দেশে প্রথম বারের মতো এই সম্প্রদায়ের কোন সংবাদ পাঠক। এছাড়া চলতি বছর একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন নজরুল ইসলাম ঋতু। বাংলাদেশে তিনি প্রথম ‘হিজড়া‘ লিঙ্গের কোন ব্যক্তি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন। তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ঝিনাইদহের ত্রিলোচনপুরে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে হারিয়ে ঋতুর বক্তব্য ছিল, তাকে নানারকম ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল, কিন্তু তিনি তাতে দমে যান নি। জনগণ তাকে ভালোবাসার প্রতিদান দিয়েছে।
লেখক: সাইমউল্লাহ সবুজ, গণমাধ্যম কর্মী
- ১নড়াইলে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি সম্পন্ন
- ২তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের সময় বাড়াল বিএসইসি
- ৩জুলাই নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ইবিতে ‘রিমেম্বারিং জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত
- ৪২৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮ হাজার ৪৭ কোটি টাকা
- ৫মাদারীপুরে দুই প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা
- ৬ব্যাংকারদের শৃঙ্খলাভঙ্গের মামলা দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ
- ৭আইনজীবী নিজাম হত্যার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন
- ৮চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার
- ৯কয়রায় জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মৎস্যঘের দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
- ১০গাজীপুর জেলা শ্রমিক দল নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
- ১চকরিয়ায় বন্যার্ত ৫০ পরিবারকে ধরা’র ত্রাণ বিতরণ
- ২সার্ককে আরও গতিশীল করতে চায় বাংলাদেশ-মালদ্বীপ
- ৩তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান
- ৪কোনো একসময় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- ৫ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জড়িত
- ৬সিরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ৩৫
- ৭‘তেলাপোকাদের’ চিহ্নিত করে গুন্ডা দমন আইনে মামলার ঘোষণা শুভেন্দুর
- ৮বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
- ৯চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার
- ১০সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে





পাঠকের মতামত