নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬ ৪:০৫ পিএম

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যাংকটিকে সংকট থেকে রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। একই সঙ্গে ২৭ জুনের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সারাদেশ থেকে গ্রাহকদের ঢাকায় এনে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

‎বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

‎সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ১ জুন থেকে ইসলামী ব্যাংকে নিয়ম-নীতি, সুশাসন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে দাবি জানানো হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন, একাধিক সংবাদ সম্মেলন, অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে।

‎তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি। তাদের অভিযোগ, বিলম্বের কারণে ব্যাংকটির জন্য নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

‎সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ সামনে আসার পরও ইসলামী ব্যাংকের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠনে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। সংগঠনটির দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংক অংশীজন ও গ্রাহক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে খুব সহজেই একটি যোগ্য, সৎ ও গ্রহণযোগ্য পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে পারে।

‎সংগঠনের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। তারা শুধুমাত্র গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইসলামী ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই কাজ করছে।

‎তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের অধিকাংশ আমানতকারী সাধারণ মানুষ। অনেক আমানতকারী তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় ব্যাংকটিতে জমা রেখে সেই অর্থের মুনাফার ওপর নির্ভর করে সংসার পরিচালনা করেন। ফলে ব্যাংকটি কোনো ধরনের সংকটে পড়লে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

‎সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দেশের ব্যাংক মালিকদের সংগঠন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)দের সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল ইতোমধ্যে ইসলামী ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দ্রুত পরিচালনা পর্ষদ গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যথায় এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

‎সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, দ্রুত গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং ইসলামী ব্যাংককে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। তা না হলে শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রবাসী আয় প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

‎সংগঠনটির দাবি, পরিস্থিতির অবনতি হলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিবর্তে হুন্ডির প্রবণতা বাড়তে পারে। এর ফলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কমে যাবে এবং আমদানি দায় পরিশোধেও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

‎সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সৎ, যোগ্য ও স্বাধীন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন, প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

‎এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বন্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

‎আরও দাবি করা হয়েছে, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে এবং এস আলম গ্রুপের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। একই সঙ্গে এস আলমের ঋণসংক্রান্ত অনিয়ম তদন্তে বিদ্যমান আইনি বাধা অপসারণ করে বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

‎ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা সংশোধনেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, এ ধারার মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পুনরায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা বাতিল করা প্রয়োজন।

‎এ ছাড়া জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রীদের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়েছে।

‎সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছে, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিশেষ পরিবারের সম্পদ নয়; এটি দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস, আবেগ এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান।

‎তারা সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনতিবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ ও গ্রহণযোগ্য পরিচালনা পর্ষদ গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

‎সংগঠনটি ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ২৭ জুনের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে সারাদেশ থেকে গ্রাহকদের ঢাকায় এনে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।

‎এ ছাড়া পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে আগামী ২৮ জুন (রোববার) সকাল ১১টায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

ব্যাংকারদের শৃঙ্খলাভঙ্গের মামলা দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজের অভিযোগ ও শৃঙ্খলামূলক মামলা দুই মাসের মধ্যে ...

খেলাপি হলে মিলবে না ইডিএফ ঋণের নতুন সুবিধা

রপ্তানিমুখী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার অর্থায়ন আরও সুশৃঙ্খল করতে এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) ...

ফ্রিল্যান্সার ও সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সহজে নতুন নির্দেশনা

দেশের ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আরও সহজ করতে নতুন নির্দেশনা ...