জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬ ১২:৫৫ পিএম

নবগঠিত চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর জনগণের সুবিধাজনক ও যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিনে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে উত্তর ফটিকছড়ির তিন ইউনিয়ন।

রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে নারায়ণহাট, দাঁতমারা ও বাগানবাজার এলাকায় দোকানপাট বন্ধ থাকায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসে।

চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে গণপরিবহনসহ অধিকাংশ যানবাহন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

সকালে হরতাল সমর্থকেরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাঁশ, ইট ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে দূরপাল্লার বাস, স্থানীয় পরিবহন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয়। প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ঘরের বাইরে বের হতেও দেখা যায়নি। বাজার ও সড়কগুলোতে ছিল অন্য দিনের তুলনায় অনেক কম মানুষের উপস্থিতি।

হরতালের প্রতি সংহতি জানিয়ে অধিকাংশ ব্যবসায়ী স্বতঃস্ফূর্তভাবে দোকানপাট বন্ধ রাখেন। নারায়ণহাট, দাঁতমারা ও বাগানবাজার বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বেশির ভাগ দোকানও বন্ধ ছিল। তবে জরুরি ওষুধের কিছু দোকান সীমিত পরিসরে খোলা রাখতে দেখা গেছে।

আন্দোলনকারীরা বলেন, নতুন উপজেলা গঠনের উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক সেবা সহজ করা। কিন্তু সদর দপ্তরের জন্য ঘোষিত স্থান ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক নয় বলে তাঁদের দাবি। এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ও যোগাযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানান তারা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন।

আন্দোলনকারী শফিউল আজম চৌধুরী বলেন, নবগঠিত উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

এখন পর্যন্ত সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ না আসায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।

আন্দোলনকারী হাসান শামসুদ্দীন বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আন্দোলন নয়; উত্তর ফটিকছড়ির সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকারের আন্দোলন। যৌক্তিক স্থানে উপজেলা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল আমিন আজাদ বলেন, ন্যায্যতার ভিত্তিতে উত্তরাঞ্চলের যৌক্তিক স্থানে উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের দাবিতে এই হরতাল কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

হরতাল চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “সকাল থেকে হরতাল কর্মসূচি চলছে। সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

টিআর

শেয়ার

পাঠকের মতামত

শেরপুরে বিএনপি ছেড়ে দুই নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদান

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ছেড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন ৬নং ...

খুলনাঞ্চলের ১৬ সড়ক উন্নয়নে আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক মহাসড়ক খুলনা অঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ ...