জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬ ৫:৫২ পিএম

ইছামতী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে প্রায় নয় দশকের ইতিহাস বহন করছে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ৩৪নং শ্যামনগর তেরোদোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৩৯ সালে শিক্ষানুরাগী শ্রী লোকনাথ বালো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে এটি সরকারিকরণ করা হয়।

একসময় লেখাপড়ার মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ভালো ফলাফলের জন্য এলাকায় সুনাম অর্জন করেছিল বিদ্যালয়টি। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র পাল্টে গেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৩৪ জন। পাঠদানের দায়িত্বে রয়েছেন তিনজন শিক্ষক—একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং দুজন সহকারী শিক্ষক।

সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখা যায়, আধুনিক ও সুসজ্জিত দুইতলা ভবন থাকলেও নেই শিক্ষার্থীদের কোলাহল। অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষই ছিল প্রায় ফাঁকা।

বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসাদুল ইসলাম। কিছুক্ষণ পর এক সহকারী শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে আসেন। দেরির কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, তাঁর বাসা জেলা শহরে। সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় নিয়মিত সময়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। অপর এক সহকারী শিক্ষক ওইদিন ছুটিতে ছিলেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষার্থী সংখ্যা কম হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও দেরিতে বিদ্যালয়ে আসার প্রবণতা শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এতে অভিভাবকদের আগ্রহও কমে যাচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসাদুল ইসলাম জানান, একসময় ইছামতী নদীর ওপার থেকেও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয়ে পড়তে আসত। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক পরিবার ওই এলাকায় বসবাস করত। সময়ের সঙ্গে তাদের একটি বড় অংশ অন্যত্র চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। এছাড়া নদীর ওপারের কাছাকাছি নতুন একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী সেখানে ভর্তি হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে আসার প্রধান সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতাও শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

বিদ্যালয়টির আরেকটি বড় সমস্যা হলো খেলার মাঠের অভাব। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় মাঠ নেই। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য কোনো সীমানা প্রাচীরও নির্মাণ করা হয়নি, ফলে চত্বরটি অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়ের জন্য কমপক্ষে পাঁচজন শিক্ষক প্রয়োজন। পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, একটি খেলার মাঠের ব্যবস্থা এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা গেলে বিদ্যালয়টিকে আবার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রায় ৮৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় এক সময়ের শিক্ষাবিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বিদ্যালয়টি ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।

ইছামতী নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বিদ্যালয়টির পুরোনো ভবনের অংশ আজও অতীতের গৌরবের সাক্ষ্য বহন করে। তবে সেই হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

জিয়াউল আহসানের বাড়িতে দুদকের অভিযান শেষ, মালামাল জব্দ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের ‌‘জয়িতা’ নামের আটতলা বাড়িতে অভিযান ...

টানা বৃষ্টিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় সবজির বাজারে অস্থিরতা

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জসহ বিভিন্ন ...

৯৯৯-এ ফোনে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১০ শিক্ষার্থী উদ্ধার

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতর হামহাম জলপ্রপাতে আটকে পড়া ১০ জন পর্যটককে কমলগঞ্জ ...