প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২২, ২০২০ ৮:৩৯ পিএম

দেশের বৃহত্তম পাটকল ক্রিসেন্ট ও প্লাটিনাম লীজ নেয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। ইতিমধ্যে চীনের একটি প্রতিনিধি দল মিল ২টি পরিদর্শন করেছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন খুলনা বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, শ্রমিকদের বেকারত্ব নিরসনের জন্য লীজ নেয়ার জন্য সরকার বিভিন্ন দেশের সাথে আলোচনা করে। টার্কি ও চীন আগ্রহ দেখিয়েছে।

ইতোমধ্যেই চীনের প্রতিনিধি দল প্লাটিনাম ও ক্রিসেন্ট জুট মিল পরিদর্শন করেছে। তবে, এখনো তাদের মতামত জানা যায়নি। বন্ধ পাটকলগুলো চালু করার জন্য সরকার দু’টি বিষয় নিয়ে ভাবছে। প্রথমত, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ ও দ্বিতীয়ত লীজ। পাটকল সংশ্লষ্টরা জানায়, ক্রমাগত লোকসানের কারণে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ক্রিসেন্ট ও প্লাটিনামসহ খুলনাঞ্চলের ৯টি পাটকল বন্ধ ঘোষণা করে। আদমজী জুট মিলের পর দেশের বৃহত্তম পাটকল ক্রিসেন্ট। তৃতীয় অবস্থানে আছে প্লাটিনাম জুবলী জুট মিল।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলগুলো বন্ধ হওয়ার পর খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠে। পাট মন্ত্রণালয় গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের আওতায় শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু করে। কলোনীগুলো থেকে শ্রমিকরা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। পাটকল শ্রমিকদের বেকারত্ব নিরসনের জন্য সরকারের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে চীন আগ্রহ দেখিয়েছে। মোংলা বন্দর কাছে হওয়ায় তারা এটাকে পজিটিভ হিসেবে দেখছে। সূত্র জানায়, ক্রিসেন্ট জুট মিলে আবাসনকৃত দুই হাজার ৭৭১ জন শ্রমিকের মধ্যে দুই হাজার ২৩০ জন ও অবসরপ্রাপ্ত এক হাজার ৫৯৩ জনের মধ্যে ৯১৮ জনের এবং প্লাটিনাম জুবলী জুট মিলের আবাসনকৃত দুই হাজার ৭৭৩ শ্রমিকের মধ্যে দুই হাজার ৬৩০ জন এবং অবসরপ্রাপ্ত এক হাজার শ্রমিকের মধ্যে ৬৬২ জন গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের অর্থ পেয়েছেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোন মিলের শ্রমিকরা এখনও সঞ্চয়পত্র পায়নি।

উল্লেখ্য, খালিশপুর এলাকায় ১১৩ একর জমির ওপর ১৯৫২ সালে ক্রিসেন্ট জুট মিলের যাত্রা শুরু হয়। মিলের মালিকানা ছিল আগাখান গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজ, মেসার্স র‌্যালী ব্রাদার্স ও জেমস মেকলি এন্ড সন্স লিঃ। যাত্রার শুরুতে আট হাজার ৩১৩ জন শ্রমিক কর্মরত ছিল। এক হাজার ৩৩৬ টি তাঁত চালু ছিল। অপর দিকে ১৯৫৮ সালে একই এলাকায় ৭৯ একর জমির উপর প্লাটিনাম জুবলী জুট মিলের উৎপাদন শুরু হয়। ইপিআইডিসি ও আগাখান গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজ যৌথভাবে মিলের সূচনা লগ্নে মালিক ছিলেন। পরবর্তীতে ইপিআইডিসি একক মালিকানা লাভ করে। ৯৫৭টি তাঁতে বার্ষিক ৮০ মেট্রিক টন উৎপাদন হত। বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭২ সালে ২৬ মার্চ মিলগুলো জাতীয়করণ করেন।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বড়লেখায় জুলাই শহীদদের স্মরণে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপন কর্মসূচি

জুলাই শহীদদের স্মরণে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলাজুড়ে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী ...

চাঁদপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রবাসীর মৃত্যুর অভিযোগ

চাঁদপুর সদর উপজেলায় শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের মান্দারী এলাকায় স্থানীয়দের কথিত মাদকবিরোধী অভিযানের সময় শাহজাহান পাটওয়ারী (৪৫) ...

গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে কয়রায় জামায়াতে ইসলামীর দোয়া ও গণমিছিল

খুলনার কয়রা উপজেলায় “জুলাই ছাত্র অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে দোয়া ও ...

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে চাঁদপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল

ফ্যাসিস্ট সরকারের গুম-খুন-দুর্নীতিসহ সকল রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডের বিচার এবং গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়নের ...