প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৩ ৭:৩৪ পিএম , আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৩ ৭:৪০ পিএম

পোশাক রপ্তানিতে ইউরোপের বাজারে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ইউরোপের বাজারে মোট ৯ হাজার ৫১৭ কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য ইউরোপের বাজারে রপ্তানি হয়েছে ২১১৮ কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।

আর চীন রপ্তানি করেছে ২ হাজার ৭৯৭ কোটি ৯৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ফলে ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানির শীর্ষে চীন আর বাংলাদেশ রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।

ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুসারে, গত বছরের (২০২২) জানুয়ারি থেকে নভেম্বর সময়ের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্ব থেকে ৯৫ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পোশাক আমদানি করেছে। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭৭ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার বা শতাংশের হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

একই সময়ে ইইউ বাংলাদেশ থেকে ২১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পোশাক আমদানি করেছে। কারণ বাংলাদেশ ইইউ এর জন্য পোশাক আমদানির দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস। ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পোশাক আমদানি ৩৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০২১ সালের একই সময়ে ছিল ১৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার যার পরিমাণ ১ হাজার ৫৩০ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ইউএস ডলার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বাংলাদেশ বেশি প্রবৃদ্ধি করেছে ইউরোপে মূলত তারা বেশি ক্রয়াদেশ দিয়েছে বলে। তবে, এটা সম্ভব হয়েছে করোনার কারণে। এরপরও যে গতিতে বাড়া উচিত ছিল, নভেম্বরের পর থেকে আস্তে-আস্তে কমে এসেছে৷ চলমান অর্থনৈতিক মন্দা কিন্তু নভেম্বরের পর থেকে আঘাত করেছে। কিন্তু, রপ্তানি কমলেও প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশ কিন্তু অন্যদের থেকে ভালো করেছে। ক্রেতাদের আস্থা অন্যদের চেয়ে বাংলাদেশের ওপর বেশি।

তিনি বলেন, আমাদের পণ্যের দাম বেড়েছে। কারণ উপকরণগুলোর দাম বেড়েছে সেজন্য এফওবি বেড়েছে। এ কারণে রপ্তানি বেড়ে গেছে। এখন দেখার ব্যাপার হচ্ছে আমরা কীভাবে এটা ধরে রাখি।

তবে চীন ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশ শেয়ার নিয়ে ইইউ’তে সর্ববৃহৎ পোশাক সরবরাহকারীর অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২২ সালের প্রথম এগারো মাসে চীন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমদানি ২৭ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ আগে বছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ২৯শতাংশ ।

পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় তুরস্ক থেকে আমদানি বেড়েছে ১১দশমিক ৫৬শতাংশ। তুরস্ক থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমদানি ১১ দশমিক ০৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ভারত থেকেও আমদানি ৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যা আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ।

অন্যান্য শীর্ষ সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, মরক্কো, শ্রীলঙ্কা এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমদানি যথাক্রমে ৩৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ৩৪ দশমিক ১৬ শতাংশ, ২৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং ২৭ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়েছে।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব অনুমোদন

কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে ...

নবম পে–স্কেল মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ, বাস্তবায়ন দুই ধাপে

প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা ...

এস আলম ও সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ায় সাসপেন্ড ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা

বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম ও ...

আমির খসরুর নেতৃত্বে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি

দেশে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশ ও সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়ে ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ ...

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ ...