
গত দুই মাস (মার্চ-এপ্রিল) ধরে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। এর আগের পাঁচ মাস ছিল ধারাবাহিক ধস। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসায় মানুষ সঞ্চয়পত্র ভাঙার চেয়ে বেশি কিনছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ভাঙা কমলেও বিক্রি হচ্ছে ধীরগতিতে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য বলছে, গত এপ্রিল মাসে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ৭৭০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। একই মাসে আগে কেনা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ পূর্তি এবং মেয়াদ শেষের আগে ভাঙানো বাবদ তুলে নেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৫১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ফলে আলোচ্য মাসে নিট বিক্রি বা বিনিয়োগ দাঁড়ায় ১ হাজার ২৫৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
এছাড়া, আগের মাস মার্চে সঞ্চয়পত্রের মোট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ১৯৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ওই মাসে ভাঙানোর পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। ফলে ওই মাসে নিট বিনিয়োগ আসে ৮০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তার আগের মার্চ মাসের চেয়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ। মোট বিক্রি কমার সঙ্গে আলোচ্য মাসে সঞ্চয়পত্র নগদায়ন কমেছে (ভাঙানো) প্রায় ২৬ শতাংশ। ফলে এপ্রিলে নিট বিক্রি তথা বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। মার্চেও নিট বিক্রি ইতিবাচক ছিল প্রায় ৮০ কোটি টাকা।
এর আগে গত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা পাঁচ মাস সঞ্চয়পত্র বিক্রির চেয়ে ভাঙানোর প্রবণতা বেশি ছিল। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৫৫ হাজার ৯৯১ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ভাঙানোর পরিমাণ ছিল ৬৩ হাজার ৪২৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ফলে ১০ মাসে নিট বিনিয়োগ ঋণাত্মক রয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৪৩১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর প্রবণতা কম থাকায় নিট বিনিয়োগ ইতিবাচক ধারায় ছিল।
জানা যায়, সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি তথা বিনিয়োগ সরকারের ঋণ হিসেবে গণ্য হয়। এটা বাজেট ঘাটতির অর্থায়নে ব্যবহার করে সরকার। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকার নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের সঞ্চয়ের প্রবণতা কমে গেছে। আবার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ধনী গোষ্ঠীর অনেকে আত্মগোপন করেছেন। এসব কারণে সঞ্চয়পত্রের মোট বিক্রিতে ধীরগতি চলছে। তবে গত জানুয়ারি থেকে সুদহার বৃদ্ধিসহ কিছু সুবিধা বাড়ানোয় নির্দিষ্ট সময়ের আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর প্রবণতা কিছুটা কমে এসেছে। এ কারণে গত দুই মাস ধরে (মার্চ ও এপ্রিল) নিট বিনিয়োগ ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, মানুষের গড়পড়তা আয় কমে গেছে। ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের যে পরিমাণ আয় রাখার কথা তা তারা রাখতে পারছেন না। অন্যদিকে সম্পদশালীদের মধ্যে যারা নামে-বেনামে একসময় সঞ্চয়পত্রে বিপুল বিনিয়োগ করতেন, তাদেরও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের আগ্রহ কমেছে। সব মিলিয়ে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
গত অর্থবছরের সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ হাজার কোটি টাকা। তবে বিক্রি ধারাবাহিক কমতে থাকায় সংশোধিত বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৭ হাজার ৩১০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। কিন্তু এই লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হয়নি। উল্টো পুরো অর্থবছরে নিট বিনিয়োগ ঋণাত্মক হয়েছিল প্রায় ২১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। এদিকে আগামী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির নিট লক্ষ্যমাত্রা আরও কমানো হয়েছে। এবার সঞ্চয়পত্র বিক্রির নিট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এটি চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা কম। আর সংশোধিত বাজেটের চেয়ে দেড় হাজার কোটি টাকা কম।
এম জি
- ১প্রিমিয়ার ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- ২লোকসানেও আলহাজ্ব টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা
- ৩চাঁদপুরে বাঁশ দিয়ে আটকে দেওয়া হলো মসজিদের প্রবেশপথ
- ৪কুষ্টিয়ায় হজ্ব ও ওমরাহ সেবা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
- ৫চকরিয়ায় ২০ প্যাকেট ইয়াবাসহ মাদককারবারী আটক
- ৬রংপুরে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে মামলা
- ৭চাঁদপুরে মোটরসাইকেল-অটোরিক্সা সংঘর্ষে কিশোর নিহত
- ৮বিশ্ববাজারে ফের বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম
- ৯দেশের ১০ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আভাস
- ১০মাদক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলেও ছাড় নয়: ডিআইজি
- ১‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে বৈদেশিক সম্পর্ক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২একনেক সভায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন
- ৩এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার
- ৪অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ
- ৫টেকসই অর্থায়নে পুঁজিবাজারের ভূমিকা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ
- ৬পারিবারিক বিরোধের জেরে তায়েবাকে হত্যার অভিযোগ, ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
- ৭মানিকগঞ্জে বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান
- ৮শ্রীপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজ অর্থায়নে স্থানীয়দের ড্রেন নির্মাণ
- ৯স্থানীয় সরকার কার্যকর হলেই গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী হবে
- ১০কানাডা থেকে ৪০ হাজার টন এমওপি সার কিনবে সরকার





পাঠকের মতামত