
দেশের আর্থিক খাতের দৈন্যদশার পেছনে দায়ী বড় বড় ঋণখেলাপিরা। আর এই ঋণখেলাপিদের প্রায় ৮৫ ভাগই ইচ্চাকৃত ঋণখেলাপি। বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনামলে সরকার ঘনিষ্ঠরাই ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ বের করেছে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে, ব্যবসা বড় করেছে, বিদেশে টাকা পাচার করে বাড়ি-গাড়ি করেছে কিন্তু ব্যাংকের টাকা শোধ করেনি।
অবশেষে ২০২৪ সালের আগস্টে গণ অভ্যুথানে পতন ঘটে স্বৈরাচারী সরকারের। এই সরকার পতনে আর্থিক খাতের দৈন্যদশা কম দায়ী নয়। আমরা দেখেছি, শাস্তির বদলে বিগত সরকার কীভাবে এই ঋণখেলাপিদের একের পর এক পুরস্কৃত করতো, যার ফলও আমরা দেখেছি।
গণ অভ্যুথানে শুধু বিগত সরকারই পালায়নি, সাথে সেই প্রভাবশালী ঋণখেলাপিরাও পালিয়েছে। কেউ কেউ অবশ্য জেল ঘাটছেন কিন্তু সেটা আর্থিক অনিয়মের কারণে নয়, বরং আগষ্টে হত্যা মামলায়। এদেশে আর্থিক খাতের অনিয়মের জন্য কারও বিচার হয়েছে সেটার উদাহরণ হাতে গোনা কয়েকটা, এই বিচারহীণতার সংস্কৃতিই তাদেরকে বেপরোয়া করেছে।
সরকার পতনের পরও আমরা দেখেছি এই ঋণ খেলাপি আর বড় বড় শিল্পগ্রুপের জন্য একের পর এক ছাড়। অজুহাত- প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি। তবে হ্যা, প্রকৃত এবং ভালো শিল্পগ্রুপের জন্য কি ছাড় প্রয়োজন নেই, আছে। যারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ বৈশ্বিক এবং অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যার কারণে তাদের জন্য প্রয়োজন আছে তবে সেটার মানদন্ড কি? কিভাবে বাছাই হবে। আমরা তো দেখছি ঢালাও সুবিধা ঋণখেলাপিদের জন্য।
অন্তবর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে খেলাপি হওয়া করপোরেট ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে একটি কমিটি করে। আমরা দেখেছি, এই কমিটি কীভাবে ঋণখেলাপিদের ছাড় দিয়েছে। এই কমিটি নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠেছে যে তারা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাদেরও সুবিধা দিয়েছে।
এই ছাড়ের আওতায় অনেক শিল্পগ্রুপ ঋণ পরিশোধের জন্য পাঁচ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত সময় পেয়েছে মাত্র এক শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে। কেউ কেউ তো দুই বছরও গ্রেস পিরিয়ড পেয়েছে অর্থাৎ দুই বছর ঋণের কোনো কিস্তি দিতে হবে না।
নির্বাচন হলো-দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ক্ষমতায় আসলো। আমরা দেখলাম- কীভাবে কিছু ঋণখেলাপিরা উচ্চ আদালত থেকে তাদের খেলাপি স্ট্যাটাসে স্থগিতাদেশ নিয়ে সংসদে চলে গেলেন। ব্যাংকের টাকা তো সাধারণ আমানতকারীদের টাকা। সেই টাকা ঋণ নিয়ে তা ফেরত না দিয়ে শাস্তি তো দূরের কথা, এদেশে আইনপ্রণেতাও হওয়া যায়।
আমরা দেখলাম, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কীভাবে একজন অর্থনীতিবিদকে সরিয়ে ন্যাক্কারজনকভাবে একজন খেলাপি ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর করা হলো। তিনি আসতে না আসতেই বড় শিল্পগ্রুপ আর খেলাপিদের জন্য ছাড় আর সুবিধার ডালি খুলে দিলেন। অজুহাত- একটাই। প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান আর বন্ধ কারখানা চালু। হ্যা এসব দরকার তবে সবাইকে না। যারা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি তাদেরকে কেন সুবিধা আর ছাড়। তাহলে যারা ভালো গ্রাহক, সময়মতো ঋণ শোধ করে তারা তো আর ঋণ শোধ করবে না।
ব্যবসায়ী গভর্নর- সেই পুরনো ঋণ পুন:তফসিল সুবিধার মেয়াদ আরও বাড়ালেন। চলতি মাসের শুরুতে নামমাত্র ডাউনপেমেন্ট দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিলের মেয়াদ আরেক দফা বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে আগামী জুন পর্যন্ত দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতপশিল করা যাবে। এই ঢালাও সুবিধার আরও একটি কারণ আছে আর সেটা হলো- খেলাপি ঋণ কমানো।
খেলাপি ঋণে যদি রেকর্ড করা হতো আর পুরস্কার দেওয়া হতো তাহলে বাংলাদেশ প্রথম না হলও দ্বিতীয় পুরস্কার পেত। কাগজে কলমে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩০ শতাংশের বেশি তবে প্রকৃত খেলাপি ঋণ যদি হিসেব করা হয় তা হবে প্রায় ৪০ শতাংশ। এ তো বিশ্বরেকর্ড।
দেশে মূল্যস্ফীতির হার আবারো বেড়ে ৯ শতাংশের উপরে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এই হার কমাতে একরকম ব্যর্থই বলা যায়। কেননা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন যেকোনো সময়ের তুলনায় ব্যবসায়ীবান্ধব কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রবৃদ্ধিতেই নজর বেশি যার। যদিও বৈশ্বিক অস্থিরতাও কম দায়ী নয় দেশের এই দুরবস্থায়।
সবশেষ গত সপ্তাহে বড় শিল্পগ্রুপের জন্য যে সুবিধা দেওয়া হলো তাকে তো একটি বিরল সুবিধা বলা যাবে। কেননা এখন একটি ব্যাংক একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ যে ঋণ দিতে পারে সেই সীমায় ব্যাপক শিথিলতা এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এখন থেকে একটি ব্যাংক তার মূলধনের ২৫ শতাংশের পুরোটাই ফান্ডেড তথা সরাসরি ঋণ দিতে পারবে। এতদিন সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ সরাসরি দেওয়া যেত। আবার এলসি বা গ্যারান্টিসহ বিভিন্ন নন-ফান্ডেড ১০০ টাকার দায় ফান্ডেড রূপান্তরের ক্ষেত্রে এতদিন ৫০ টাকা ধরা হতো। এখন ধরা হবে ২৫ টাকা। একই সঙ্গে উচ্চ খেলাপি ঋণ নিয়েও বৃহৎ ঋণ দেওয়ার শর্ত শিথিল করা হয়েছে। এ যেন অফার, সুবিধা আর ছাড়ের ঢালি। এ যেন ব্যাংক খাত সংস্কারের এক নতুন যুগ।
লেখক: মো: মেহেদী হাসান
সিনিয়র রিপোর্টার
দ্য ডেইলি স্টার
- ১চলতি অর্থবছরে ৫০ আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ
- ২সব পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর
- ৩সরকারের প্রতিজ্ঞা ভাঙ্গার কারণে সবকিছু হতাশায় পরিণত হয়েছে
- ৪নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টি ও ব্যবসার সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার
- ৫নামজারিতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি: আব্দুল মান্নান
- ৬জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রধান কারিগর যাদু মিয়া : তথ্যমন্ত্রী
- ৭মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক
- ৮কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
- ৯বিনা চিকিৎসায় কেউ মারা যাবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- ১০যানজট নিরসনে নবীনগর বাজারে উচ্ছেদ অভিযান, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
- ১‘লুটপাটে সহায়তাকারী’ আইএফআইসির এমডি মনসুর মোস্তফা বহাল তবিয়তে
- ২ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে যা বললেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম
- ৩চাঁদপুরে নিজ বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে বাড়ির মালিকের মৃত্যু
- ৪শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরল কমিটির হাতে
- ৫নবীনগরে সরকারি পুকুরপাড়ের লিজ নিয়ে বিতর্ক
- ৬পাথরঘাটায় তরুণী নিখোঁজ
- ৭ময়মনসিংহে ট্রাক চাপায় নারীসহ অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত
- ৮প্রবাসী কার্ডে মিলবে প্রায়োরিটি চেক-ইন ও বোর্ডিং সুবিধা
- ৯শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিসিএসের স্বপ্নে প্রিয়ন্তী
- ১০সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত মুজিবুরের পরিবারকে সরকারি সহায়তা





পাঠকের মতামত