নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬ ৪:৫৭ পিএম

এক দশকের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে সম্প্রতি খসড়া অভিযোগপত্রটি আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

গত ১ মার্চ অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠানো চিঠিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং একটি খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করে ইতোমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের আগে অ্যাটর্নি জেনারেলের লিখিত মতামত পর্যালোচনা করা জরুরি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব বলেন, এটি এখনো আনুষ্ঠানিক চার্জশিট নয়। আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিআইডির একাধিক কর্মকর্তা জানান, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি হয়। পরে এর মধ্যে ৩৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়। হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই অর্থ সরিয়ে নেয়।

ঘটনার ৪০ দিন পর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুরু থেকেই মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।

গত বছরের ১১ মার্চ সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে প্রধান করে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছয় সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ওই কমিটির তত্ত্বাবধানে রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে গত ১ মার্চ খসড়া অভিযোগপত্র অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠানো হয়। কার্যালয়টির আইনি মতামত পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ ১০ জন বাংলাদেশির নাম রয়েছে। এ ছাড়া ভারত, শ্রীলঙ্কা ও চীনের নাগরিকসহ দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে।

১০১ মিলিয়ন ডলার রিজার্ভ চুরির ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা ও মেজবাউল হক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক মহাব্যবস্থাপক এ এফ এম আসাদুজ্জামান এবং উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা।

অভিযুক্তদের তালিকায় আরও তিন বাংলাদেশির নাম রয়েছে। তারা হলেন— কে এম আব্দুল ওয়াদুদ, রেজাউল করিম ও মো. সুলতান মাসুদ আহমেদ।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বাণিজ্যমন্ত্রী নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টি ও ব্যবসার সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ...

এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে ৫ বছর মেয়াদি নতুন কর্মপরিকল্পনা

বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান বলেছেন, এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা ...

বিএফআইইউ প্রধান শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্প গ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১০ শিল্প গ্রুপের দেশে-বিদেশে থাকা ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ...

পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। একই ...

পোশাক খাতে নগদ সহায়তা ৩.৫০ শতাংশ বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতের জন্য নগদ সহায়তা (ক্যাশ ইনসেনটিভ) উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদ্যমান ১ ...