নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬ ৯:২২ পিএম
ছবি: এআই

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে জমজমাট রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে দলের প্রবীণ নেতা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, বিরোধী জোট হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট নির্বাচনী লড়াইয়ে নামিয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে দেশে আবার একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করেছেন। দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি প্রার্থী মনোনয়নের সর্বময় ক্ষমতা তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করেছিল। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘ এক দশক বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখা এবং সর্বজনগ্রাহ্য ভাবমূর্তির কারণে মির্জা ফখরুলকেই বঙ্গভবনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন থেকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। সংসদে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের বিজয় কেবল আনুষ্ঠানিকতা বলেই মনে করা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুলই যে কারণে প্রার্থী

বিএনপিতে একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি দলটির বাইরে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং জনগণের মাঝে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে মনে করে দলটি ।

এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের দলের মহাসচিবকে সম্মান দিতে চাইছে বলে বলছেন দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা।

তাদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের সময়টাতে দমন-পীড়ন, নির্যাতনে বার বার বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়াকে বয়সের শেষ প্রান্তে কারাগারে থাকতে হয়েছে। তাদের আরেক শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ছিলেন লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে।

শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে লম্বা সময় ধরে বিএনপির সংকটে এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের ভেতরে মি. আলমগীরই ছিলেন দৃশ্যমান মূল নেতৃত্বে।

বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, লন্ডনে নির্বাসনে থেকেই তারেক রহমান তাদের দলের ও আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু দেশে রাজনীতির মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম সংগঠিত করা এবং বিএনপিকে ঐকবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে মি. আলমগীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেয়েছিলেন।

মি. আলমগীরের এ ভূমিকাকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ণ করেন বলে দলটির একাধিক নেতা বলছেন। তারা বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে মহাসচিব হিসেবে দলের ভেতরে-বাইরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরে যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে তাকে সম্মান দেওয়ার বিষয় বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে তাদের দলে।
একইসঙ্গে তারা বলছেন, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী যদিও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু অতীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন রাষ্ট্রপতি।

এছাড়া জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরত আনা হয়েছে। অতীতে সেই সময়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছিল রাষ্ট্রপতির ভূমিকা। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেও বিএনপি সরকার এবার দলের ভেতর থেকে সক্রিয় রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রপতি করার অবস্থান নিয়েছে বিএনপি।

১১ দলীয় জোটের মনোনয়ন পেলেন অলি আহমদ

এদিকে আজ (রোববার) বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের মিন্টো রোডের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে ১১ দলীয় জোট আনুষ্ঠানিকভাবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে—রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আমরা ১১ দলের পক্ষ থেকে অংশ নেব। আমরা প্রার্থী দেবো। যেহেতু ১১ দল আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি পার্লামেন্টে এবং বাইরে গণভোটের জন্য, সেই জায়গায় আমাদের কমন প্রার্থী থাকবে, ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী থাকবে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের পক্ষ থেকে এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন ১১ দলেরই শরিক দল এলডিপির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, বিভিন্ন সময় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন, ছয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

কর্নেল অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার কারণ ব্যাখ্যা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলে আমরা মনে করি দেশের এই যে সংকট একটা চলছে, এই সময় দেশে যে ধরনের অভিভাবকত্ব প্রয়োজন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমরা মনে করি কর্নেল অলি আহমেদ উপযুক্ত এবং উনার অভিভাবকত্বে বা উনার নেতৃত্বে এই সংকটগুলো নিরসন হওয়া সম্ভব।

আজ ১১ দলের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আলোচনায় অনেকগুলো বিষয় এসেছে। বিশেষত বিএনপি সরকারের নির্বাচন পরবর্তী যে অবস্থান, আমাদের গণভোট, জুলাই সনদ, সেই বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী সময়ে সরকারের দ্বিচারিতা…।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কার কমিশনে দীর্ঘদিন ধরে যে আলোচনা হয়েছিল, সেখানে কিন্তু রাষ্ট্রপতি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে হবে, সেটার একটা নতুন ফর্মুলা প্রস্তাবিত হয়েছিল, যাতে আমরা সবাই মিলে একটা সর্বজনগ্রাজ্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে পারি। সেই নির্বাচন প্রক্রিয়াও সংশোধনের প্রস্তাব এসেছিল এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের জায়গায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা আরও কীভাবে বাড়ানো যায় এসব আলোচনা হয়েছিল। আমাদের প্রত্যাশা ছিল যে নির্বাচনের পরে আসলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন জুলাই সনদ অনুযায়ী।

তিনি আরও বলেন, আমাদের গণভোটের যে ম্যান্ডেট জনগণ দিয়েছে, ৭০ শতাংশ জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছিল। সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে। এর মধ্য দিয়ে আমরা নতুনভাবে সংস্কারকৃত সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে পারব। এটা আমাদের প্রত্যাশা ছিল।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সরকার গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে এবং তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো কিছুতে, কোনো ধারাতেই নেই। সংস্কার পরিষদের শপথ তারা নেয়নি, অধিবেশন ডাকেনি এবং সব প্রতিষ্ঠানকে তারা দলীয়করণ করছে। নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করছে। আমাদের যে লড়াই ছিল, নিরপেক্ষ সরকার, নির্বাচন কমিশন, তা আমরা দেখলাম যে এই সরকারও আসলে পূর্ব স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে।

তিনি বলেন, আমরা কিন্তু প্রথম অধিবেশনের একদম প্রথম দিনই বলেছিলাম যে ফ্যাসিবাদের দোসর সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি থেকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়া হয়, জুলাই সনদ অনুসারে। সেই রাষ্ট্রপতিকে তারা ছয় মাস রেখে দিলো এবং তাকে এখনও কোনো ধরনের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। এটাও আমাদের কাছে সন্দেহজনক।

তিনি আরও বলেন, আমরা জানি নির্বাচন-পরবর্তী পাঁচ বছর যখন অতিক্রম হবে, এই রাষ্ট্রপতি সে সময় থাকবেন এবং তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে হবে, এই রাষ্ট্রপতি যিনি রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, হবেন, তার ভূমিকা কী হবে, এই পুরো বিষয়টা কিন্তু জাতির সামনে একটা সন্দেহ তৈরি করে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপির অধীনে ইতিহাসে আমরা দেখেছি, তারা সবসময় চেষ্টা করেছে এই ট্রানজিশনের সময়গুলো যাতে নিজেদের হাতে ক্ষমতা থাকে, সেটা তারা বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশে অনেকগুলো রাজনৈতিক সাংবিধানিক সংকট তারা তৈরি করেছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের প্রার্থী বাস্তবে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা নিয়ম দেখে এসেছি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠ যারা থাকে, তাদের প্রাধান্য থাকে এবং তাদের ওই ভোটে কাস্টিং ভোটটাই মূলত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়।

তিনি বলেন, আমি মনে করি যে, এই অংশগ্রহণটাই একটা গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ। রাজনীতিতে গণতন্ত্রের জন্য আমরা মনে করি যে এই প্রক্রিয়াটা অংশগ্রহণমূলক, প্রতিযোগিতামূলক হওয়া উচিত।

এসময় বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন

বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক দেখছে বিএনপি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিএনপির লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারদলীয় হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে আমি ব্যক্তিগতভাবে ইতিবাচকভাবে দেখছি। এটা গণতন্ত্রের জন্য ভালো একটা আচরণ।

তিনি বলেন, বিরোধী দল ফেল করবে জেনেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা বা সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা জনগণকে একটি ক্লিয়ার মেসেজ দেয় যে সংসদে এবং সর্বত্রই গণতান্ত্রিক অধিকার বজায় রয়েছে।

তার মতে, এর মধ্য দিয়ে বিরোধী জোট যে ‘পুতুল বিরোধী দল’ নয়, সেই বার্তাও যাচ্ছে। তার ভাষ্য, তারা বিপ্লব করে, সার্বভৌমত্ব ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আজকের এই অবস্থানে এসেছে। তাদের এই অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে সর্বমহলে প্রশংসিত হবে।

রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান পরিচালনায় ৬ কমিটি

এদিকে, নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছয়টি কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি প্রাপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত দিন, তারিখ, সময় ও স্থানে রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। এ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান যথাযথ মর্যাদায় সুচারু ও সফলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে এ কমিটিগুলো গঠন করা হলো।

কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব সমন্বয় ও সংস্কার ফারাহ শাম্মীর নেতৃত্বে সমন্বয় কমিটি; প্রশাসন ও বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শামীম সোহেলের নেতৃত্বে ডকুমেন্টেশন ও রেকর্ড সংরক্ষণ কমিটি এবং অতিথি তালিকা প্রণয়ন ও আমন্ত্রণপত্র মুদ্রণ কমিটি; সমন্বয় অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ হাসানের নেতৃত্বে আমন্ত্রণপত্র বিতরণ ও প্রাপ্তি যাচাই কমিটি; কমিটি ও অর্থনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে আসন ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইয়াসমিন বেগমের নেতৃত্বে অভ্যর্থনা কমিটি।

কমিটিগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। চিঠি পাওয়ার পর কমিটি দ্রুত সভা আহ্বান করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে। উপকমিটির আহ্বায়করা তাদের কার্যাদি নিয়মিতভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে (সমন্বয় ও সংস্কার) অবহিত করবেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নেবেন বলে অফিস আদেশে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।

১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তৎকালীন বিএনপি প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের বিপরীতে আওয়ামী লীগ বদরুল হায়দার চৌধুরীকে দাঁড় করিয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক নির্বাচনের পর এবারই প্রথম আবার একাধিক প্রার্থী নিয়ে ব্যালটে গড়াচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শূন্য পদে আগামী ২০ আগস্ট নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে ২০ আগস্ট সংসদ ভবনে বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

যদি শেষ পর্যন্ত বিরোধী জোট প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করে, তবে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটাভুটির এক নতুন রোমাঞ্চ দেখতে যাচ্ছে দেশ। অন্যদিকে মির্জা ফখরুল বঙ্গভবনে পা রাখলে এক দশক পর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদেও আসবে নতুন নেতৃত্ব, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক ...

‘আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আপনারা যদি বিশ্বাসঘাতকতা না করতেন, ...