নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৯:৪৩ পিএম
  • জানুয়ারি–মার্চে পণ্য হ্যান্ডলিং কমেছে ০.৬৭%*
  • রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিং কমেছে ৮.৫৪%
  • আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং কমেছে ০.১৭%
  • আমদানি হ্যান্ডলিং দাঁড়িয়েছে ৩.৩৯ কোটি টনে

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এ সময়ে আমদানি পণ্যের হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ সামান্য কমলেও রপ্তানি পণ্যের কার্গো হ্যান্ডলিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি–মার্চ সময়ে বন্দরে মোট ৩ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ০.৬৭ শতাংশ কম।

এর আগে টানা দুই প্রান্তিকে বন্দরের পণ্য পরিবহনে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ১৩.৮৮ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ১০.৬৬ শতাংশ বেড়েছিল।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধান পশ্চিমা ক্রেতা দেশগুলোর বাজারে ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়া এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় চলমান সমন্বয়ের কারণে রপ্তানি পণ্যের এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া মার্কিন-ইরান যুদ্ধের কারণেও অনেক পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণেই মূলত দেশের প্রধান বন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং কমেছে।

সামগ্রিকভাবে বন্দরের পণ্য পরিবহন কমে যাওয়ার প্রধান কারণ ছিল রপ্তানি পণ্যের জাহাজীকরণে উল্লেখযোগ্য পতন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিং আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৫৪ শতাংশ কমে ১ কোটি ৯৭ লাখ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন।

অর্থবছরের আগের দুই প্রান্তিকের তুলনায় এটি ছিল উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। কারণ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রপ্তানি ১৮.৩২ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ৯.৩৫ শতাংশ বেড়েছিল।

অন্যদিকে, সমুদ্রবন্দরটির মোট পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের বড় অংশজুড়ে থাকা আমদানি পণ্যের চালান তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) সামান্য কমেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) মোট আমদানি পণ্যের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ০.১৭ শতাংশ কমে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) এর পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন।

অর্থবছরের শুরুতে আমদানি খাতে যে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা গিয়েছিল, এই স্থবিরতা তারই সাময়িক বিরতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে আমদানি পণ্যের পরিমাণ যথাক্রমে ১৩.৫৫ শতাংশ ও ১০.৭৫ শতাংশ বেড়েছিল।

তৃতীয় প্রান্তিকে কিছুটা মন্থরতা দেখা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমের চিত্র এখনো স্থিতিশীল ও সহনশীল বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ১৩ কোটি ৭ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছিল, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১২ কোটি ৩২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টনের তুলনায় সামগ্রিকভাবে ৬.০৭ শতাংশ বেশি।

উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশাবাদী যে, কনটেইনার ওঠানামা ও খালাসের সময়ের স্থিতিশীলতা, জেটি অবকাঠামোর চলমান উন্নয়নকাজ এবং চতুর্থ প্রান্তিকে নতুন করে রপ্তানি আদেশ বাড়ার সম্ভাবনা পুরো অর্থবছরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

এবার ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী বুঝে পেল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক

আর্থিক সংকট মোকাবিলায় একীভূত হওয়া শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় নতুন আরেকটি ...

৪২ ঋণখেলাপির পাচারের অর্থ ফেরাতে ৮ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি

৪২টি খেলাপি ঋণগ্রহীতা ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত গোপন সম্পদ উদ্ধারে বিশ্বখ্যাত ৮টি আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাদার পরামর্শক ...

বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় পদক্ষেপ বিদেশে ঘুরতে ডলারের ঝামেলা শেষ, টাকায় মিলবে ভ্রমণ প্যাকেজ

বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ কিনতে এখন আর সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে ভাবতে হবে না বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের। ...