রায়হানুল ইসলাম আকন্দ
প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬ ৩:১৮ পিএম , আপডেট: জুলাই ৬, ২০২৬ ৩:১৯ পিএম

গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের (কৃষকলীগের) এক নেতাকে আটকের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসানকে কোনাবাড়ী থানা থেকে প্রত্যাহার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) সহকারী কমিশনার (কোনাবাড়ী জোন) আবু নাসের আল-আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়াই ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে তাকে জিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) কোনাবাড়ী থানায় দায়িত্ব পালন করতেন। আটক মতিন মিয়া গাজীপুর মহানগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড কোনাবাড়ী (প্রতাবপুর) এলাকার কৃষক লীগের সভাপতি।

স্থানীয়রা জানান, গত ২২ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসানসহ চার পুলিশ সদস্য প্রতাবপুর এলাকায় অভিযান চালান। অভিযানে কৃষক লীগ নেতা মতিন মিয়াকে আটক করা হয়। ওই রাতেই মতিনের পরিবারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠে এসআই কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে। পরদিন ২৩ জুন সকাল থেকেই মতিন মিয়া আত্মগোপনে চলে যান। আটকের পর টাকার বিনিময়ে ছাড়া পওয়া কৃষকলীগ নেতার পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে বাড়ি দেখিয়ে দেওয়ায় স্থানীয় মুদি দোকানি নূর মোহাম্মকে হুমকি দেয়। ওই ঘটনায় মুদি দোকানি থানায় অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন ঘটনার দিন (২২ জুন) রাতে প্রতাবপুর এলাকার নিজের মুদি দোকানে বসে বেচাকেনা করছিলেন নূর মোহাম্মদ। এ সময় কোনাবাড়ী থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁর দোকানে এসে কৃষকলীগ নেতা মতিনের বাড়ির অবস্থান জিজ্ঞাসা করে। ওই দিন রাতেই পুলিশ মতিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে যায়। পরদিন ওই নেতার ভাই আলম মুদি দোকানিকে তার দোকানে গিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং সময় আসলে হত্যার হুমকি দেন।

মুদি দোকানি নূর মোহাম্মদ বলেন, পুলিশ এসে কৃষকলীগ নেতা মতিনের বাড়ি কোন দিকে জানতে চাইলে আমি তাদেরকে দেখিয়ে দেই। পরে পুলিশ তছার বাড়ী থেকে তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়। শুনেছি ওই রাতেই দুই লাখ টাকা নিয়ে মতিনকে ছেড়ে দিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জিএমপির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাটি আমলে নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) সহকারী কমিশনার (কোনাবাড়ী জোন) আবু নাসের আল-আমিন বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত এসআই কামরুল হাসানকে কোনাবাড়ী থানা থেকে প্রত্যাহার করে জিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বিভাগীয় ও আইনগত বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এনজে

শেয়ার

পাঠকের মতামত

কয়রায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি’র সদস্য মনোনয়নে বিতর্ক

খুলনার কয়রা উপজেলার দেয়াড়া পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ক্যাটাগরির সদস্য ...

শেরপুরে হাতি সংরক্ষণে জনসচেতনতা বিষয়ক তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ

শেরপুরে হাতি সংরক্ষণ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ...