বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬ ২:৪১ পিএম , আপডেট: জুন ৮, ২০২৬ ২:৪৪ পিএম
  • ১৫ ব্যাংকের মোট খেলাপি ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা
  • ইসলামী ব্যাংকের ৯৫, ৬২৯ কোটি টাকা

চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। আর এই টাকার ৮৫ শতাংশই রয়েছে মাত্র ১৫টি ব্যাংকের দখলে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই ১৫টি ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যেখানে পুরো ব্যাংকিং খাতে মোট শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

এই ১৫টি ব্যাংক হলো- অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, এবি ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।

খেলাপির শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক

পরিমাণের দিক থেকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ সর্বোচ্চ, যার পরিমাণ ৯৫ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫০ দশমিক ৮৮ শতাংশের সমান।

২০১৭ সালে ব্যাংকটি এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যায়। পরবর্তীতে বিতর্কিত এই শিল্পগোষ্ঠী ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৮০ শতাংশ নিজেদের প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে প্রদান করে, যা ব্যাংকিং বিধি ও নিয়মের লঙ্ঘন ছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর ব্যাংকটি এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয় এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে স্বাধীন পরিচালকদের একটি বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটি বর্তমানে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।

এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ মার্চে দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৬৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ব্যাংকটি মূলত নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের প্রভাবাধীন ছিল। ঋণ অনিয়ম ও দুর্বল করপোরেট সুশাসনের কারণে ব্যাংকটি আরও চারটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১৪ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা বা ৯৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৩০ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা বা ৮০ শতাংশ। ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ২৭ হাজার ১০২ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণপোর্টফোলিওর ৯৭ শতাংশ। এসব ব্যাংকের ওপর এস আলম গ্রুপের ব্যাপক প্রভাব ছিল এবং তারা এসব ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করেছিল।

এবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ১৯ হাজার ৫০৬ দশমিক ৭৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ২৪ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা বা ৫৭ শতাংশ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই দুই ব্যাংকই ঋণ অনিয়ম, সুশাসনের ব্যর্থতা এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির শিকার হয়।

আইএফআইসি ব্যাংকে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাবশালী উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের আধিপত্য ছিল। মার্চে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৮ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৬৩ দশমিক ৩৬ শতাংশের সমান।

আর সংকটাপন্ন পদ্মা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯১ শতাংশ।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৭৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণ পোর্টফোলিওর ৬৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৮ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা বা ৪০ শতাংশ। রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২০ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা বা ৪৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১৬ হাজার ২৪২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৭ দশমিক ৮৫ শতাংশের সমান।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৭ হাজার ১০২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪৭ শতাংশ।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

খেলাপি হলে মিলবে না ইডিএফ ঋণের নতুন সুবিধা

রপ্তানিমুখী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার অর্থায়ন আরও সুশৃঙ্খল করতে এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) ...

ফ্রিল্যান্সার ও সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সহজে নতুন নির্দেশনা

দেশের ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আরও সহজ করতে নতুন নির্দেশনা ...