জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৫ ৫:৪৫ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে অস্ত্রসহ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মোল্লা (৪৮) ও তার ছয় সহযোগীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুকে) ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ তুলেছে সেনাবাহিনী।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় গাজীপুর মহানগরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পে সংবাদ ব্রিফিংয়ে অভিযোগ করেন ১৪ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লুৎফর রহমান।

অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লুৎফর রহমান ব্রিফিংয়ে বলেন, বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ভোররাতে গাজীপুর আর্মি ক্যাম্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুলিশ ও র‌্যাবের প্রত্যক্ষ সহায়তায় শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং এলাকাবাসীর সহায়তায় গাজীপুর জেলার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি তথা শ্রীপুর এলাকার ত্রাস, অবৈধ বালু উত্তোলনকারী এবং ডাকাত দলের সর্দার এনামুল হক মোল্লাকে তার নিজ বাসার পানির ট্যাংকের ভিতর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময় তার আরও ছয়জন সহযোগীকেও যৌথবাহিনী গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামের মৃত আহাদ আলীর ছেলে এনামুল হক মোল্লা। তিনি মক্কা নগরীর মিসফালা বিএনপির সভাপতি ও বরমী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত তার ছয় সহযোগী হলেন—শওকত মীর (৪৫), জাহিদ মিয়া (৪০), মোস্তফা কামাল (৩২), সিদ্দিকুর রহমান (৩৪), বুলবুল মিয়া (৩৫) এবং তোফাজ্জল হোসেন (৪৫)।

তিনি বলেন, অভিযান চলাকালীন তল্লাশির সময়ে তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, দুটি ইলেকট্রিক শক মেশিন, চারটি ওয়াকিটকি সেট এবং দুটি লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেলসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এনামুল হক মোল্লার বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় বেশ কয়েকটি ডাকাতি ও অস্ত্র মামলা চলমান রয়েছে। কিছু মামলায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টও জারি করা হয়েছে।

সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক ব্রিফিংয়ে আরও বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়—একটি মহল এনামুল হক মোল্লার গ্রেপ্তারের বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়াসহ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্ন খাতে অপপ্রচার করার চেষ্টা করছে। সেনাবাহিনী কোনো ব্যক্তি বা দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় ন্যায়ের পক্ষে এবং অন্যায়ের বিপক্ষে; সেনাবাহিনী দেশের পক্ষে। যারা এ ব্যাপারে অপপ্রচার করছে এবং অপপ্রচারের প্রশ্রয় দিচ্ছে, আমরা মনে করি এদেরও কোনো না কোনোভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। সে বিষয়টিকেও আমরা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি এবং প্রমাণসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেনা কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযানের সময় আপনারা (সাংবাদিকরা) অনেকেই এই অপারেশনের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন এবং সকলেই অবগত আছেন। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তার বাসা থেকে ব্যক্তিগত কিছু সরঞ্জামাদি হারানোর অভিযোগে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এরূপ মিথ্যা অপবাদ ছড়ানোর সঙ্গেও যারা সংশ্লিষ্ট, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রিফিংয়ে তিনি এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যৌথবাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য পাশাপাশি এলাকাবাসীকে এরূপ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা যেভাবে জড়িত রয়েছে তাদের ব্যাপারেও তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য আহ্বান জানান। তারা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, একইভাবে তাদেরও খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লুৎফর রহমান ব্রিফিংয়ে আশ্বাস দিয়ে বলেন, গাজীপুর জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করার জন্য গাজীপুর আর্মি ক্যাম্প তথা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পূর্বের মতো সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়রা জানান, এনামুল হক মোল্লা দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দেশে ফেরেন। পরে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে গ্রামের বাড়িতে আসেন। দেশে ফিরেই রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বরমী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন এনামুল হক মোল্লা বরমীতে ত্রাসের রাজত্ব চালিয়েছিল। তার নামে একাধিক মামলা থাকায় নাম পরিবর্তন করে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে ২০১৭ সালে তিনি সৌদি আরবে চলে যান। তিনি মক্কা মিসফালা সৌদি আরব বিএনপির সভাপতি পরিচয়ে সম্প্রতি শ্রীপুর উপজেলার সর্বত্র পোস্টার টানিয়ে গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর-সদরের একাংশ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সভা, সমাবেশ, মিছিল, মিটিং করে ব্যাপক প্রচারণা চালান। গত সোমবার বিএনপির প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর তিনি নিজের ফেসবুকে গাজীপুর-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারিক বলেন, গাজীপুর সেনা ক্যাম্পের মেজর খন্দকার মহিউদ্দিন আলমগীরের নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এনামুল হক মোল্লাসহ তার ছয় সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় মামলা রুজু করে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হলে আদালতের আদেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাত আড়াইটা থেকে ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামের এনামুলের বাড়িতে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। গাজীপুর অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের ৪৬ ডিভ লোকেটিংয়ের মেজর খন্দকার মহিউদ্দিন আলমগীরের নেতৃত্বে যৌথবাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় এনামুল হক মোল্লা তার বাসার ছাদের পানির ট্যাংকের ভিতর গিয়ে আত্মগোপন করেন। পরে তল্লাশিকালে ট্যাংকের ভিতর থেকে তাকে বের করা হয়। অভিযানের শেষে উদ্ধার করা অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ আটক সাতজনকে শ্রীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

কয়রায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি’র সদস্য মনোনয়নে বিতর্ক

খুলনার কয়রা উপজেলার দেয়াড়া পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ক্যাটাগরির সদস্য ...

শেরপুরে হাতি সংরক্ষণে জনসচেতনতা বিষয়ক তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ

শেরপুরে হাতি সংরক্ষণ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ...