ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬ ৯:১৫ এএম , আপডেট: আগস্ট ৯, ২০২৬ ৯:১৯ এএম

বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ হলো ঘুম। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর ঘুমের মাধ্যমে মানুষ শারীরিক শক্তি ও মানসিক সক্ষমতা ফিরে পায়। মহান আল্লাহ রাত ও ঘুমকে মানুষের প্রশান্তি ও বিশ্রামের জন্য সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে করেছেন আবরণ, ঘুমকে করেছেন ক্লান্তি দূরকারী আর দিনকে করেছেন পুনরুজ্জীবনের সময়।’ (সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৪৭)

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে ঘুম শুধু বিশ্রাম নয়; বরং সঠিক নিয়ম ও সুন্নত মেনে ঘুমালে তা ইবাদতেও পরিণত হতে পারে। ঘুমানোর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শেখানো কয়েকটি আদব রয়েছে।

১. দ্রুত ঘুমানো ও অহেতুক রাত না জাগা

বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া অহেতুক রাত জাগা ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। মহান আল্লাহ রাতকে মানুষের বিশ্রামের জন্য সৃষ্টি করেছেন। সূরা ইউনুসের ৬৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তিনিই তোমাদের জন্য রাত বানিয়েছেন, যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম নিতে পারো।’

রাসুলুল্লাহ (সা.) এশার নামাজের আগে ঘুমানো এবং এশার নামাজের পর অহেতুক কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। প্রয়োজন ছাড়া রাত জাগলে ফজরের নামাজ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

২. দরজা বন্ধ করা ও পাত্র ঢেকে রাখা

রাতে ঘুমানোর আগে নিরাপত্তার জন্য ঘরের দরজা বন্ধ করা এবং খাবার ও পানীয়ের পাত্র ঢেকে রাখা সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিসমিল্লাহ বলে দরজা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বিসমিল্লাহ বলে দরজা বন্ধ করতে, কারণ শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না।

৩. ঘুমানোর আগে বাতি ও আগুন নিভিয়ে দেওয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুমানোর আগে আগুন বা জ্বলন্ত বাতি নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, আগুন মানুষের শত্রু।

বর্তমান সময়ে এর মধ্যে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, হিটার বা আগুনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জিনিস নিরাপদে বন্ধ রাখার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

৪. অজু করে ঘুমানো

পবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে যাওয়া মহানবী (সা.)-এর সুন্নত। হাদিসে এসেছে, কেউ যখন বিছানায় যাবে, তখন সে যেন নামাজের অজুর মতো অজু করে নেয়।

ঘুমানোর আগে অজু করা একজন মুসলিমের জন্য আত্মিক প্রশান্তিরও কারণ হতে পারে।

৫. বিছানা ঝেড়ে নেওয়া

ঘুমাতে যাওয়ার আগে বিছানা ঝেড়ে নেওয়াও মহানবী (সা.)-এর শেখানো আদব। হাদিসে এসেছে, কেউ যখন বিছানায় যাবে, তখন সে যেন কাপড়ের ভেতরের অংশ দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেয়।

৬. ডান কাত হয়ে শোয়া

ঘুমানোর সময় ডান কাত হয়ে শোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। হাদিসে তিনি ডান পাশের ওপর ভর করে শোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

একজন মুসলিমের জন্য এটি মূলত মহানবী (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণের অংশ।

৭. ঘুমানোর আগে দোয়া পড়া

ঘুমানোর আগে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বিশেষ দোয়া পড়তেন রাসুলুল্লাহ (সা.)।

এই দোয়ায় আল্লাহর কাছে নিজের সব কাজ সোপর্দ করা, তাঁর রহমতের আশা করা এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করার বিষয়টি প্রকাশ পায়।

৮. আয়াতুল কুরসি ও তিন কুল পড়া

ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়া এবং সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস তেলাওয়াত করা সুন্নত আমলের অন্তর্ভুক্ত।

হাদিসে আয়াতুল কুরসি পাঠের মাধ্যমে রাতভর আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তার কথা এসেছে। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুমানোর আগে তিন কুল পড়ে দুই হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে নিতেন।

এ ছাড়া সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত রাতের বেলায় পাঠ করারও ফজিলত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

৯. ঘুম না এলে আল্লাহর জিকির করা

রাতে ঘুম না এলে বা ঘুম ভেঙে গেলে আল্লাহর জিকির ও ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ সময় আল্লাহকে স্মরণ করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন।

তাই ঘুম না আসা কিংবা মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সময় অযথা দুশ্চিন্তা না করে জিকির, দোয়া ও ইস্তিগফারে সময় কাটানো একজন মুমিনের জন্য কল্যাণকর।

ঘুম মানুষের জন্য আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। তাই ঘুমানোর সময়ও মহানবী (সা.)-এর শেখানো আদব ও সুন্নতগুলো মেনে চলার চেষ্টা করা উচিত।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত