
মেয়াদোত্তীর্ণ চট্টগ্রাম, ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে ইসিকে চিঠি দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এই তিন সিটির ভোট সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বাকি ৯টি সিটি কর্পোরেশন এবং একই সঙ্গে জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।
ইসি সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আলোচনা শুরু হয়। সে সময় ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের আপত্তির কারণে সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসে।
এদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ না কাটতেই শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তোড়জোড়। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের বিধি অনুযায়ী রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নির্বাচিত পর্ষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত একটি ভোটের লড়াইয়ের গোছানো মাঠেই আরেকটি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি ও জামায়াত।
তবে এনসিপি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলদেশ, জাতীয় পার্টি, সিপিবিসহ অন্য দলগুলোতে এখনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম সিটির বর্তমান পর্ষদের নির্ধারিত পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা প্রায় সাড়ে তিন বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট চট্টগ্রামসহ দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর ১ মাস ২১ দিন পর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও চট্টগ্রাম প্রথম যুগ্ম জেলা জজ মো. খাইরুল আমিন এক রায়ে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল বাতিল করে বিএনপি প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা দেন। এই রায়ের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর থেকে তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন এবং মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে রমজানের পরে চট্টগ্রামসহ দেশের তিনটি সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আলোচনা সামনে আসায় রাজনৈতিক দলগুলো এ নিয়ে তৎপরতা শুরু করেছে। নির্বাচনে বিএনপি থেকে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত ডা. শাহাদাত হোসেনকেই দল প্রার্থী হিসেবে বেছে নেবেন এমনটাই ধারণা করছেন দলের দায়িত্বশীল নেতারা। ইতিমধ্যে ডা. শাহাদাত হেসেন নিজেও আগামী মেয়র নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন। মাঠপর্যায়ে তৎপরতা শুরু করেছেন বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, সবেমাত্র জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের ভোটের মাঠও গোছানো আছে। এখন নির্বাচনে কে মেয়র প্রার্থী হবেন সেটা দলের হাই কমান্ড সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে যখন আমাদের মতামত চাইবে আমরা নিজেদের মতামত দেব। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে সবাই মিলে কাজ করবে।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নগরীর তিনটি আসনেই অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় আশাতীত ভোট পড়েছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে। নগরীর কোনো আসনে জয় না পেলেও গোছানো ভোটের মাঠকে পুঁজি করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে চায় জামায়াত। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে তাদের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা সদ্য সম্পন্ন হওয়া সংসদ নির্বাচনেই স্ব স্ব ওয়ার্ডে নিজেদের ভোটের হোমওয়ার্ক করে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে মেয়র পদের প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে দলের দায়িত্বশীলরা।
জানতে চাইলে নগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে আমাদের সাংগঠনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। সে অনুযায়ী দলের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান তৃণমূলের মতামত নিয়ে তিনজনের একটি প্যানেল কেন্দ্রের কাছে পাঠাবেন। এরপর কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তিনিই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
২০২১ সালে অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনে সুন্নিপন্থি দুটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই দুটি দল ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি মিলে বৃহত্তর সুন্নী জোটের ব্যানারে অংশ নেন। আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তারা জোট হিসেবে অংশ নেবে কিনা, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিষয়ে নিজেদের দলীয় ফোরামে চলতি সপ্তাহে পৃথক বৈঠক করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান এম ইব্রাহিম আখতারী বলেন, জনমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিগত সময়েও আমরা অংশ নিয়েছি, আগামীতেও আমাদের অংশ গ্রহণ থাকবে। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে আমরা দলের দায়িত্বশীল নিয়ে বৈঠক করব। বৈঠকে যেভাবে সিদ্ধান্ত হবে সেভাবেই আমরা এগিয়ে যাব।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক জোবাইরুল আলম আরিফ বলেন, আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমাদের দলের প্রার্থীরা অংশ নেবে। তবে মেয়র কিংবা কাউন্সিলর পদে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচনে মেয়র পদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মনোনীত ছয়জন ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরা হলেন, রেজাউল করিম চৌধুরী (আওয়ামী লীগ), ডা. শাহাদাত হোসেন (বিএনপি), জান্নাতুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), এমএ মতিন (বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট), মুহাম্মদ ওয়াহিদ মুরাদ (ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ), মো. আবুল মনজুর (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি) ও খোকন চৌধুরী (স্বতন্ত্র)।
ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শাহাদাত হোসেন ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট পান। একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ৯ জনকে বিবাদী করে মামলাটি করেছিলেন পরাজিত মেয়র প্রার্থী নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন।
ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী আর কার্যালয়ে আসেননি। মেয়রকে অপসারণ করে একই বছর ১৯ আগস্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।
বিএইচ
- ১চাঁদপুরে মসজিদের সম্পত্তি ভোগ করার অভিযোগ, মুসল্লিদের বিক্ষোভ
- ২একই পরিবারের জন্মান্ধ ১১ জনের মধ্যে তিন জনের আলো ফিরেছে
- ৩চাঁদপুরে সাংবাদিকদের এআই ও ফ্যাক্ট-চেকিং বিষয়ক কর্মশালা
- ৪গাজীপুরে আবাসিক হোটেল থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার
- ৫ফিলিপাইন ব্ল্যাক আখ চাষে ১০ লাখ আয়ের স্বপ্ন
- ৬রোগ শনাক্তে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে স্বাস্থ্যকর্মীরা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- ৭আকস্মিক বন্যায় কৃষকের স্বপ্ন মূহুর্তেই তছনছ
- ৮নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী
- ৯ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিংয়ের বোর্ড সভা ২৯ জুলাই
- ১০আজ মেগাসিটি ঢাকার বায়ু মাঝারিমানের
- ১লোকসানী শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর এক মাসে বেড়েছে ৬৮ শতাংশ
- ২‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে বৈদেশিক সম্পর্ক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ৩পারিবারিক বিরোধের জেরে তায়েবাকে হত্যার অভিযোগ, ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
- ৪কানাডা থেকে ৪০ হাজার টন এমওপি সার কিনবে সরকার
- ৫একনেক সভায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন
- ৬মানিকগঞ্জে বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান
- ৭অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ
- ৮টেকসই অর্থায়নে পুঁজিবাজারের ভূমিকা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ
- ৯এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার
- ১০শ্রীপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজ অর্থায়নে স্থানীয়দের ড্রেন নির্মাণ





পাঠকের মতামত