জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ ৪:৩০ পিএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী সকল প্রার্থীদের নিয়ে ‘জনগণের মুখোমুখি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সামনে মুক্তমঞ্চে নাগরিক সংগঠন ‘সুজন সুশাসনের জন্য নাগরিক’ এর উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা তাঁদের মতামত ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজন এর চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি প্রফেসর মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, আলোচনায় মূল অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী ৩ প্রার্থী ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরিফুজ্জামান শরীফ, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও ১ আসনের দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা জহুরুল ইসলাম আজিজী।

এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আনতাহার তাজ, দৈনিক পশ্চিমঅঞ্চল এর সম্পাদক আজাদ মালিথা; প্রফেসর কামরুজ্জামান চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, একটি সুন্দর ও উন্নত সমাজ গড়তে হলে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তরুণ সমাজকে দেশের প্রধান সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং সবার জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

বিএনপি প্রার্থী মোঃ শরিফুজ্জামান শরীফ বলেন, সরকারি দপ্তর ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ দুর্নীতি দূর না হলে চুয়াডাঙ্গার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষা, চিকিৎসা ও ক্রীড়া খাতে উন্নয়নকে তিনি সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের নির্বাচন একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের উদাহরণ হতে পারে। এ জন্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, ন্যায়নীতি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় মাদক পাচারসহ সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের পাশাপাশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জহুরুল ইসলাম আজিজী বলেন, ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব।

তিনি ‘জুলাই সনদ’-কে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি, সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যাংক ব্যবস্থার কথা বলেন।

শেষে আয়োজকরা জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ ধরনের আলোচনা জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসময় চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গড়ে ওঠা চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) প্রকল্প শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো ...

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশে বিনিয়োগ সম্ভব নয়

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হলে কোনোভাবেই নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয় বলে ...

শেরপুরে হাতি সংরক্ষণে জনসচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

শেরপুরে হাতি সংরক্ষণ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ...

ফটিকছড়িতে চলছে দ্বিতীয় দিনের হরতাল,মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর উত্তরাঞ্চলের যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও টানা ...