জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬ ৮:১৯ এএম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্বীপে নানা প্রজাতির ২০ হাজার চারা রোপণ করা হচ্ছে। সেন্টমার্টিন দেশের অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আধার। এখানে যারা বাস করছেন তারা দ্বীপেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শনিবার (৮ আগস্ট) সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ড স্টেশন গ্রাউন্ডে ফলজ চারা রোপণের মাধ্যমে দ্বীপে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সেন্টমার্টিনে যারা বাস করছেন তারা দ্বীপেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের ব্যাপারটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। দ্বীপটি তারাই লালন করছে, ধারণ করছে। তাই বলা যায়- দ্বীপের সঙ্গে তাদের একটা গভীর মমতা গড়ে উঠেছে। অনেক প্রতিকূলতার ভেতরে তারা দ্বীপে অবস্থান করছেন।

তিনি আরও বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের একটা সুপারিশ পেয়েছি। দ্বীপ নিয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটা মহাপরিকল্পনা রয়েছে। এই দ্বীপের প্রতিবেশ-পরিবেশ সুরক্ষা এবং দ্বীপের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে আমাদের সবকিছু করতে হবে। সবাইকে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে চাই।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশদূষণের বিরূপ প্রভাব থেকে দ্বীপের সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, রোপণ করা গাছগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সেন্টমার্টিনকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই রাখতে সরকার, স্থানীয় জনগণ, বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে, এনরুট ফাউন্ডেশন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সহযোগিতায় সেন্টমার্টিনের সড়কের কিনারা, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর প্রাঙ্গণ এবং দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় আমকলম, পেয়ারা, বহেরা, হরতকি, নিম, বাতাবি লেবু, কুল, কৃষ্ণচূড়া, সোনালু, জারুল, সাগরলতা, হরগজা, কেয়া ও নারিকেলসহ নানা প্রজাতির ২০ হাজার চারাগাছ রোপণ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া সৈকততীরে জমা আবর্জনা, বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। এসময় এনরুট ফাউন্ডেশনের হেড অব প্রোগ্রাম জুবায়ের ইবনে হাসনাত অভি, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ’র কক্সবাজার এসিও ম্যানেজার ছিলেন রোনাল্ড প্রবীর চিসিক, লাইভলিহুড ম্যানেজার মোহাম্মদ রুহুল আমিন, উপজেলা কোঅর্ডিনেটর ছোটন বড়ুয়া, সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বারগণ, কোস্টগার্ড কর্মকর্তা ও সদস্যরাসহ স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক, জনপ্রতিনিধি, যুবসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

উষ্ণমণ্ডলের তুলনায় নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির ঝুঁকি বেশি

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্রান্তীয় (উষ্ণমণ্ডলীয়) অঞ্চলের তুলনায় নাতিশীতোষ্ণ (টেম্পারেট) অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণীকুল বেশি হারে ...

পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পরিবেশ সংরক্ষণে নাগরিকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিচ্ছন্ন ও ...

জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিক টেকসই অর্থায়নে উল্লম্ফন, কমেছে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগ

টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন বেড়েছে ১৬,৩১১ কোটি টাকা সবুজ প্রকল্পে অর্থায়ন কমেছে ১,৭৮৪ কোটি টাকা টেকসই ...