মোঃ জাফর আহমেদ
প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১১:১৭ এএম
filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; captureOrientation: 0; algolist: 0; multi-frame: 1; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: photo;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 32768;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: weather?null, icon:null, weatherInfo:100;temperature: 39;

কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন উন্নয়ন ও নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি ছাড়াই ঢালাইয়ের কাজ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়রা। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামোর স্থায়িত্ব ও কাজের মান নিয়ে দেখা দিয়েছে গুরুতর প্রশ্ন।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতাল চত্বরে নির্মাণকাজ চললেও সেখানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি। শুধু মিস্ত্রি ও শ্রমিকদের উপস্থিতিতে ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত খোয়া ও বালুর মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, খোয়া হিসেবে রাবিশ ইটের উপকরণ এবং নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি ব্যবহৃত বালুর প্রয়োজনীয় এফএম (ফাইননেস মডুলাস) পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।

নির্মাণকাজে ঢালাইয়ের সময় নির্ধারিত অনুপাতে কত পরিমাণ বালু, খোয়া ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে, তা তদারকির জন্য অফিসের দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধি না থাকায় কাজের মান নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহৃত মিক্সার মেশিনের চালকের কাছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিনিধি বা অফিসের দায়িত্বশীল কেউ আছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, হেড মিস্ত্রিকে জিজ্ঞাসা করেন।’ তবে সরেজমিনে হেড মিস্ত্রিকেও পাওয়া যায়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি হাসপাতালে নির্মাণকাজের মতো স্পর্শকাতর কাজে কে দায়িত্ব নিয়ে কাজটি তদারকি করছেন,এ প্রশ্নেরও কোনো স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।

শুধু নতুন নির্মাণকাজ নয়, হাসপাতালের পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশের কাজের মান নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। হাসপাতালের কয়েকটি স্থানে ছাদ থেকে পানি পড়ে ঢালাইয়ের অংশ উঠে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে ভবনের নির্মাণমান ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এর আগে হাসপাতালের ড্রেন নির্মাণের কাজ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। রাতের বেলায় ড্রেনের ঢালাইয়ের কাজ করার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয় তবও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন,নির্মাণকাজের নির্ধারিত নিয়ম, মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি নিশ্চিত না করে কেন রাতের আঁধারে ঢালাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হবে?

এ ছাড়া হাসপাতালের ভবনের দেয়াল যথাযথভাবে পরিষ্কার, প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই রং করার অভিযোগও রয়েছে। একের পর এক এসব অভিযোগে হাসপাতালের উন্নয়ন ও সংস্কারকাজের স্বচ্ছতা এবং গুণগত মান নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে রোগী, স্বজন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি অর্থে হাসপাতালের উন্নয়ন করা হচ্ছে জনগণের সেবার জন্য। কিন্তু কাজের মান যদি নিম্নমানের হয় এবং নির্মাণকাজে নিয়মিত তদারকি না থাকে, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই এসব স্থাপনা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি ভোগান্তি বাড়বে রোগীদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সরকারি হাসপাতালের নির্মাণকাজে যেখানে প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির নিয়মিত উপস্থিত থেকে কাজের মান যাচাই করার কথা, সেখানে তাদের অনুপস্থিতিতে শুধু শ্রমিক-মিস্ত্রিদের দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তাদের ভাষ্য, ‘কাজ হচ্ছে, কিন্তু কাজের মান দেখার কেউ নেই,এ যেন হরিলুটের মহোৎসব।’ তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নির্মাণকাজে যদি নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়, নির্ধারিত অনুপাতে নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে কি না তা যাচাই করা না হয় এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এর দায় কে নেবে?

তারা নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালু, খোয়া, সিমেন্টসহ সব উপকরণের গুণগত মান পরীক্ষা, মিশ্রণের অনুপাত যাচাই, প্রকৌশলীর নিয়মিত তদারকি এবং কাজের পরিমাপ ও বিল প্রদানের আগে কঠোরভাবে মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে অভিযোগগুলো তদন্তে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, গণপূর্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের অনুরোধ জানিয়েছেন।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

ভূরুঙ্গামারীতে জমি নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত, দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ১৭

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে শহিদুল ইসলাম (৩০) নামে ...

বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

যুক্তরাষ্ট্র ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সব ধর্মের মানুষের সমান মর্যাদায় বিশ্বাস করে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ...

কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯০ শিক্ষার্থী

কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। এবারের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ...