নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৭:৪৮ পিএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ২০১৫ সালে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে আগামী ২৭ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ওইদিন ঠিক করা হয়।

এর আগে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদকে অপহরণ, গুম, নির্যাতন ও পাচারের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়। রোববার (৯ আগস্ট) ট্রাইব্যুনালের রেজিস্টার কার্যালয় বরাবর প্রসিকিউশন থেকে এ আবেদন করা হয়।

তারও আগে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এ ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং জিয়াউল আহসানসহ র‍্যাব ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে উঠে এসেছে যে তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশেই সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করা হয়েছিল। মূলত শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করা হয়েছিল।

তদন্ত অনুযায়ী, এতে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সরাসরি নির্দেশ ও পরিকল্পনা ছিল। অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে এই গুম ও নির্যাতনের প্রক্রিয়ায় জিয়াউল আহসান ও পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। নির্যাতনের কেন্দ্র হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের পর র‌্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

গুমের শিকার হওয়ার পর তাকে কীভাবে ভারতে পাচার বা পাঠানো হয়েছিল, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০১৫ সালে সালাহউদ্দিন আহমদকে র‍্যাবের টিএফআই সেলে বন্দি রেখে নির্যাতনের ঘটনায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও জিয়াউল আহসানসহ ওই সময়ের র‍্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। দ্রুতই তদন্ত শেষে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও জানান তিনি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, গুমের পর ভারতে পাচারে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদের কাছ থেকে মৌখিক জবানবন্দি নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা, দ্রুতই আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি নেওয়া হবে।

তিনি জানান, এছাড়া তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়া গুমের শিকার ছাত্রদল নেতা আইনজীবী সোহেলের জবানবন্দিতে ওঠে এসেছে সালাহউদ্দিন আহমদকে টিএফআই সেলে গুম করে রাখার চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এর আগে, ২০২৫ সালের ৩ জুন শেখ হাসিনাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে নিজের গুম হওয়ার অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। অন্য ছয়জন হলেন- আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, জিয়াউল আহসান ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম।

উল্লেখ, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয়। একই বছরের ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে তার সন্ধান পায় স্থানীয় পুলিশ। তাকে আটক করার পর বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে দেশটির ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা করা হয়। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ...

ডিএমপির ২ এডিসি ও ৫ এসির বদলি

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের(ডিএমপি) দুই জন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার(এডিসি) এবং পাঁচজন সহকারী পুলিশ কমিশনারকে (এসি) বদলি ...