দিদারুল আলম
প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬ ১২:৩৫ পিএম

দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। প্রায় ৩০ কিলোমিটার অংশে একাধিক স্থানে এই দৃশ্য দেখা যায়। রাতের আঁধারে পৌরসভার কর্মীরা বর্জ্য এনে সড়কের পাশে ফেলছেন। দিনের বেলায় সেই বর্জ্য পচে তৈরি হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। ফলে পথচারী ও যাত্রীরা নাক চেপে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। সড়কের বিশাল অংশ ময়লা-আবর্জনায় দখল হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে বহুগুণে।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের প্রথম শ্রেণির দুটি পৌরসভায় প্রতিষ্ঠার ২৬ বছর পরও কোনো ময়লা ডাম্পিং স্টেশন গড়ে ওঠেনি। দুই পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে। ময়লায় আগুন দেওয়ার ধোঁয়ায় ঘটছে দুর্ঘটনা, দূষিত হচ্ছে বায়ু।

বারইয়ারহাট পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হয় ২০০০ সালের ২৭ এপ্রিল। ২ দশমিক ১২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভার জনসংখ্যা ১১ হাজার ৬০২। এখানে ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ১৫টি ছোট-বড় কলকারখানাসহ ব্যাংক, বীমা, হাসপাতাল ও হোটেল-রেস্তোরাঁ রয়েছে। কিন্তু ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় সব ময়লা মহাসড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরসরাই পৌরসভার সব ময়লা আগে পাহাড়ের পাদদেশে নিয়ে যাওয়া হত। কিন্তু গত এক বছর ধরে পৌরসদরে মারুফ প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে মহাসড়ক ঘেঁষে রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় এসব বর্জ্যে আগুন দেওয়া হয়, এতে মহাসড়ক ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ধোঁয়ার কারণে চালকেরা দেখতে না পাওয়ায় বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে।

এছাড়াও, মিরসরাই থেকে সীতাকুন্ড পর্যন্ত আরও কয়েকটি স্থানে সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বাদামতলী, বড়তাকিয়া, সোনাপাহাড়, সীতাকুণ্ডের পস্থিছিলা, বড়দারোগাহাটসহ বারইয়ারহাট পৌরসভার দক্ষিণ পাশে ৪টি স্পট।

স্থানীয় চা দোকানি নুরুল করিম বলেন, এখন পৌরসভার মা-বাপ নাই মনে হয়। পৌরসভার সব ময়লা আবর্জনা সড়কের ওপর রেখে যায়। আমি গন্ধের কারণে দোকান করতে পারছিনা। দু একদিন পর দোকান বন্ধ করে চলে যাবো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বারইয়ারহাটের আল নূর হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, “সড়কের পাশে হাসপাতালের সামনে ময়লা এনে ফেলা হচ্ছে। ময়লার দুর্গন্ধে রোগীরা এখানে না এসে অন্য হাসপাতালে চলে যান।”

বারইয়ারহাট পৌরসভার কর্মকর্তা আব্দুল হক বলেন, “ডাম্পিং স্টেশনের জন্য ১ একর ৬৫ শতক জমি কেনা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে পরিকল্পিত ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে। আপাতত সড়কের পাশে ময়লা ফেলে আগুন দিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে।”

মিরসরাই পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০০ সালের ৮ নভেম্বর। ১০ দশমিক ৫০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভার ২০ হাজার ৭১ জন বাসিন্দা ও ৩৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০২৩ সালে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়া পৌরসভাটিরও নেই কোনো ডাম্পিং স্টেশন। প্রতিদিনের ময়লা ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের উত্তর দিকে বাইপাস এলাকায়।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওই এলাকায় ময়লায় দেওয়া আগুনের ধোঁয়ায় একটি প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় পড়ে কয়েকজন আহত হন।

ট্রাক চালক শাহাদাত হোসেন বলেন, বারইয়ারহাটে মহাসড়কের প্রায় ১২ ফিট জায়গায় ময়লা আবর্জনা রাখা হয়েছে। পথচারী তো হাঁটা দূরের কথা, গাড়ির যাওয়াও কঠিন হয়ে গেছে এই সড়ক দিয়ে।

মিরসরাই পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা কাইয়ুম উদ্দিন বলেন, “ময়লার কিছু অংশ সড়কের পাশে আগুন দিয়ে ধ্বংস করা হয়, সিংহভাগ পাহাড়ের পাদদেশে গর্ত করে পুঁতে ফেলা হয়।” স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দুই পৌরসভার জন্য একটি ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, “সড়কের পাশে ময়লা থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধ মানুষের শরীরে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করতে পারে। দ্রুত অপসারণ করা জরুরি।”

বারইয়ারহাট পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, “বর্জ্যগুলো অন্যত্র অপসারণের জন্য বলা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বেতনও বাড়ানো হয়েছে। তারপরও কেন সড়কে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।”

টিআর

শেয়ার

পাঠকের মতামত

পারিবারিক বিরোধের জেরে তায়েবাকে হত্যার অভিযোগ, ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে আলোচিত শিশু তায়েবা হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পর মামলার তদন্তে চাঞ্চল্যকর ...