
বাংলাদেশে একটি দক্ষ, স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক এবং সমৃদ্ধ পুঁজিবাজার গঠনে প্রয়োজনীয় পেশাগত উৎকর্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম)। বিআইসিএম বাংলাদেশ সরকার এর সম্পূর্ণ অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। প্রচেষ্টা, শিক্ষা এবং উৎকর্ষ এ ব্রত নিয়েই ২০০৮ সালের ২৪ জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রফেসর ড. মাহমুদা আক্তার। পুঁজিবাজারের মান উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং বিনিয়োগকারীদের সচেতন করতে কাজ করছে বিআইসিএম। প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রফেসর ড. মাহমুদা আক্তার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে এম রাশেদ শাহরিয়ার ।
বাণিজ্য প্রতিদিন: আপনার পেশাগত জীবন সম্পর্কে জানতে চাই?
ড.মাহমুদা আক্তার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স করে এখানেই শিক্ষকতার মাধ্যমে আমার কর্মজীবন শুরু করি। জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্ট সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংএ মাস্টার্স এবং ডক্টরেট সম্পন্ন করেছি। সেখান থেকে ফিরে আবারও শিক্ষকতা শুরু করি। বর্তমানে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) নির্বাহী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছি।
বাণিজ্য প্রতিদিন: বিদেশে উচ্চশিক্ষার গ্রহণকারীদের মাঝে উন্নতবিশ্বে স্থায়ী হওয়ার প্রবণতা বেশি। আপনার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম কেন?
ড.মাহমুদা আক্তার: আমরা একটি রেডিমেড বাংলাদেশ পেয়েছি। আমাদের ভাইয়েরা যুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছেন। আমাদের পরিবারে আমার চার ভাই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী দেশটি গড়ার দায়িত্ব আমাদের প্রজন্মের। শিক্ষা জীবনের সকল ধাপ সরকারি বৃত্তির অর্থে সম্পন্ন করেছি। এছাড়াও বিদেশে যে সকল শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছি তা একজন বাংলাদেশী হিসেবে পেয়েছি। বিশ্ব বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করার লক্ষ্যেই এই বৃত্তিসমূহ প্রদান করে থাকে। প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য গড়ে তোলা হয়। বিদেশে আমাদের দেশের তুলনায় অনেক সুযোগ-সুবিধা বেশি। আমারও সুযোগ ছিল শিক্ষা পরবর্তী চাকরি নিয়ে উন্নত বিশ্বে অবস্থান করার। কিন্তু আমি তো দেশকে কিছুই দেইনি,সবটা সময় কেবল নিয়ে গেলাম। সে অনুভূতি থেকেই দেশে ফিরে আসা।
বাণিজ্য প্রতিদিন: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতা এবং বিআইসিএম এর দায়িত্ব কোনটি বেশি উপভোগ করছেন?
ড.মাহমুদা আক্তার: শিক্ষার্থীদের সাথে কাটানো সময় সবসময় প্রাণবন্ত। তাই শিক্ষকতা সময়টা উপভোগ্য ছিল। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের দায়িত্ব পাওয়ায় তা গ্রহণ করেছি। বাংলাদেশ উন্নয়নের যে ধারায় রয়েছে এখানে পুঁজিবাজারে গুরুত্ব অপরিসীম। ২০৪১ সালের উন্নত বিশ্বে পরিণত হওয়া, ২০৩০ সালের এসডিজি বাস্তবায়নে বড় বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। আমাদের দেশে ছোট-বড় সকল অর্থায়নে ব্যাংকের উপর নির্ভরশীলতা দেখা যায়। কিন্তু বড় বিনিয়োগে মানি-মার্কেটের উপর নির্ভরতা লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবন্ধক। বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারের প্রতি আকৃষ্ট না হলে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাবে না। বেসরকারি খাতের উন্নয়নসমূহ ত্বরান্বিত হবে না। তাই পুঁজিবাজার সবার মাঝে জনপ্রিয় করতে প্রয়োজন পুঁজিবাজারের ধারণা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। বিআইসিএম ২০০৮ সালের প্রতিষ্ঠাত হয়। যা ২০১০ সাল থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে। প্রারম্ভিক দিকে ফ্রি ইনভেস্টর এডুকেশন প্রোগ্রামসহ বেশ কিছু সার্টিফিকেট কোর্স চালু হয়। ২০১৫ সালে পোস্ট গ্রেজুয়েট ডিপ্লোমা চালু হয়। আমি এখানে যুক্ত হওয়ার পর বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম এবং সরকারের পরামর্শে স্পেশালিস্ট মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু করি। যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। মাস্টার্স অফ অ্যাপ্লাইড ফাইন্যান্স এন্ড ক্যাপিটাল মার্কেট এই কোর্সটি ২০২১ সালের জুলাই মাস থেকে চালু হয়েছে।
বাণিজ্য প্রতিদিন: বিনিয়োগকারীদের জন্য সংক্ষিপ্ত কি কোর্স চালু আছে?
ড.মাহমুদা আক্তার: বিনিয়োকারীদের জন্য ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম চালু রয়েছে যা ৮ মাস মেয়াদী। এছাড়াও অনেকগুলো সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম রয়েছে। পুঁজিবাজারের সম্প্রতি যুক্ত হওয়ার নতুন উদ্ভাবন এক্সচেঞ্জ ক্রেডিট ফান্ড, কমিউনিটি এক্সচেঞ্জ, গভর্মেন্ট সিকিউরিটি, সুকুক বন্ড, গ্রিন বন্ডের উপর সার্টিফিকেট কোর্স চালু রয়েছে। ফ্রি ইনভেস্টমেন্ট এডুকেশন প্রোগ্রামসহ বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণও বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
বাণিজ্য প্রতিদিন: সাধারণ মানুষ ব্যাংকসহ অন্যান্য মানি-মার্কেটে অর্থ জমা রাখতে আগ্রহী। তাদের অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কি?
ড.মাহমুদা আক্তার: ব্যাংকসহ অন্যান্য মানি-মার্কেটে জমাকৃত অর্থের উপর মুনাফার পরিমাণ সামান্য। দিন দিন এই মুনাফার পরিমাণ কমছে অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। অর্থাৎ অর্থ তার মূল্য হারাচ্ছে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে অধিক লাভবান হওয়া যায়। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ঠিক জ্ঞান না থাকার ফলে ঝুঁকি তৈরি হয়। এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জানা শোনা থাকলে আত্মবিশ্বাসের সাথে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা সম্ভব। এই জানা শোনা বাড়ানোর কাজটি পরিচালনা করছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম)।
বাণিজ্য প্রতিদিন: দেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আপনাদের কি কার্যক্রম রয়েছে?
ড.মাহমুদা আক্তার: পুঁজিবাজার সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক। পুঁজিবাজারে উদ্ধৃত অর্থ বিনিয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফান্ড বৃদ্ধি করা যেতে পারে। নারী উদ্যোক্তাদেরও ফান্ড বৃদ্ধি করার দরকার হয়। এই ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার সম্পর্কে সম্মুখ জ্ঞান থাকা দরকার। বিআইসিএম পরিচালিত প্রশিক্ষণ থেকে নারী উদ্যোক্তারা পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন সম্পর্কিত জ্ঞান লাভ করতে পারেন। নারী বিনিয়োগকারীদের জন্য বিআইসিএমে আলাদা কোর্সের ব্যবস্থা রয়েছে।
বাণিজ্য প্রতিদিন: উদ্যোক্তারা আর্থিক সহায়তা গ্রহণে পুঁজিবাজার থেকে কীভাবে সহজে অর্থ উত্তোলন করতে পারে?
ড.মাহমুদা আক্তার: অর্থায়নের মেয়াদকাল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বল্প মেয়াদী অর্থায়নের জন্য মানি-মার্কেট যথার্থ। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা গ্রহণে পুঁজিবাজারে আসতে হয়। এক্ষেত্রে ইকুইটি, বন্ড, বাজারে তালিকাভুক্তি এবং পুঁজি সংগ্রহ করার যে প্রক্রিয়া অর্থাৎ আইপিওতে আসার জন্য সম্মুখ জ্ঞান থাকা আবশ্যক। যা বিআইসিএম তার পরিচালিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করে থাকে। সম্প্রতি ভ্যঞ্চার ক্যাপিটালের উপর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বিআইসিএম অনলাইনেও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পুঁজিবাজার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা স্পষ্ট করতে কর্মশালা পরিচালিত হচ্ছে।
বাণিজ্য প্রতিদিন: পুঁজিবাজারের প্রসঙ্গ আসলেই ওয়ারেন্ট বাফারের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে নিজস্ব কোন উদ্ধৃতি পাচ্ছি না কেন?
ড.মাহমুদা আক্তার: আমাদেরও গবেষণা কার্যক্রম চলছে। গবেষণার জন্য আমাদের আলাদা তহবিল রয়েছে। আগামীতে পুঁজিবাজার সম্পৃক্ত সকল গবেষণা বিআইসিএম পরিচালনা করবে। বর্তমানে কিছু গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বাণিজ্য প্রতিদিন: বিআইসিএম’এ আপনার পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে বলে মনে করেন?
ড.মাহমুদা আক্তার: আমি ২০২০ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। দায়িত্ব গ্রহণের শুরুর দিকেই পৃথিবী জুড়ে করোনা মহামারী মারাত্মকভাবে বিরাজ করেছে। আমাদের দেশেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। যা আমাদের কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। করোনা মোকাবেলায় ভ্যাকসিনে অর্থায়ন করেছে সরকারক । এই দিকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্যান্য খাতের বরাদ্দ কমাতে হয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধের কারণেও আমরা কঠিন সময় অতিক্রম করছি। স্বাভাবিক সময় থাকলে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে আরও আর্থিক সহায়তা পেতাম। যা দিয়ে আমার পরিকল্পনাগুলো ভালোভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হতো। তার পরও আমরা একটি গবেষণা ভিত্তিক একাডেমিক জার্নাল প্রকাশ করছি। এছাড়াও নিয়মিত ফিনান্সিয়াল মার্কেট রিভিউ প্রকাশিত হচ্ছে। বিআইসিএম’এর গবেষণা ফান্ড হতে ”ইনভেস্টমেন্ট টুল কিডস” নামে একটি বইপ্রকাশ করা হয়েছে।
বাণিজ্য প্রতিদিন: আপনাকে ধন্যবাদ।
ড.মাহমুদা আক্তার: আপনাকে এবং আপনার মাধ্যমে পাঠকে ধন্যবাদ।
অনুলেখক: সাইমউল্লাহ সবুজ
- ১চাঁদপুরে ১৫০ ঘন্টা বিদ্যুৎবিহীন অর্ধশতাধিক পরিবার
- ২সিরাজগঞ্জে অনলাইন জুয়া চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
- ৩চাঁদপুরে নারীর পেট থেকে ৪ কেজি ৮ শ গ্রামের টিউমার অপসারণ
- ৪ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের সময় ৮ বাংলাদেশি নারী আটক
- ৫জামায়াত-এনসিপির মব রাজনীতিই আ’লীগের ফেরার পথ তৈরি করছে
- ৬কুষ্টিয়ায় গাঁজাসহ দুইজন আটক
- ৭বাকৃবিতে শুরু হচ্ছে বিএসভিইআরের আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন
- ৮সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ, অপ-সাংবাদিকতা পরিহার করতে হবে
- ৯ব্লু ইকোনমি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে
- ১০গাজীপুরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল সমাবেশ
- ১চাঁদপুরে একযোগে বদলি ৩১ ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা
- ২নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিসিক শিল্পনগরী’র গাছ বিক্রির অভিযোগ
- ৩আগামী রবিবার মহেশখালী আসছেন প্রধানমন্ত্রী
- ৪চাঁদপুরে ফুটবল মাঠ উদ্বোধন করলেন শেখ ফরিদ আহম্মেদ
- ৫মানুষ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারবে এমন বিচার বিভাগ চাই: আইনমন্ত্রী
- ৬জবির লোক প্রশাসন বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন
- ৭সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ, অপ-সাংবাদিকতা পরিহার করতে হবে
- ৮ভরিতে ৩২৬৬ টাকা কমলো সোনার দাম
- ৯১৫ আগস্ট ৭৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর হাতে অবসর সুবিধার টাকা
- ১০লিথি গ্রুপের শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনার দাবিতে গাজীপুরে অবস্থান কর্মসূচি





পাঠকের মতামত